নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার একটি স্কুলে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে মনির হোসেন কাসেমীর প্রতিনিধি নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর অভিযোগে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর বিকেলে অভিযানের সময় সংগঠক ও প্রার্থীর প্রতিনিধি উভয়েই দোষ স্বীকার করেন।
অভিযানের ফলস্বরূপ, প্রার্থী মনির হোসেন কাসেমীর প্রতিনিধি দেড় লাখ টাকা জরিমানা প্রদান করেন। জরিমানার পরিমাণ ও শাস্তি সরাসরি ভ্রাম্যমাণ আদালতে আদায় করা হয়।
এই ঘটনার তথ্য নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস.এম. ফয়েজ উদ্দিন প্রথম আলোকে জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নির্বাচনী প্রচারণার স্থান হিসেবে ব্যবহার করা নির্বাচনী আচরণবিধিমালা ২০২৫-এর ধারা ১৫(খ)-এর স্পষ্ট লঙ্ঘন।
নির্বাহী কর্মকর্তা আরও ব্যাখ্যা করেন যে, নির্বাচনী আচরণবিধিমালার ধারা ২৭(ক) অনুসারে ভ্রাম্যমাণ আদালত দেড় লাখ টাকা জরিমানা আদায়ের অধিকার রাখে। এই বিধানটি নির্বাচনী সময়ে অনুচিত কার্যকলাপের প্রতিরোধে প্রয়োগ করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের সিদ্ধান্তের পর, সংশ্লিষ্ট সকলকে ভবিষ্যতে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এই নির্দেশনা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জারি করা হয়েছে।
নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবহার নিয়ে পূর্বে বহুবার সতর্কতা দেওয়া হলেও, এই ঘটনা আবারও বিধি লঙ্ঘনের উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে। নির্বাচনী সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক কার্যক্রমের স্থান হিসেবে ব্যবহার করা অবৈধ এবং এর জন্য কঠোর শাস্তি নির্ধারিত হয়েছে।
এই ঘটনার পর, স্থানীয় রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার গুরুত্ব পুনরায় জোর দিয়েছে। তারা উল্লেখ করেছে যে, ভবিষ্যতে এমন লঙ্ঘন এড়াতে যথাযথ পর্যবেক্ষণ ও তদারকি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অভিযান ও জরিমানার মাধ্যমে নির্বাচনী আইন প্রয়োগের দৃঢ় সংকল্প স্পষ্ট হয়েছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।



