গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় ৫৫ বছর বয়সী হেলাল উদ্দিন, যিনি কৃষক দলের পূর্বের সংগঠন সচিব ছিলেন, গতকাল সকাল ৮:৩০ টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে এক হামলায় আহত হন এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে স্থানান্তরিত হওয়ার পর ১০ টায় মৃত্যুবরণ করেন। হেলাল উদ্দিনের মৃত্যু স্থানীয় সমাজে শক সৃষ্টি করেছে এবং ঘটনাস্থলে পুলিশ তৎক্ষণাৎ তদন্ত শুরু করেছে।
সকাল প্রায় ৮:৩০ টায় হেলাল উদ্দিন গৃহযাত্রা করছিলেন। অপরিচিত ৪-৫ জন ব্যক্তি, যাদের হাতে ছুরি বা অনুরূপ ধারালো অস্ত্র ছিল, কোটবাজালিয়া এলাকায় হঠাৎ উপস্থিত হয়ে তাকে আক্রমণ করে। আক্রমণের পর অপরাধীরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে।
আকস্মিক আঘাতের পর স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হেলাল উদ্দিনকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করে এবং তাকে কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক সেবা দেওয়ার পর, রোগীর অবস্থা গুরুতর বলে ডাক্তারের পরামর্শে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তীব্র সেবার জন্য পাঠানো হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে হেলাল উদ্দিনের অবস্থা স্থিতিশীল না থাকায় তীব্র চিকিৎসা চালানো হয়, তবে সকাল ১০ টার দিকে ডাক্তারের ঘোষণায় তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। মৃত্যুর কারণের প্রাথমিক বিশ্লেষণ আঘাতজনিত রক্তক্ষরণ হিসেবে করা হয়েছে।
কাপাসিয়া থানা অফিসার ইন চার্জ শাহিনুর আলমের মতে, প্রাথমিক তদন্তে হেলাল উদ্দিনের সঙ্গে তার চাচাতো ভাইয়ের মধ্যে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগ নিয়ে তর্ক হয়েছিল, যা সম্ভবত এই হামলার পেছনে প্রেরণা হতে পারে। তবে তদন্ত চলমান থাকায় অন্য কোনো কারণও বিবেচনা করা হচ্ছে।
হেলাল উদ্দিনের পরিবার ইতিমধ্যে গৃহহত্যা মামলায় ফাইল করার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং পুলিশ ঘটনাটিকে হত্যা হিসেবে রেজিস্টার করেছে। সংশ্লিষ্ট অপরাধী বা সন্দেহভাজনদের সনাক্ত করার জন্য থানা দল অতিরিক্ত অনুসন্ধান চালাচ্ছে।
মৃতদেহের উপর পূর্ণাঙ্গ ফরেনসিক পরীক্ষা করার জন্য গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হবে। অটোপ্সি রিপোর্টের ভিত্তিতে হত্যার সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি ও অপরাধীর পরিচয় নিশ্চিত করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
কৃষক দলের গাজীপুর জেলা ইউনিটের সদস্য সচিব ফকির ইস্কান্দার আলম জানু এই হত্যাকে “নৃশংস” বলে অভিহিত করে দলের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয় করে শিকারের পরিবারকে সমর্থন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
হেলাল উদ্দিনের স্ত্রী রফিজা খাতুন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি জানান যে শিকারের জন্য হত্যা মামলা দায়ের করা হবে। পরিবার বর্তমানে শোকাবস্থায় রয়েছে এবং ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার দাবি জানাচ্ছে।
পুলিশের মতে, তদন্তের পরবর্তী ধাপে সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার ও সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে এবং মামলাটি আদালতে উপস্থাপন করা হবে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এই ধরনের সহিংস অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে তদবির বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।



