রবিবার অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের পুরুষ একক চ্যাম্পিয়নশিপে নোভাক ডোজেভিচ এবং কার্লোস আলকারাজ মুখোমুখি হবেন। ম্যাচটি আজ বাংলাদেশ সময় দুপুর ২:৩০ টায় রড লেভার অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত হবে। দুই টেনিস তারকার জন্য এই ফাইনালটি ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে, কারণ ডোজেভিচ ২৫তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা অর্জনের পথে এবং আলকারাজ সর্বকনিষ্ঠভাবে চারটি প্রধান টুর্নামেন্ট জয়ের স্বপ্নে রয়েছে।
ডোজেভিচের ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত ২৪টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা রয়েছে, যা তাকে পুরুষ টেনিসের সর্বোচ্চ শিরোপা ধারক করে তুলেছে। তার মধ্যে মেলবোর্ন পার্কে দশটি শিরোপা জয় করা সবচেয়ে বেশি, যা এই কোর্সের সঙ্গে তার বিশেষ সম্পর্ককে নির্দেশ করে। প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয় ২০০৮ সালে মেলবোর্নে অর্জিত হওয়ায়, তার সাফল্য দুই দশকেরও বেশি সময়ে ধারাবাহিকভাবে গড়ে উঠেছে।
ডোজেভিচের রেকর্ডকে নারী টেনিসের কিংবদন্তি মার্গারেট কোর্টের সঙ্গে তুলনা করা হয়, যিনি তার ক্যারিয়ারে ২৪টি শিরোপা জিতেছিলেন, যার মধ্যে ১৩টি আমেচার যুগে। যদিও যুগ, প্রতিপক্ষ এবং প্রযুক্তি ভিন্ন, তবে দুজনের শিরোপার সংখ্যা সমান হওয়ায় এই তুলনা স্বাভাবিক। ডোজেভিচের লক্ষ্য এখন এই সমতা ভেঙে একা শীর্ষে দাঁড়ানো, অর্থাৎ ২৫তম শিরোপা দিয়ে নিজেকে একক শীর্ষে স্থাপন করা।
যদি ডোজেভিচ মেলবোর্ন পার্কে ২৫তম শিরোপা জয় করেন, তবে তা তার ২০০৮ সালের প্রথম শিরোপার পর ২০ বছর পরের একটি চূড়ান্ত বিজয় হবে। এই বিজয় তার দীর্ঘায়ু ও ধারাবাহিকতা প্রকাশ করবে, যা আধুনিক টেনিসে বিরল। এছাড়া, তিনি কেঞ্চ রোজওয়ালের রেকর্ড ভেঙে সর্ববয়সী পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে ফাইনালে পৌঁছেছেন, যখন তিনি জ্যানিক সিন্নারকে পরাজিত করে ফাইনালে স্থান পেয়েছিলেন।
ডোজেভিচের বয়সের রেকর্ড আরও এক ধাপ এগিয়ে যেতে পারে, যদি তিনি ফাইনালে জয়লাভ করেন। বর্তমান পর্যন্ত কোনো পুরুষ খেলোয়াড় মেলবোর্নে তার বয়সে শিরোপা জিতেনি, তাই তিনি সর্ববয়সী গ্র্যান্ড স্ল্যাম চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা রাখেন। এই সম্ভাবনা তার ক্যারিয়ারের আরেকটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।
অন্যদিকে, আলকারাজের লক্ষ্য ভিন্ন। তিনি সর্বকনিষ্ঠভাবে চারটি প্রধান টুর্নামেন্ট জয় করার স্বপ্ন দেখছেন, যা তাকে ইতিহাসের অন্যতম তরুণ চ্যাম্পিয়ন করে তুলবে। তার বর্তমান পারফরম্যান্স এবং তরুণ বয়স তাকে এই লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, এবং ফাইনাল তার জন্য একটি বড় সুযোগ।
ডোজেভিচের মেলবোর্ন পার্কে শিরোপা সংখ্যা রয় এমারসন ও রজার ফেডারারের চেয়ে চারটি বেশি, যা তার এই কোর্সে আধিপত্যকে স্পষ্ট করে। এই পরিসংখ্যান তার দীর্ঘমেয়াদী সাফল্য এবং কোর্সের সঙ্গে তার সামঞ্জস্যকে তুলে ধরে।
মেলবোর্নের সের্বিয়ান সম্প্রদায় ডোজেভিচের প্রতি বিশেষভাবে উত্সাহী, তারা ম্যাচে বড় সংখ্যায় উপস্থিত হয়ে স্টেডিয়ামকে উচ্ছ্বাসে ভরিয়ে তুলেছে। যদিও ডোজেভিচকে এক সময় অস্ট্রেলিয়ায় কোভিড টিকাদানের কারণে গ্রেপ্তার ও দেশত্যাগের সম্মুখীন হতে হয়েছিল, তবু তার সমর্থকরা এখনো তার প্রতি অটুট সমর্থন দেখাচ্ছেন।
গত শুক্রবার ডোজেভিচ যখন জ্যানিক সিন্নারকে পাঁচ সেটে পরাজিত করে ফাইনালে পৌঁছেছিলেন, তখন রড লেভার অ্যারেনায় ভিড়ের গর্জন শোনা গিয়েছিল। এই উল্লাস তার জনপ্রিয়তা এবং দর্শকদের তার প্রতি অনুগত্যকে পুনরায় নিশ্চিত করেছে।
সারসংক্ষেপে, রবিবারের ফাইনাল টেনিস জগতের দুই শীর্ষ খেলোয়াড়ের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ লড়াই হবে। ডোজেভিচের জন্য এটি ২৫তম শিরোপা এবং সর্ববয়সী চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ, আর আলকারাজের জন্য এটি সর্বকনিষ্ঠভাবে ক্যারিয়ার গ্র্যান্ড স্ল্যাম সম্পন্ন করার সোনালী সুযোগ। উভয়েরই লক্ষ্য উচ্চ, এবং ম্যাচের ফলাফল টেনিসের ইতিহাসে নতুন একটি অধ্যায় যোগ করবে।



