22 C
Dhaka
Sunday, February 1, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাচট্টগ্রাম বন্দর কর্মীরা দ্বিতীয় দিন ৮ ঘণ্টার ধর্মঘট চালু, সিপিএম ৩০ দিন...

চট্টগ্রাম বন্দর কর্মীরা দ্বিতীয় দিন ৮ ঘণ্টার ধর্মঘট চালু, সিপিএম ৩০ দিন সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা

চট্টগ্রাম বন্দর কর্মী ও স্টাফরা আজ সকাল ৮ টা থেকে আবারও আট ঘণ্টার ধর্মঘট শুরু করেছে। এই কর্মসূচি নতুন মোরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (NCT) ডি.পি. ওয়ার্ল্ডের হাতে হস্তান্তরের পরিকল্পনা বিরোধে চালু। ধর্মঘটের ফলে বন্দরটির সব টার্মিনালের জেটি থেকে পণ্য ও কন্টেইনার লোডিং‑আনলোডিং সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।

ধর্মঘটের প্রভাব স্পষ্ট; সকাল আটটায় সব জেটিতে পণ্যবাহী জাহাজের কাজ থেমে যায়। গুদাম ও কন্টেইনার টার্মিনালগুলোতে কোনো লোডিং, আনলোডিং বা গুদামজাতকরণ কাজ করা হয় না। ফলে রপ্তানি‑আমদানি শিপমেন্টের সময়সূচি ব্যাহত হয় এবং বাণিজ্যিক লেনদেনে বিলম্বের ঝুঁকি বাড়ে।

ডি.পি. ওয়ার্ল্ডকে NCT হস্তান্তরের পরিকল্পনা বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে কর্মীরা এই চুক্তিকে দেশের কন্টেইনার অবকাঠামোর স্বার্থের বিরুদ্ধে বলে দাবি করে, এবং বিদেশি কোম্পানির হাতে গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল হস্তান্তরকে জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি হিসেবে দেখছে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিপিএম) আজ (১ ফেব্রুয়ারি) থেকে বন্দর পার্শ্ববর্তী এলাকায় সমাবেশ, রেলি, মানবশৃঙ্খল এবং সভা-সমাবেশের উপর ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। সিপিএম কমিশনার হাসিব আজিজের নির্দেশে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৮ এর ধারা ২৯ ও ৩০ অনুসারে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা বেয়ারক বিল্ডিং চৌরাস্তা, নিমতলা চৌরাস্তা, জেটি গেট নং ৩, কাস্টমস চৌরাস্তা, সল্টগোলা ক্রসিং এবং বন্দর সংলগ্ন সব এলাকাকে অন্তর্ভুক্ত করে।

বন্দরের আশেপাশে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ থেকে ছয় হাজার কার্গো গাড়ি চলাচল করে, যা মূলত প্রয়োজনীয় পণ্য, শিল্প কাঁচামাল এবং অন্যান্য আমদানি‑রপ্তানি সামগ্রী পরিবহন করে। সমাবেশ ও রেলি এই গাড়িগুলোর চলাচল বাধাগ্রস্ত করে, ফলে ট্রাফিক জ্যাম বাড়ে এবং পণ্য সরবরাহের শৃঙ্খল ভেঙে যায়। সিপিএমের নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে এই ধরনের ব্যাঘাত জাতীয় অর্থনীতির জন্য গুরুতর ক্ষতি এবং নিরাপত্তার হুমকি তৈরি করে।

বন্দরের প্রাচীনতম টার্মিনাল জেনারেল কার্গো বার্থ (GCB) এর অপারেটররা জানিয়েছেন যে চারটি জাহাজ, যার মধ্যে একটি কন্টেইনার জাহাজও রয়েছে, তাদের লোডিং‑আনলোডিং সম্পূর্ণভাবে বন্ধ। চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা ঐক্য পারিষদের সমন্বয়ক হুমায়ূন কবিরের মতে, GCB, CCT এবং NCT সহ সব টার্মিনালের কাজ এখনো স্থগিত। এই সমন্বিত বন্ধের ফলে বন্দর থেকে বের হওয়া পণ্যের পরিমাণ হ্রাস পাবে, যা শিপিং লাইন ও রপ্তানিকারকদের অতিরিক্ত খরচের মুখে ফেলতে পারে।

বাজার বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে ধারাবাহিক ধর্মঘট ও সমাবেশ নিষেধাজ্ঞা বন্দর কার্যক্রমে দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। পণ্য সরবরাহে বিলম্বের ফলে রপ্তানিকারকরা বিকল্প বন্দর বা লজিস্টিক চ্যানেল খুঁজতে বাধ্য হতে পারে, যা অতিরিক্ত পরিবহন খরচ এবং সময়সীমা বাড়াবে। এছাড়া, ডি.পি. ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি স্থগিত হলে বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হতে পারে, যা দেশের বন্দর অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনাকে প্রভাবিত করবে।

সিপিএমের নিষেধাজ্ঞা ৩০ দিনের জন্য কার্যকর থাকায়, বন্দর কর্মীদের ধর্মঘটের সময়সীমা ও চাহিদা এখনো অনির্ধারিত। যদি সমঝোতা না হয়, তবে বাণিজ্যিক লেনদেনের ব্যাঘাত বাড়তে পারে এবং দেশের রপ্তানি আয় হ্রাস পেতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট পক্ষের দ্রুত সংলাপ ও সমঝোতা দেশের অর্থনৈতিক স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments