মিনেসোটা রাজ্যের মিনিয়াপোলিসের শহরতলিতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্মকর্তাদের পরিচালিত একটি অভিযান চলাকালে আটক হওয়া একক বাবা-ছেলে, ফেডারেল জেলায় বিচারক ফ্রেড বিয়ারির আদেশে শনিবার মুক্তি পেয়েছেন। অভিযানের সময় চারজন শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়, যার মধ্যে পাঁচ বছর বয়সী লিয়াম কোনেহো রামোস এবং তার পিতা আদ্রিয়ান কোনেহো আরিয়াস অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। আদালতের রায়ে বিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল অভিবাসন নীতি ও তার বাস্তবায়ন পদ্ধতির তীব্র সমালোচনা করেন, যা এই মামলাকে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
অভিযানটি মাসের শুরুর দিকে শুরু হয়, যখন অভিবাসন কর্মকর্তারা মিনিয়াপোলিসের উপশহর থেকে চারজন শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেন। গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষার্থীদের মধ্যে লিয়াম এবং তার বাবা ছিলেন, যারা একই সময়ে আশ্রয় আবেদনকারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। তাদের গ্রেপ্তার পর টেক্সাসের একটি পারিবারিক আটক কেন্দ্রের দিকে পাঠানো হয়, যা তাদের আইনজীবী মার্ক প্রোকাশের মতে পূর্বে জানানো হয়েছিল।
শুক্রবার সন্ধ্যায় ফেডারেল জেলা আদালতে বিয়ারি তিন পৃষ্ঠার রায়ে বাবা ও ছেলেকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আদেশ দেন। রায়ে তিনি ফেডারেল সরকারের অভিবাসন নীতি বাস্তবায়নের পদ্ধতিকে কঠোরভাবে সমালোচনা করেন এবং তা যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে উল্লেখিত ব্রিটিশ শাসনের আচরণের সঙ্গে তুলনা করেন। বিয়ারি উল্লেখ করেন যে, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে সশস্ত্র সেনাবাহিনীর ব্যাপক মোতায়েন এবং অভিবাসন কর্মকর্তাদের দ্বারা জারি করা ‘প্রশাসনিক পরোয়ানা’কে তিনি ‘মুরগি পাহারা দিতে শেয়াল ডেকে আনা’ বলে বর্ণনা করেছেন।
বিয়ারির সমালোচনা তার নিজস্ব পটভূমি থেকে আসে; তিনি ক্লিনটন সরকারের সময়ে নিযুক্ত হয়েছিলেন এবং দীর্ঘদিন ফেডারেল বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রায়ে তিনি উল্লেখ করেন যে, গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি করার জন্য সংবিধানিক বিধি অনুসারে একজন বিচারকের অনুমোদন এবং অপরাধের সম্ভাব্য কারণের ভিত্তিতে অনুমোদন প্রয়োজন। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি অভিবাসন কর্মকর্তাদের জারি করা ‘প্রশাসনিক পরোয়ানা’কে অবৈধ বলে চিহ্নিত করেন।
বিয়ারির রায়ের পর আইনজীবী প্রোকাশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রণালয় রায়ের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। রায়ের প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে মিডিয়ার প্রশ্নের সত্ত্বেও উভয় পক্ষই তৎক্ষণাৎ কোনো উত্তর দেননি, যা মামলার পরবর্তী দিকনির্দেশনা সম্পর্কে অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে দিয়েছে।
অভিযানের সময় লিয়াম এবং তার বাবার পাশাপাশি আরও দুই শিক্ষার্থী, ১০ এবং ১৭ বছর বয়সী, গ্রেপ্তার হয়। কলম্বিয়া হাইটস পাবলিক স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সুপারিনটেন্ডেন্ট জিনা স্টেনভিক জানান, সশস্ত্র ও মুখোশ পরা কর্মকর্তারা এই তিনজনকে আটক করার সময় অস্ত্রধারী এবং সশস্ত্র ছিল। এই তথ্যটি প্রকাশের পর থেকে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগের স্রোত বাড়িয়ে দিয়েছে, কারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
বিয়ারির রায়ের ফলে লিয়াম এবং তার বাবা অবিলম্বে মুক্তি পেয়েছেন এবং তারা এখন টেক্সাসের পারিবারিক আটক কেন্দ্র থেকে মুক্তি পেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অন্য কোনো স্থানে স্থানান্তরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আইনজীবীরা এখনও তাদের আশ্রয় আবেদন প্রক্রিয়ার অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ আইনি পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছেন।
এই মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি, বিশেষ করে ফেডারেল স্তরে পরিচালিত বড় আকারের অভিযান এবং তাদের আইনি বৈধতা নিয়ে জাতীয় স্তরে বিতর্ককে তীব্র করেছে। বিচারকের সমালোচনা এবং রায়ের পরিণতি ভবিষ্যতে অনুরূপ অভিযানের উপর প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষত কীভাবে ‘প্রশাসনিক পরোয়ানা’ জারি করা হবে এবং তা সংবিধানিক মানদণ্ডে কতটা সঙ্গতিপূর্ণ হবে তা নিয়ে।
অভিযানের ফলে গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষার্থীদের পরিবার এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলি এখনো এই ধরনের অভিযানকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানাচ্ছে। একই সঙ্গে, ফেডারেল সরকারও অভিবাসন নীতি ও তার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করতে পারে, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ আইনি বিরোধ এড়ানো যায়।
এই ঘটনার পরবর্তী ধাপ হিসেবে, যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট আদালতগুলো রায়ের বাস্তবায়ন ও তার প্রভাব পর্যবেক্ষণ করবে, এবং আশ্রয় আবেদনকারীদের অধিকার রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দিতে পারে।



