‘বর্ডার ২’ সিনেমা এখন থিয়েটারে, পরিচালক অনুরাগ সিংহের সঙ্গে বলিউড হাঙ্গামা-তে এক্সক্লুসিভ আলাপের মাধ্যমে জানা গেল, ছবির যুদ্ধ দৃশ্যগুলো কোনো গ্রীন স্ক্রিন ব্যবহার না করে বাস্তব স্থানে শুট করা হয়েছে। চলচ্চিত্রের প্রযোজক ভুষণ কুমার এবং পরিচালক একসাথে শুটিংয়ের লজিস্টিক, প্রযুক্তিগত ও সৃজনশীল চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেছেন।
শুটিং কাজটি প্রধানত দেহরাদুন ও ঝাঁসি শহরে সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে তীব্র শীতলতা থেকে গরমের তাপ পর্যন্ত বিভিন্ন আবহাওয়া পরিস্থিতি দেখা গেছে। প্রতিটি লোকেশনেই বড় দলকে সমন্বয় করতে হয়েছে, ফলে সাধারণ তিন-চার জনের ক্রু বদলে ৪০০‑৫০০ জনের ইউনিটে রূপান্তরিত হয়েছে।
অনুরাগ সিংহ উল্লেখ করেন, “অ্যাকশন শুটিংয়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল স্কেলের বৃদ্ধি। আপনার ছোট দল এখন বিশাল ইউনিটে পরিণত হয়, এবং সবকিছু বাস্তব স্থানে করতে হয়, গ্রীন স্ক্রিনের সুবিধা ছাড়া।” দেহরাদুনের পাহাড়ি অঞ্চল ও ঝাঁসির ঐতিহাসিক স্থানে শুটিংয়ের সময় শীতের তীব্র শীতলতা এবং গরমের অশান্তি দুটোই মোকাবেলা করতে হয়েছে।
যুদ্ধ দৃশ্যের জন্য প্রয়োজনীয় সমন্বয় সাধারণ অ্যাকশন চোরিওগ্রাফির চেয়ে অনেক বেশি জটিল। বিস্ফোরক, স্টান্ট, ভিড়ের গতি এবং অভিনেতাদের অবস্থান একসাথে সমন্বয় করতে হয়, যেখানে কোনো ত্রুটি স্বল্প সময়ের মধ্যে বড় সমস্যায় রূপ নিতে পারে।
অনুরাগ সিংহ বলেন, “প্রতিটি শট যেন ঘড়ির মতো সঠিকভাবে কাজ করে, না হলে পুরো শুটের পরিকল্পনা ব্যাহত হয়। বিস্ফোরক স্থাপন, মানুষের প্রতিক্রিয়া, অভিনেতার দূরত্ব, আগুনের পরিমাণ—সবই একসাথে ঠিক হতে হবে।” যুদ্ধের বাস্তবতা বজায় রাখতে ৫০০ের বেশি কর্মী একসাথে কাজ করে, গুলি চালনা, বিস্ফোরণ এবং ভিড়ের চলাচল একসাথে পরিচালনা করা হয়।
শুটিং সময়কাল সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিস্তৃত, ফলে ক্রু ও কাস্টকে তীব্র শারীরিক ক্লান্তি সহ্য করতে হয়। শীতের দিনে তাপমাত্রা শূন্যের নিচে নেমে যায়, আর গরমের দিনে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে পৌঁছায়, যা শুটিংয়ের গতি ও নিরাপত্তা উভয়ই প্রভাবিত করে।
যুদ্ধের দৃশ্যগুলোতে বিস্ফোরণ, গুলি চালনা এবং বড় ভিড়ের সমন্বয় একসাথে ঘটতে হয়, ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কঠোরতা বাড়ে। প্রতিটি শটের আগে বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ, স্টান্ট কো-অর্ডিনেটর এবং সিকিউরিটি টিম একত্রে পরিকল্পনা করে, যাতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে।
অন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল এমন উপাদানগুলো পরিচালনা করা, যেগুলো বাস্তবে পুনর্নির্মাণ করা কঠিন। উদাহরণস্বরূপ, বিশাল অগ্নিকাণ্ড বা বৃহৎ ধ্বংসাবশেষের দৃশ্যগুলোকে বাস্তবিকভাবে তৈরি করতে বিশেষ সরঞ্জাম ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োজন হয়। এইসব উপাদানকে বাস্তব স্থানে পুনরায় তৈরি করা গ্রীন স্ক্রিনের তুলনায় বেশি সময় ও সম্পদ শোষণ করে।
ফিল্মের স্কেল এবং বাস্তবতার কারণে দর্শক ও সমালোচকরা শুটিংয়ের বিশাল পরিশ্রমের প্রশংসা করছেন। গ্রীন স্ক্রিনের বদলে প্রকৃত স্থানে শুট করা ছবির ভিজ্যুয়াল ইম্প্যাক্টকে আরও তীব্র করেছে, যা ‘বর্ডার ২’কে বর্তমান বাংলা-হিন্দি সিনেমার অন্যতম বাস্তবিক যুদ্ধ চলচ্চিত্র হিসেবে তুলে ধরেছে।
অনুরাগ সিংহের মতে, এই ধরনের বৃহৎ প্রকল্পে ভবিষ্যতে আরও প্রযুক্তি ও মানবসম্পদকে সমন্বয় করে নতুন মাত্রার বাস্তবতা অর্জন করা সম্ভব। ‘বর্ডার ২’র শুটিং অভিজ্ঞতা ভবিষ্যৎ যুদ্ধ চলচ্চিত্রের জন্য একটি মডেল হিসেবে কাজ করবে, যেখানে গ্রীন স্ক্রিনের ওপর নির্ভর না করে প্রকৃত পরিবেশে কাজ করার চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা উভয়ই স্পষ্ট হয়েছে।



