বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) গুলশানের বিএনপি অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে জিজ্ঞাসা করেন, কেন জামায়াত-এ-ইসলামির আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স (X) অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার পরই না, ১২ ঘণ্টা পরে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দাখিল করা হয়।
মাহদী আমিন উল্লেখ করেন, হ্যাক হওয়া অ্যাকাউন্টে যদি নারীদের নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট থাকে এবং তা সত্যি হয়, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। হ্যাকের পর সঙ্গে সঙ্গে জনগণকে অবহিত না করে কেন দেরি করে জিডি দাখিল করা হয়েছে, এ বিষয়টি তিনি প্রশ্নের মুখে তুলে ধরেন।
তিনি আরও বলেন, জামায়াত-এ-ইসলামির পূর্বে এক নেতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। যদি ওই পোস্ট সত্যি হয়, তবে তা নারী বিদ্বেষের উদাহরণ এবং তিনি তা নিন্দা করেন। অতীতের একই রকম মন্তব্যের সঙ্গে তুলনা করে তিনি দলটির নারীবিদ্বেষী স্বভাবের ওপর আলোকপাত করেন।
মাহদী আমিন জোর দিয়ে বলেন, জামায়াত-এ-ইসলামি কখনোই নারীর প্রার্থীতা দেয়নি, তবু নির্বাচনী প্রচারণায় নারীকে ব্যবহার করছে। তিনি দলটির অনলাইন ও অফলাইন উভয় ক্ষেত্রেই বিএনপি নারী প্রচারকদের ওপর আক্রমণ চালানোর অভিযোগ করেন এবং এ ধরনের আচরণে বিএনপি সহ্য করবে না বলে সতর্ক করেন।
সপ্তাহান্তে, শনিবার বিকেলে ডা. শফিকুর রহমানের এক্স হ্যান্ডেল থেকে নারীদের অবমাননাকর পোস্ট ভাইরাল হয়। পোস্টটি দ্রুতই বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যদিও পরে তা মুছে ফেলা হয়।
দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ও ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলাম জানান, হ্যাকিং ঘটেছে বিকেল ৪টার দিকে এবং কয়েক মিনিটের মধ্যেই একটি অপ্রত্যাশিত ও আপত্তিকর পোস্ট প্রকাশিত হয়। তিনি বলেন, হ্যাকের পর সাইবার টিম দ্রুত কাজ করে এবং বিকেল ৫টার আগে অ্যাকাউন্টটি পুনরায় নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম হয়।
সিরাজুল ইসলাম আরও উল্লেখ করেন, বিতর্কিত পোস্টটি মুছে ফেলা সত্ত্বেও বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে তা নিয়ে অপপ্রচার শুরু হয়। এই ঘটনার পর হাতিরঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি দাখিল করা হয়, যা হ্যাকিং ও পোস্টের বিষয়টি নথিভুক্ত করে।
মাহদী আমিনের মন্তব্যের পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দেন, এই ধরনের সাইবার আক্রমণ ও দেরিতে গৃহীত আইনি পদক্ষেপ ভবিষ্যতে উভয় দলের মধ্যে উত্তেজনা বাড়াতে পারে। উভয় পক্ষের মধ্যে তথ্যের স্বচ্ছতা ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া না থাকলে ভোটারদের আস্থা ক্ষয় হতে পারে।
বিএনপি ও জামায়াত-এ-ইসলামির মধ্যে চলমান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিবেচনা করলে, এই ঘটনা নির্বাচনী সময়ে সাইবার নিরাপত্তা ও তথ্য ব্যবস্থাপনার গুরুত্বকে পুনরায় তুলে ধরবে। উভয় দলই এখন থেকে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং কোনো অনধিকার প্রবেশের ক্ষেত্রে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিতে মনোযোগ দিতে পারে।
এই ঘটনার পরবর্তী ধাপ হিসেবে, জামায়াত-এ-ইসলামি তার সাইবার টিমকে শক্তিশালী করে হ্যাকিং রোধে পদক্ষেপ নিতে পারে, আর বিএনপি হ্যাকের পর দেরি না করে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নিতে পারে। উভয় দলের জন্য এই ঘটনা একটি সতর্কবার্তা, যা ভবিষ্যতে তথ্যের সঠিক ব্যবহার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরবে।



