22 C
Dhaka
Sunday, February 1, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাআয়কর রিটার্ন জমা শেষ ২৮ ফেব্রুয়ারি, নতুন পাঁচটি করছাড় কার্যকর

আয়কর রিটার্ন জমা শেষ ২৮ ফেব্রুয়ারি, নতুন পাঁচটি করছাড় কার্যকর

আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৮ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত হয়েছে, এবং এই সময়ের আগে তিনটি পর্যায়ে সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। পূর্বে সাড়ে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত ছিল, তবে এবার রিটার্ন জমা অনলাইনে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে; কাগজে জমা আর সম্ভব নয়।

অনলাইন ফাইলিংয়ের বাধ্যতামূলকতা সরকারকে ডিজিটাল কর ব্যবস্থার দিকে ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করবে এবং কাগজপত্রের প্রক্রিয়া হ্রাস করে সময় ও খরচ কমাবে। একই সঙ্গে, রিটার্ন জমা না করা বা দেরি করা করদাতাদের জন্য জরিমানা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই আর্থিক বছরের জন্য সরকার পাঁচটি নতুন করছাড়ের ব্যবস্থা চালু করেছে, যা ব্যক্তিগত আয়করদাতাদের জন্য উল্লেখযোগ্য সাশ্রয় এনে দেবে। এই ছাড়গুলো মূলত পারিবারিক উপহার, কৃষি আয়, বেসরকারি চাকরিজীবীর বেসিক বাদ, পেনশন এবং নির্দিষ্ট রোগের চিকিৎসা ব্যয়কে লক্ষ্য করে।

প্রথম ছাড়টি ভাইবোনের কাছ থেকে প্রাপ্ত অর্থ বা সম্পদের ওপর প্রযোজ্য। এখন ভাইবোনের দান করা টাকা বা সম্পদ করমুক্ত থাকবে, শর্ত হল মোট পরিমাণ পাঁচ লাখ টাকার বেশি হলে তা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হবে। এই নীতি পারিবারিক সম্পদ হস্তান্তরকে সহজ করবে, বিশেষত বিদেশে বসবাসকারী ভাইবোনদের কাছ থেকে প্রাপ্ত রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে।

দ্বিতীয় ছাড়টি কৃষি খাতের আয়কে লক্ষ্য করে। কৃষি থেকে অর্জিত আয় পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত করমুক্ত থাকবে, যা বাণিজ্যিক কৃষি কার্যক্রমকে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। জমি লিজে কৃষিকাজ করা বা ছোটখাটো কৃষি উদ্যোগ চালু করা ব্যক্তিদের জন্য এটি আর্থিক স্বস্তি প্রদান করবে।

তৃতীয় ছাড়টি বেসরকারি খাতের কর্মচারীদের জন্য। পূর্বে সাড়ে চার লাখ টাকা পর্যন্ত বাদযোগ্য ছিল, এখন তা পাঁচ লাখ টাকায় বাড়ানো হয়েছে। বেসিক বেতন, ভাতা এবং অন্যান্য সুবিধা এই সীমার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে, ফলে বেসরকারি কর্মসংস্থানের মোট করযোগ্য আয় হ্রাস পাবে।

চতুর্থ ছাড়টি জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের অধীনে প্রাপ্ত পেনশন আয়ের ওপর প্রযোজ্য। পেনশনভোগীরা এখন এই আয় সম্পূর্ণভাবে করমুক্ত পাবেন, যা প্রায় দুই লক্ষ গ্রাহকের জন্য আর্থিক স্বস্তি এনে দেবে। পেনশন স্কিমের জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ছাড়ের প্রভাবও বৃদ্ধি পাবে।

পঞ্চম ছাড়টি মরণব্যাধির চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য। কিডনি, লিভার, ক্যান্সার, হৃদরোগ, মস্তিষ্কের অস্ত্রোপচার এবং কৃত্রিম অঙ্গ প্রতিস্থাপনসহ নির্দিষ্ট রোগের চিকিৎসা ব্যয় এখন করমুক্ত থাকবে। এই ব্যবস্থা রোগীর পরিবারকে বড় আর্থিক চাপ থেকে রক্ষা করবে এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে চাহিদা বাড়াতে পারে।

এই ছাড়গুলো বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলবে। পারিবারিক রেমিট্যান্সের বৃদ্ধি রিয়েল এস্টেট লেনদেনকে ত্বরান্বিত করতে পারে, আর কৃষি আয়ের করমুক্তি ছোটখাটো কৃষকদের বিনিয়োগ বাড়াবে। বেসরকারি কর্মচারীদের জন্য বেতন কাঠামো পুনর্বিবেচনা হতে পারে, যাতে করসাশ্রয় সর্বোচ্চ করা যায়।

পেনশন আয়ের করমুক্তি বৃদ্ধিপ্রাপ্ত বয়স্ক জনগোষ্ঠীর ক্রয়ক্ষমতা বাড়াবে, ফলে ভোক্তা পণ্য ও সেবা বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে, মরণব্যাধির চিকিৎসা ব্যয়ের ছাড় স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের জন্য নতুন রোগী প্রবাহ সৃষ্টি করতে পারে, যা হাসপাতাল ও ক্লিনিকের আয় বাড়াবে।

ডিজিটাল রিটার্ন জমা বাধ্যতামূলক করার ফলে কর সংগ্রহের স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়বে, তবে সাইবার নিরাপত্তা ও ডেটা সুরক্ষার চ্যালেঞ্জও বাড়বে। করদাতাদের জন্য সময়মতো ফাইলিং এবং সঠিক তথ্য প্রদান জরুরি, যাতে অতিরিক্ত জরিমানা বা আইনি জটিলতা এড়ানো যায়।

দীর্ঘমেয়াদে এই ছাড়গুলো সরকারের আয় হ্রাসের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, তবে লক্ষ্যিত ক্ষেত্রের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক স্বস্তি বিবেচনা করে নীতি নির্ধারকরা এই ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে। করদাতাদের উচিত নতুন ছাড়গুলো সঠিকভাবে ব্যবহার করে আর্থিক পরিকল্পনা করা, যাতে করবছরের শেষে কোনো অপ্রত্যাশিত দায় না থাকে।

সারসংক্ষেপে, ২৮ ফেব্রুয়ারি শেষ তারিখের আগে অনলাইন রিটার্ন জমা দেওয়া এবং নতুন পাঁচটি করছাড়ের সুবিধা গ্রহণ করা ব্যক্তিগত আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও বাজারের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments