22 C
Dhaka
Sunday, February 1, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিজামায়াত-এ-ইসলামির আমিরের এক্স অ্যাকাউন্টে সাইবার হামলা, অস্থায়ী নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দ্রুত পুনরুদ্ধার

জামায়াত-এ-ইসলামির আমিরের এক্স অ্যাকাউন্টে সাইবার হামলা, অস্থায়ী নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দ্রুত পুনরুদ্ধার

ঢাকার হাতিরঝিল থানায় শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাতের দিকে জামায়াত-এ-ইসলামির নির্বাচন পরিচালনা কমিটি (সাধারণ ডায়েরি) একটি সাইবার হামলার ঘটনা রেজিস্টার করে। হ্যাক করা হয়েছে দলীয় উচ্চপদস্থ নেতাদের এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্ট, যার মধ্যে আমির ডা. শফিকুর রহমানের অফিসিয়াল হ্যান্ডেলও অন্তর্ভুক্ত।

সাইবার নিরাপত্তা দল জানায়, সমন্বিত পদ্ধতিতে আক্রমণকারীরা অল্প সময়ের জন্য আমিরের এক্স অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। তবে বিদ্যমান সিকিউরিটি প্রোটোকল এবং দ্রুত পদক্ষেপের ফলে একই দিনে অ্যাকাউন্টটি মূল মালিকের হাতে ফিরে আসে।

হ্যাকিংয়ের সময় একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পোস্ট প্রকাশিত হয়, যেখানে জামায়াত-এ-ইসলামির আমিরের নামে মিথ্যা বক্তব্য যুক্ত ছিল। এই পোস্টটি স্বল্প সময়ের জন্য দৃশ্যমান ছিল এবং পরে মুছে ফেলা হয়।

দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, মিথ্যা তথ্য ছড়ানো, পরিচয় জালিয়াতি এবং বিকৃত কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার করা আইনগতভাবে শাস্তিযোগ্য।

এহসানুল মাহবুব জুবায়ের মতে, সাইবার টিমের দ্রুত হস্তক্ষেপের ফলে অন্যান্য নেতাদের অ্যাকাউন্ট ও প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে। তিনি সকল নাগরিক, মিডিয়া কর্মী এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীকে ভুয়া খবর ও জাল উদ্ধৃতি সম্পর্কে সতর্ক থাকতে আহ্বান করেন।

হাতিরঝিল থানায় গৃহীত সাধারণ ডায়েরি (জিডি) অনুসারে, হ্যাকিংয়ের পদ্ধতি অত্যন্ত সমন্বিত ছিল, যা নির্দেশ করে যে আক্রমণকারীরা প্রযুক্তিগত দিক থেকে দক্ষ। তবে কোনো সরাসরি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সাথে সংযোগের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

দলীয় সাইবার নিরাপত্তা টিমের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে, হ্যাকিংয়ের পরপরই পাসওয়ার্ড পরিবর্তন, দুই-ধাপ প্রমাণীকরণ সক্রিয়করণ এবং অ্যাক্সেস লগ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে সহায়ক হবে।

অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারের পর, দলীয় যোগাযোগ বিভাগ দ্রুত একটি স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রকাশ করে, যাতে অনুসারীরা মিথ্যা পোস্টের বিষয়বস্তুকে সত্য হিসেবে গ্রহণ না করে। এই ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, পোস্টটি হ্যাকিংয়ের ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রকাশিত এবং তা দলের নীতি বা অবস্থানকে প্রতিফলিত করে না।

সাইবার হামলার ফলে জামায়াত-এ-ইসলামির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাময়িক অস্থিরতা দেখা দেয়। তবে দলীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মূল বার্তা ও প্রচারণা কার্যক্রমে কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি এবং নির্বাচনী প্রস্তুতি স্বাভাবিকভাবে চলমান।

এই ঘটনার পর, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা রাজনৈতিক দলগুলোর ডিজিটাল অবকাঠামোর দুর্বলতা নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেন। তারা পরামর্শ দেন, নিয়মিত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন, এনক্রিপশন এবং বহুমুখী প্রমাণীকরণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

দলীয় কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন, হ্যাকিংয়ের সময় কোনো আর্থিক লেনদেন বা ডেটা চুরি করা হয়নি। মূলত লক্ষ্য ছিল পাবলিক ইমেজে ক্ষতি করা এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে, জামায়াত-এ-ইসলামির নেতৃত্ব ভবিষ্যতে সাইবার নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত সম্পদ বরাদ্দের পরিকল্পনা করছে। তারা আইটি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা কৌশল গড়ে তোলার কথা জানিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া খবরের বিস্তার রোধে, দলীয় যোগাযোগ বিভাগ ব্যবহারকারীদেরকে কোনো সন্দেহজনক পোস্টের মুখে সরাসরি শেয়ার না করার এবং অফিসিয়াল চ্যানেল থেকে তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেয়।

এই সাইবার হামলা এবং তার পরবর্তী পদক্ষেপগুলো দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর ডিজিটাল নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বকে পুনরায় তুলে ধরেছে, যা ভবিষ্যতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার রক্ষায় অপরিহার্য বলে বিবেচিত হবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments