সানড্যান্স ফেস্টিভ্যালে ২০২৬ সালে মলি রিংওয়াল্ডের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে জোন হিউজের ১৯৮০‑এর ক্লাসিক চলচ্চিত্রের রিমেকের প্রতি তার কোনো আগ্রহ নেই। হিউজের ‘সিক্সটিন ক্যান্ডলস’, ‘দ্য ব্রেকফাস্ট ক্লাব’ ও ‘প্রেটি ইন পিঙ্ক’‑এর মূল স্রষ্টা ২০০৯ সালে হৃদরোগে মৃত্যুবরণ করেন, তবু তার কাজ আজও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে আলোচিত হয়।
রিংওয়াল্ডের মতে, ‘দ্য ব্রেকফাস্ট ক্লাব’ মূলত একটি সময়ের চিত্র, যা পুনরায় তৈরি করলে তা মূলের স্বাদ হারাবে। তিনি উল্লেখ করেন, যদি কেউ এই গল্পের কোনো নতুন রূপ তৈরি করতে চায়, তবে তা অবশ্যই বর্তমানের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সমস্যাগুলোকে প্রতিফলিত করতে হবে, পুরনো যুগের পুনরাবৃত্তি নয়।
তিনি আরও বলেন, নতুন সংস্করণে আজকের তরুণদের মুখোমুখি হওয়া বিষয়গুলো—যেমন বর্ণ বৈচিত্র্য, লিঙ্গ সমতা ও পরিচয় সংক্রান্ত প্রশ্ন—কে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। মূল ছবিতে সাদা চরিত্রের আধিক্য ও লিঙ্গ সংক্রান্ত আলোচনার অভাবের কথা তিনি উল্লেখ করে, আধুনিক সমাজের বাস্তবতা প্রতিফলিত না করলে তা আজকের দর্শকদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারবে না।
রিংওয়াল্ডের এই দৃষ্টিভঙ্গি ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে শিকাগোর C2E2 কনভেনশনে অনুষ্ঠিত ‘দ্য ব্রেকফাস্ট ক্লাব’ পুনর্মিলনীতে প্রকাশ পায়। সেখানে তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, তিনি কোনো রিমেকের পক্ষে নন, বরং মূল চলচ্চিত্রের আত্মা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নতুন গল্পের সৃষ্টিকে সমর্থন করেন।
অভিনেত্রের সঙ্গে তার সম্পর্ক এখনও বন্ধুত্বপূর্ণ রয়ে গেছে। তিনি উল্লেখ করেন, তিনি সময়ে সময়ে সহ-অভিনেতা জোন ক্রাইয়ার সঙ্গে দেখা করেন এবং অ্যানি পটস ও অ্যান্ড্রু ম্যাকার্থি-কে কখনও কখনও মিলতে পারেন। ‘প্রেটি ইন পিঙ্ক’ মুক্তির ৪০ বছর পার হয়ে যাওয়া নিয়ে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন, যা সময়ের গতি ও শিল্পের স্থায়িত্বের ইঙ্গিত দেয়।
রিংওয়াল্ডের মতে, হিউজের কাজের মূল আকর্ষণ হল তার সময়ের তরুণদের সঙ্গে সংলাপ গড়ে তোলার ক্ষমতা। তিনি বলেন, রিমেকের চেয়ে মূলের চেতনা বজায় রেখে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে গল্প বলা বেশি ফলপ্রসূ হবে। এভাবে চলচ্চিত্রটি নতুন প্রজন্মের জন্য প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠবে।
সানড্যান্সে তার মন্তব্যের পর, শিল্প জগতে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়ে ওঠে। বেশ কয়েকজন চলচ্চিত্র নির্মাতা রিংওয়াল্ডের দৃষ্টিভঙ্গি সমর্থন করে, যদিও কিছু সমালোচক রিমেকের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তবে রিংওয়াল্ডের স্পষ্ট অবস্থান হল, তিনি কোনো রিমেকের পক্ষে না, বরং মূলের সৃজনশীলতা থেকে অনুপ্রাণিত নতুন কাজের পক্ষে।
হিউজের মৃত্যুর পর থেকে তার চলচ্চিত্রগুলো বহুবার পুনরায় দেখা হয়েছে, তবে রিংওয়াল্ডের মতামত অনুসারে, সেগুলোকে পুনরায় তৈরি করা মানে মূলের স্বাতন্ত্র্যকে ক্ষুণ্ন করা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নতুন প্রজন্মের সমস্যাগুলোকে বিবেচনা করে একটি আধুনিক ব্যাখ্যা তৈরি করা উচিত, যা দর্শকদের সঙ্গে গভীর সংযোগ স্থাপন করবে।
রিংওয়াল্ডের এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি শিল্পের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা সম্পর্কে একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতের চলচ্চিত্র নির্মাতারা হিউজের কাজ থেকে শিখে, তবে তা পুনরায় না করে, নতুন দৃষ্টিকোণ ও সমসাময়িক বিষয়বস্তু যুক্ত করে কাজ করবেন।
সারসংক্ষেপে, মলি রিংওয়াল্ড জোন হিউজের ক্লাসিক চলচ্চিত্রের রিমেকের বিরোধিতা করে এবং নতুন প্রজন্মের সমস্যাকে অন্তর্ভুক্ত করে আধুনিক রূপান্তরের পক্ষে সাড়া দেন। তার এই অবস্থান শিল্পের মধ্যে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে, যা ভবিষ্যতে কীভাবে পুরনো ক্লাসিককে পুনর্নির্মাণ করা হবে তা নির্ধারণ করবে।



