দ্য কেরালা স্টোরি ২: গোজ বিয়ন্ডের নির্মাতারা ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ে সিনেমা হলের পর্দায় আসার আগে প্রধান নারী চরিত্রের পোস্টারগুলো জনসাধারণের সামনে তুলে ধরেছেন। পোস্টারগুলোতে উল্কা গুপ্তা, আইশ্বর্যা ও অদিতি ভাটিয়া—তিনজনের মুখের অর্ধেক বুর্কা দিয়ে ঢাকা, অন্য অর্ধেকে দাগ‑দাগ এবং অশ্রু‑সিক্ত অভিব্যক্তি দেখা যায়।
এই দৃশ্যগুলোতে দেখা যায় যে চরিত্রগুলো শারীরিক ও মানসিক কষ্টের মুখোমুখি, যা ছবির মেজাজকে গম্ভীর ও দুঃখজনক করে তুলেছে। বুর্কা ও দাগের সংমিশ্রণ দর্শকের মনোযোগকে চরিত্রের অভ্যন্তরীণ যন্ত্রণার দিকে টেনে নিয়ে যায়, যদিও গল্পের বিশদ এখনও গোপন রাখা হয়েছে।
সানশাইন পিকচার্সের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম পেজে পোস্টারগুলো শেয়ার করা হয় এবং ক্যাপশনটি কেবল ছবির ভিজ্যুয়াল দিককে তুলে ধরেছে, কোনো প্লটের ইঙ্গিত না দিয়ে। এই কৌশলটি প্রচারাভিযানের প্রথম ধাপ হিসেবে কাজ করছে, যেখানে দর্শকের কৌতূহল বাড়িয়ে তোলা হচ্ছে।
চলচ্চিত্রের দায়িত্বে আছেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক কামাখ্যা নারায়ণ সিংহ, যিনি প্রথম ছবির সাফল্যের পর ধারাবাহিকতা তৈরি করার জন্য এই প্রকল্পে হাত দিয়েছেন। তার দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, সিক্যুয়েলটি পূর্বের গল্পের সীমা ছাড়িয়ে নতুন দিক অন্বেষণ করবে।
দ্য কেরালা স্টোরি ২: গোজ বিয়ন্ড মূলত তিনজন হিন্দু নারীর জীবনের পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। তাদের সম্পর্কের জটিলতা শেষ পর্যন্ত বৃহত্তর একটি ধর্মান্তর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রকাশ পায়, যা সামাজিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্ন উত্থাপন করে।
প্রযোজনা কাজটি ভিপুল অমৃতলাল শাহ পরিচালনা করছেন, আর সহ-প্রযোজক আশিন এ শাহ সানশাইন পিকচার্সের অধীনে কাজটি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। দুইজনের যৌথ প্রচেষ্টায় ছবির গুণগত মান ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা উভয়ই সমৃদ্ধ হয়েছে।
২০২৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম দ্য কেরালা স্টোরি ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল, বিশেষ করে ধর্মীয় সংবেদনশীলতা ও সামাজিক প্রভাবের দিক থেকে। সেই প্রতিক্রিয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সিক্যুয়েলটি আরও সূক্ষ্মভাবে বিষয়বস্তু উপস্থাপন করার লক্ষ্য নিয়েছে।
পোস্টার প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে প্রচারমূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে, তবে গল্পের মূল কাহিনী এখনও গোপন রাখা হয়েছে। এই কৌশলটি দর্শকের কৌতূহলকে বাড়িয়ে তোলার পাশাপাশি মিডিয়ার অতিরিক্ত বিশ্লেষণকে সীমাবদ্ধ রাখে।
সিনেমাটির মুক্তির তারিখ ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ নির্ধারিত, যা দেশের বিভিন্ন শহরে একসাথে প্রদর্শিত হবে। এই তারিখটি পূর্বে ঘোষিত অন্যান্য বড় ছবির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাছাই করা হয়েছে, যাতে দর্শকের আগ্রহ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।
প্রচারের প্রথম ধাপে প্রকাশিত ভিজ্যুয়ালগুলো ইতিমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। দর্শকরা চরিত্রের মুখে দেখা দাগ ও অশ্রুকে বাস্তব জীবনের কষ্টের প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন, যা ছবির থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এই মুহূর্তে নির্মাতারা গল্পের বিশদ প্রকাশ না করে কেবল ভিজ্যুয়াল ইঙ্গিতের মাধ্যমে দর্শকের কল্পনা উদ্দীপিত করছেন। ভবিষ্যতে আরও পোস্টার, ট্রেলার ও টিজার প্রকাশের মাধ্যমে ছবির গতি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
দ্য কেরালা স্টোরি ২: গোজ বিয়ন্ডের এই প্রচারাভিযান দেখায় যে, চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তু যতই সংবেদনশীল হোক, সঠিক ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মুক্তির দিন পর্যন্ত এই ধরণের কৌশল অব্যাহত থাকবে, যা চলচ্চিত্রকে সাফল্যের পথে এগিয়ে নেবে।



