26 C
Dhaka
Sunday, February 1, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩২ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে ৮ বিভাগে পদায়ন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩২ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে ৮ বিভাগে পদায়ন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশে ৩২ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে ৮ বিভাগে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও মোবাইল কোর্টের অধিকারসহ দুই দিন পর্যন্ত পদায়ন করা হয়েছে। এই পদায়ন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রেষণ‑২ শাখার উপসচিব মোহাম্মদ নুর এ আলমের স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই পদক্ষেপটি নেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভোটগ্রহণের পরের দুই দিন পর্যন্ত বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের নির্দিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্যা কোড অফ ক্রিমিনাল প্রসিডিউর ১৮৯৮ এর সেকশন ১০(৫) অনুযায়ী এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ করা হবে। একইসাথে মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ এর ধারা ৫ অনুসারে তাদেরকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। এই আইনি ভিত্তি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

পদায়নের তালিকায় ঢাকা বিভাগে সাতজন, চট্রগ্রাম বিভাগে পাঁচজন, খুলনা বিভাগে চারজন, রাজশাহী বিভাগে চারজন, বরিশাল বিভাগে তিনজন, সিলেট বিভাগে দুইজন, রংপুর বিভাগে তিনজন এবং মংমনসিংহ বিভাগে চারজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অন্তর্ভুক্ত। মোট ৩২ জন কর্মকর্তাকে বিভিন্ন অঞ্চলে সমানভাবে বিতরণ করা হয়েছে যাতে প্রতিটি অঞ্চলে পর্যাপ্ত মানবসম্পদ থাকে। এই বণ্টন নির্বাচনের সময় স্থানীয় চাহিদা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনা করে নির্ধারিত হয়েছে।

প্রত্যেক বিভাগের কমিশনারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, ক্ষমতাপ্রাপ্ত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটদেরকে তাদের আওতাভুক্ত এলাকার প্রয়োজন অনুসারে পদায়ন করবেন। কমিশনাররা স্থানীয় পরিস্থিতি, ভোটার সংখ্যা এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনা করে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন। এই প্রক্রিয়া নিশ্চিত করে যে, নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তারা যথাযথভাবে কাজ করতে পারবেন।

পদায়নের পর, নতুন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটদেরকে সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা রিটেনিং অফিসারের নিকট যোগদান করতে হবে। তারা তাদের দায়িত্বের পরিধি, কাজের পরিকল্পনা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য উপস্থাপন করবেন। এই রিপোর্টিং সিস্টেমের মাধ্যমে উচ্চতর প্রশাসনিক স্তরে তত্ত্বাবধান সহজতর হয়।

এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটদের মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ক্ষেত্রে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নিয়মিত অবহিত রাখতে হবে। কোর্টের কার্যক্রম, মামলার সংখ্যা এবং সিদ্ধান্তের সংক্ষিপ্তসার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠাতে হবে। এই তথ্যের আদানপ্রদান নিশ্চিত করে যে, কোর্টের কার্যক্রম স্বচ্ছ ও আইনি মানদণ্ডে সঙ্গতিপূর্ণ।

প্রতিদিনের রিপোর্ট নির্ধারিত ফরমে প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং রিটেনিং অফিসারকে পাঠাতে হবে। রিপোর্টে কোর্টের কার্যক্রমের বিশদ, গ্রাহ্য আদেশ এবং কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা উল্লেখ থাকবে। এই নিয়মিত আপডেট প্রশাসনিক তদারকি এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে।

এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় আচরণবিধি কঠোরভাবে পালন নিশ্চিত করা। এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও মোবাইল কোর্টের সমন্বিত কাজ ভোটারদের নিরাপত্তা, আইনগত বিরোধের দ্রুত সমাধান এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বাড়াবে। ফলে ভোটগ্রহণের পরের দুই দিন পর্যন্ত কোনো অনিয়ম বা অবৈধ কার্যকলাপ দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

প্রত্যাশা করা হচ্ছে যে, এই ব্যবস্থা নির্বাচনী প্রশাসনের কার্যকারিতা বাড়াবে এবং ভোটারদের মধ্যে বিশ্বাস জোরদার করবে। নির্বাচনের ফলাফল নির্ভরযোগ্য ও নিরপেক্ষভাবে নির্ধারিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে একই ধরনের পদক্ষেপগুলোকে নির্বাচনী প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।

সামগ্রিকভাবে, ৩২ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের এই অস্থায়ী পদায়ন নির্বাচন সময়কালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য একটি কৌশলগত ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা তাদের দায়িত্ব পালন করে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন। এই প্রক্রিয়ার সফলতা পর্যবেক্ষণ করে ভবিষ্যৎ নির্বাচনী পরিকল্পনায় প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments