বরিশাল বিভাগের উজিরপুর উপজেলার ইচলাদী টোল প্লাজা সমীপে শনিবার সকাল প্রায় সাড়ে সাতটায় এক বাসের ধাকায় গ্রামীণ ব্যাংকের উজিরপুর সদর শাখার কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলটি ঢাকা‑বরিশাল মহাসড়কের ইচলাদী টোল প্লাজার ঠিক সামনে, যেখানে রাস্তায় গাড়ি পারাপার চলছিল।
মৃত্যুপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছিলেন রিপন বিশ্বাস, বয়স ৪৩, আগৈলঝাড়া উপজেলার রামান্দী গ্রাম থেকে, সুদেব বিশ্বাসের পুত্র। তিনি গ্রামীণ ব্যাংকের উজিরপুর সদর শাখায় কর্মরত ছিলেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সম্মানিত ছিলেন।
গৌরনদী মহাসড়ক থানার ওয়ানচিফ অফিসার মোহাম্মদ শামীম শেখের মতে, রিপন বিশ্বাস রাস্তায় পারাপার করার সময় ঢাকা-বরিশাল পথে চলমান সাকুরা ট্রান্সপোর্টের একটি বাস তার গতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে তাকে আঘাত করে। বাসটি উচ্চ গতিতে চলছিল এবং নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি পাদচরণে গিয়ে ভুক্তভোগীর ওপর চাপা দেয়।
আঘাতের পর বাসের চালক গাড়ি সড়কের পাশে থামিয়ে দ্রুত পায়ে হেঁটে পালিয়ে যায়। গাড়ি ছেড়ে যাওয়ার পর স্থানীয় কিছু বাসিন্দা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতের দেহ উদ্ধার করে। দেহটি তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে না নিয়ে সরাসরি পুলিশ হ্যান্ডলিংয়ে নেওয়া হয়।
পুলিশের তৎপরতা দেখিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বাসটি জব্দ করে এবং চালকের পরিচয় জানার জন্য অনুসন্ধান চালু করে। গৌরনদী মহাসড়ক থানা জানিয়েছে, জব্দকৃত বাসটি এখন তদন্তের অধীনে রাখা হয়েছে এবং চালকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মৃতদেহের শারীরিক পরীক্ষা ও মৃতদেহের হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দেহটি নিরাপদে সংরক্ষণ করা হবে।
ওসি শামীম শেখ উল্লেখ করেছেন, এই ধরনের দুর্ঘটনা রোধে ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলা এবং গতি সীমা মানা অত্যন্ত জরুরি। তিনি আরও জানিয়েছেন, চালকের বিরুদ্ধে গাড়ি চালানোর সময় অযথা গতি বাড়ানোর জন্য কঠোর শাস্তি আরোপ করা হবে।
দুর্ঘটনা ঘটার পর স্থানীয় প্রশাসন ও ট্রাফিক বিভাগকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে রাস্তায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে একই রকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে অতিরিক্ত সিগন্যাল ও পেডেস্ট্রিয়ান ক্রসিং স্থাপন করা হবে।
এই ঘটনার ফলে উজিরপুরের বাসিন্দারা শোকাহত এবং গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মচারীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ দেখা দিচ্ছে। পরিবার ও সহকর্মীরা মৃতের শোক প্রকাশ করে, একই সঙ্গে ট্রাফিক নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।
পুলিশের তদন্ত চলমান থাকায় চালকের সঠিক পরিচয় ও গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর সংগ্রহের কাজ দ্রুততর করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, চালকের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক দায়িত্ব প্রয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রমাণ সংগ্রহ করা হবে।
দুর্ঘটনা ঘটার সময় রাস্তায় যানবাহনের প্রবাহ বেশ ব্যস্ত ছিল, তবে গতি সীমা অতিক্রমের ফলে এই মারাত্মক ফলাফল ঘটেছে। স্থানীয় মানুষদের নিরাপদে পারাপার করার জন্য রোড সাইনেজ ও পেডেস্ট্রিয়ান ব্রিজের প্রয়োজনীয়তা পুনরায় জোর দেওয়া হয়েছে।
এই দুঃখজনক ঘটনা ট্রাফিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত আইন প্রয়োগের গুরুত্বকে আবারও তুলে ধরেছে এবং ভবিষ্যতে রাস্তায় গতি নিয়ন্ত্রণের জন্য কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করেছে।



