বৃহস্পতিবার সকালেই ৮৮ বছর বয়সী ক্রীড়া সংগঠক ও ভলিবল কোচ মোস্তফা কামালের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। তিনি রবিবার সকালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর কারণ হিসেবে কিডনি রোগ, ডিমেনশিয়া এবং অন্যান্য জটিলতা উল্লেখ করা হয়েছে, এবং তিনি প্রায় দুই সপ্তাহ আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন।
মোস্তফা কামালের পরিবারে বাকি ছিলেন তার স্ত্রী, দুই কন্যা এবং বহু শুভেচ্ছুক। মৃত্যুর পরপরই পরিবার ও ক্রীড়া জগতের পরিচিত ব্যক্তিরা শোক প্রকাশের জন্য একত্রিত হয়েছেন।
কামাল প্রথমে একজন জাতীয় ভলিবল খেলোয়াড় হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেন, পরে কোচিংয়ে মনোনিবেশ করে দেশের সেরা দলকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তার কোচিং সময়ে জাতীয় দল বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করে ভালো ফলাফল অর্জন করে।
ক্রীড়া সংস্থার স্তরে তিনি বাংলাদেশ ভলিবল ফেডারেশনের উপ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই পদে থাকাকালীন তিনি ভলিবল অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য স্কলারশিপ প্রোগ্রাম চালু করার কাজের তত্ত্বাবধান করেন।
কোচিংয়ের পাশাপাশি মোস্তফা কামাল ক্রীড়া বিষয়ক প্রবন্ধও লিখতেন। তার লেখা প্রবন্ধগুলো স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশ পেয়ে ভলিবল ও অন্যান্য ক্রীড়া বিষয়ের উপর জনমত গঠনে সহায়তা করত। তিনি ক্রীড়া নীতি, প্রশিক্ষণ পদ্ধতি এবং খেলোয়াড়ের মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে বিশ্লেষণমূলক দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করতেন, যা তরুণ কোচ ও খেলোয়াড়দের জন্য রেফারেন্স হিসেবে কাজ করত।
মৃত্যুর পরপরই তার নামানুসারে একটি স্মরণীয় সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। আজ দুপুরের নামাজের পর শান্তিনগর ইস্টার্ন প্লাস মলের মসজিদে নামাজ‑ই‑জনাজা অনুষ্ঠিত হবে, যার পর রায়ারবাজার বুদ্ধিজীবী সমাধিস্থলে সমাধিস্থ করা হবে। সমাধি অনুষ্ঠানটি পরিবারের সদস্য, ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বহু শুভেচ্ছুকের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হবে।
মোস্তফা কামাল ক্রীড়া জগতে যে অবদান রেখেছেন, তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণা হিসেবে রয়ে যাবে। তার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ভলিবল প্রশিক্ষণ পদ্ধতি ও ক্রীড়া নীতি এখনো বহু ক্লাব ও স্কুলে অনুসরণ করা হয়।
ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তারা কামালের মৃত্যুর শোক প্রকাশ করে বলছেন, তিনি ক্রীড়া উন্নয়নের জন্য যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তা কখনো ভুলে যাবে না। তিনি যে সময়ে ভলিবলকে দেশের প্রধান ক্রীড়া শাখা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সহায়তা করেছেন, তা স্মরণীয়।
কামালের পরিবার জানিয়েছে, তিনি শেষ দিনগুলোতে পরিবারের সান্নিধ্যে শান্তি পেয়েছেন এবং তার স্মৃতি সবসময় তাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। পরিবার ও বন্ধুবান্ধবের অনুরোধে, যারা শোক প্রকাশ করতে চান, তারা ভবিষ্যতে ভলিবল প্রশিক্ষণ ও ক্রীড়া উন্নয়নের জন্য দান করতে পারেন।
মোস্তফা কামালের মৃত্যু ক্রীড়া জগতে একটি বড় ক্ষতি, তবে তার অবদান ও আদর্শ নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে চলবে। তার স্মৃতিতে ভলিবল মাঠে নতুন প্রতিভা গড়ে তোলার কাজ অব্যাহত থাকবে।



