26 C
Dhaka
Sunday, February 1, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধবালুচিস্তানে গুলিবর্ষণ ও বোমা হামলা, ৩৩ জন নিহত, নিরাপত্তা বাহিনী ৯২ আক্রমণকারী...

বালুচিস্তানে গুলিবর্ষণ ও বোমা হামলা, ৩৩ জন নিহত, নিরাপত্তা বাহিনী ৯২ আক্রমণকারী গুলি মেরে

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত বালুচিস্তান প্রদেশে একাধিক গুলিবর্ষণ ও বোমা হামলা সংঘটিত হয়। সামরিক সূত্র অনুযায়ী এই হামলায় মোট ৩৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে ১৮ জন নাগরিক ও ১৫ জন নিরাপত্তা কর্মী অন্তর্ভুক্ত। নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতিক্রিয়ায় অন্তত ৯২ জন আক্রমণকারী গুলি মেরে মারা গেছেন।

হামলাগুলি বালুচিস্তানের ১২টি শহর ও গ্রামে সমন্বিতভাবে চালানো হয়। কুয়েতা শহরসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা স্থাপনায় গ্রেনেড ও গুলির ব্যবহার করা হয়, যার মধ্যে পুলিশ, পারামিলিটারি ইউনিট, কারাগার ও সরকারি ভবন অন্তর্ভুক্ত। কিছু প্রধান প্রশাসনিক ভবন ও রাস্তাকে সাময়িকভাবে সিল করা হয়, মোবাইল নেটওয়ার্ক জ্যাম করা হয় এবং আঞ্চলিক রেল পরিষেবা বন্ধ করা হয়।

সামরিক বাহিনীর মতে, নিরাপত্তা কর্মীরা আক্রমণকারীদের সঙ্গে তীব্র গুলিবর্ষণ চালিয়ে তাদের অধিকাংশকে গুলি মেরে ফেলে। এই প্রতিক্রিয়ায় আক্রমণকারীদের মৃত্যুর সংখ্যা ৯২-এ পৌঁছেছে, যা নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপের ফলাফল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বালুচিস্তান মুক্তি বাহিনী (BLA) এই হামলার দায় স্বীকার করে এবং দাবি করে যে তারা বহু সৈন্যের মৃত্যু ঘটিয়েছে। গ্রুপটি পূর্বে একই ধরনের আক্রমণ চালিয়ে আসছে এবং এই ঘটনার মাধ্যমে তাদের বিদ্রোহী কার্যক্রমের তীব্রতা বাড়িয়ে তুলেছে।

পাকিস্তান সরকার BLA-কে ভারতের সমর্থন পাওয়া বলে অভিযোগ করে, তবে দিল্লি সরকার এই অভিযোগকে বারবার অস্বীকার করেছে। দুই দেশের মধ্যে এই বিষয়ে পারস্পরিক অবিশ্বাসের ইতিহাস রয়েছে, তবে বর্তমান ঘটনার সঙ্গে সরাসরি কোনো প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি।

প্রধানমন্ত্রীর শেহবাজ শারিফ নিরাপত্তা বাহিনীর কাজকে প্রশংসা করে, দেশের সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধকে সম্পূর্ণ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে নিরাপত্তা বাহিনীর ত্বরিত পদক্ষেপে প্রাণহানি রোধ করা সম্ভব হয়েছে।

BLA দলটি ফেডারেল সরকারের ওপর অভিযোগ তুলেছে যে প্রদেশের সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক সম্পদ, বিশেষত গ্যাস ও খনিজ, স্থানীয় জনগণের উপকারে না দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারই লাভবান হচ্ছে। পাশাপাশি, স্থানীয় মানবাধিকার কর্মীরা নিরাপত্তা বাহিনীর দ্বারা জোরপূর্বক নিখোঁজের অভিযোগ তুলে ধরেছেন, যা সরকার অস্বীকার করেছে।

হামলার পরপরই নিরাপত্তা বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন ব্যাপক তদন্ত চালু করেছে। ঘটনাস্থলে ফরেনসিক দল পাঠানো হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট গুলিবর্ষণ ও বোমা ব্যবহারের সরঞ্জাম সংগ্রহ করা হয়েছে। আক্রমণকারীদের পরিচয় ও সংগঠনগত কাঠামো নির্ণয়ের জন্য বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

বালুচিস্তান প্রদেশ পাকিস্তানের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ৪৪% অংশ গঠন করে এবং ইরান ও আফগানিস্তানের সীমান্তে অবস্থিত। প্রদেশের জনসংখ্যা দেশের মোট ২৪ কোটি মানুষের প্রায় ৫%। এই অঞ্চল গ্যাস, তেল ও বিভিন্ন ধাতু সহ সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ, তবে দীর্ঘদিন ধরে জাতিগত বিদ্রোহ ও নিরাপত্তা সমস্যার মুখে রয়েছে।

বালুচিস্তানের নামস্থান বালুচি গোষ্ঠীর ওপর ভিত্তি করে, যা এখানকার প্রধান জাতিগত গোষ্ঠী। দীর্ঘকাল ধরে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত চলমান, এবং এই ধরনের আক্রমণ প্রদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ভবিষ্যতে নিরাপত্তা বাহিনীর তীব্রতা ও আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments