মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সম্প্রতি জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে যুক্ত বহু নথি প্রকাশ করেছে, যার মধ্যে ২০১৭ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির ইসরায়েল সফর সংক্রান্ত ইমেইল অন্তর্ভুক্ত। এই নথিগুলোতে দেখা যায়, মোদি তখনের মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সন্তুষ্ট করার জন্য এপস্টেইনের পরামর্শ চেয়েছিলেন। এপস্টেইন নিজেই ইমেইলে উল্লেখ করেন, যদি মোদি ইসরায়েলে গিয়ে নাচ-গান করেন, তবে ট্রাম্পের মনোভাব উন্নত হবে।
বিচার বিভাগের প্রকাশিত নথিতে প্রায় এক হাজার পৃষ্ঠার ইমেইল ও সংযুক্তি রয়েছে, যেখানে এপস্টেইনের সঙ্গে মোদির যোগাযোগের রেকর্ড রয়েছে। ইমেইলগুলোতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, মোদি ট্রাম্পের প্রতি অনুকূলতা অর্জনের জন্য ইসরায়েল সফরের পরিকল্পনা করেন। এপস্টেইন সেই সময়ে মোদিকে ইসরায়েল সফরের সময় সাংস্কৃতিক পারফরম্যান্সের পরামর্শ দেন, যা তিনি বিশ্বাস করেন ট্রাম্পের পছন্দের হবে।
এপস্টেইনের ইমেইল অনুযায়ী, মোদি তার পরামর্শ মেনে ২০১৭ সালে ইসরায়েল গিয়েছিলেন। সফরের সময় তিনি বিভিন্ন ইভেন্টে অংশ নেন এবং ঐ অঞ্চলের সঙ্গীত ও নৃত্য উপস্থাপন করেন। নথিতে উল্লেখ আছে যে, মোদি ইসরায়েলি সরকারী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে ঐতিহ্যবাহী নাচ-গান করেন, যা এপস্টেইনকে ট্রাম্পকে সন্তুষ্ট করার উপায় হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।
ইসরায়েলি সরকারী সূত্রে এই সফরের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি, তবে প্রকাশিত নথিতে মোদির উপস্থিতি ও পারফরম্যান্সের উল্লেখ স্পষ্ট। এপস্টেইন নিজে এই সফরকে ট্রাম্পের প্রতি অনুকূলতা অর্জনের কৌশল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। নথিগুলোতে এপস্টেইনের এই পরামর্শের ভিত্তিতে মোদির সিদ্ধান্তের উল্লেখ রয়েছে, যদিও সরাসরি ট্রাম্পের কোনো মন্তব্য নথিতে পাওয়া যায় না।
নথি প্রকাশের পর ভারতের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। বিরোধী দলগুলো এপস্টেইনের সঙ্গে মোদির সংযোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করে, এবং সরকারের কাছ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করে। কিছু বিশ্লেষক এই তথ্যকে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রভাব হিসেবে তুলে ধরেন, অন্যদিকে কিছু মিডিয়া সূত্রে এপস্টেইনের প্রভাবের মাত্রা নিয়ে অনুমান করা হয়।
ভারত সরকার নথিগুলোর বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করে এবং জানায় যে, এ ধরনের কোনো পরামর্শ বা সফর সম্পর্কিত কোনো প্রমাণ নেই। সরকারী বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মোদির ইসরায়েল সফর কূটনৈতিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়েছে এবং এপস্টেইনের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক সমন্বয় ছিল না। এছাড়া, মার্কিন সরকারের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো নথি বা তদন্তের তথ্যও প্রকাশ করা হয়নি।
মার্কিন সরকার এপস্টেইনের অপরাধমূলক নেটওয়ার্কের তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট সকল নথি প্রকাশের মাধ্যমে স্বচ্ছতা বজায় রাখার লক্ষ্য নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ উল্লেখ করেছে, এপস্টেইনের সঙ্গে যুক্ত বহু আন্তর্জাতিক ব্যক্তির নাম নথিতে রয়েছে, তবে প্রতিটি ক্ষেত্রে আলাদা আলাদা তদন্তের প্রয়োজন।
মোদের ইসরায়েল সফর এবং এপস্টেইনের পরামর্শের বিষয়টি দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষত আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতিতে। বিরোধীরা এই তথ্যকে ব্যবহার করে সরকারের নৈতিকতা ও আন্তর্জাতিক নীতির প্রশ্ন তুলতে পারে। অন্যদিকে, সরকারী পক্ষ থেকে এই বিষয়টি অস্বীকার করে, মোদির কূটনৈতিক কার্যক্রমকে স্বাভাবিক হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা ইঙ্গিত করেন, যদি এই নথিগুলো সত্য প্রমাণিত হয়, তবে তা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কের জটিলতা ও ব্যক্তিগত স্বার্থের মিশ্রণকে প্রকাশ করবে। তবে বর্তমানে কোনো স্বাধীন তদন্তের ফলাফল প্রকাশিত হয়নি, তাই বিষয়টি এখনও অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, ভারতীয় রাজনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা ভবিষ্যতে এ ধরনের নথি প্রকাশের সম্ভাবনা নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করছেন। তারা দাবি করছেন, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখতে নথি প্রকাশের প্রক্রিয়া আরও সুস্পষ্ট হওয়া দরকার।
সারসংক্ষেপে, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগে প্রকাশিত নথিতে মোদির ২০১৭ সালের ইসরায়েল সফর এবং এপস্টেইনের পরামর্শের উল্লেখ রয়েছে, যা ট্রাম্পকে সন্তুষ্ট করার লক্ষ্যে করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। ভারত সরকার এই দাবিকে অস্বীকার করেছে, এবং বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনার নতুন ধাপ শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে এই নথিগুলোর ওপর ভিত্তি করে আরও তদন্ত ও বিশ্লেষণ প্রত্যাশিত।



