22 C
Dhaka
Sunday, February 1, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধআ্যারন স্ব্যানের যৌন ও গৃহহিংসা অপরাধে শিকারের সাক্ষ্য ও বিচার

আ্যারন স্ব্যানের যৌন ও গৃহহিংসা অপরাধে শিকারের সাক্ষ্য ও বিচার

আয়ারন স্ব্যান, ২৪ বছর বয়সী নিবন্ধিত যৌন অপরাধী, ২০০৯ সালে অনলাইন মাধ্যমে ১৬ বছর বয়সী জেন্নি নামের কিশোরীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। জেন্নি স্কারবোরো, নর্থ ইয়র্কশায়ার শহরে বাস করতেন; স্ব্যানের বাড়ি স্কটল্যান্ডের জেডবার্গে, প্রায় ১৫০ মাইল দূরে। পরিবার পুলিশে অভিযোগ জানালেও জেন্নি স্ব্যানের সঙ্গে স্থানান্তরিত হয়ে গৃহস্থালিতে বসবাস চালিয়ে গেলেন।

জেন্নি জানান, পরিবার যতই তাকে আটকে রাখতে চাইল, ততই তার পালানোর ইচ্ছা বাড়ত। এই সম্পর্কটি দ্রুতই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের রূপ নেয়, যার ফলে স্ব্যান গৃহহিংসা এবং দু’বার ধর্ষণের দোষী সাব্যস্ত হন।

স্ব্যানের অপরাধ একক নয়; ২০২৩ সালে চারজন নারী, যাঁরা দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে স্ব্যানের শিকার ছিলেন, একত্রিত হয়ে তাকে আদালতে আনা সম্ভব করেন। তাদের সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে স্ব্যানের বিরুদ্ধে গৃহহিংসা ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ চূড়ান্ত রায়ে পৌঁছায়।

নাটালি, ১৭ বছর বয়সে ২০০১ সালের নববর্ষের পার্টিতে স্ব্যানের সঙ্গে পরিচিত হন। তিনি নিজেকে ধর্মপ্রাণ খ্রিস্টান হিসেবে পরিচয় দেন এবং বিবাহের আগে যৌন সম্পর্ক না রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। স্ব্যানের সঙ্গে তার সম্পর্ক দ্রুতই তীব্র ও শারীরিক হয়ে ওঠে, যা তাকে রোমান্টিক অনুভূতি দিয়ে মুগ্ধ করেছিল।

নাটালি ১৮তম জন্মদিনে গর্ভধারণের ঘোষণা দেন। তিনি তখন অনুভব করেন যে শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে এবং অস্বস্তি বাড়ছে, যদিও তখনই তিনি বুঝতে পারেননি যে তিনি এক ঝুঁকিপূর্ণ চূড়ার উপরে দাঁড়িয়ে আছেন।

রবিন, ১৮ বছর বয়সে ২০১৯ সালে জেডবার্গে কাজের সময় স্ব্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। স্ব্যানের ট্যাটু ও লিপ পিয়ারসিং তাকে আকর্ষণীয় লেগে আসে, ফলে রবিন প্রথমে তার আগ্রহ প্রত্যাখ্যান করলেও শীঘ্রই সহকর্মীর মনোযোগে মুগ্ধ হন।

রবিন স্বীকার করেন যে স্ব্যানের সঙ্গে সম্পর্কের প্রথম পর্যায়ে তিনি তার আকর্ষণীয় চেহারার কারণে তার দিকে ঝুঁকেছিলেন, তবে পরে তিনি বুঝতে পারেন যে স্ব্যানের আচরণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে এবং নির্যাতনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

এই তিনজনের পাশাপাশি আরও একাধিক শিকার স্ব্যানের দীর্ঘমেয়াদী গৃহহিংসা ও যৌন নির্যাতনের শিকার ছিলেন, যার ফলে স্ব্যানের অপরাধের পরিসর স্পষ্ট হয়ে ওঠে। শিকারেরা একত্রে আইনি সহায়তা গ্রহণ করে স্ব্যানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

অধিক তদন্তের ফলস্বরূপ স্ব্যানের বিরুদ্ধে গৃহহিংসা, দু’বার ধর্ষণ এবং যৌন শোষণের অভিযোগে আদালতে দায়ী সাব্যস্ত করা হয়। রায়ে তাকে নির্দিষ্ট কারাদণ্ড ও জরিমানা আরোপ করা হয়, পাশাপাশি শিকারেরা ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারী হন।

বিচারাধীন মামলায় স্ব্যানের রক্ষা দল আপিলের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে, ফলে পরবর্তী আদালত শোনার তারিখ নির্ধারিত হয়েছে। আইনি বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে এই আপিল প্রক্রিয়া স্ব্যানের পূর্বের রেকর্ড ও শিকারের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে কঠিন হতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্কটল্যান্ডের জেডবার্গে স্থানীয় পুলিশ এবং ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি যৌথভাবে এই মামলায় তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। শিকারেরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোপনীয়তা বজায় রাখার অনুরোধ করেছেন, এবং আদালতও তাদের সুরক্ষার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

এই ঘটনা দেশের যৌন অপরাধ ও গৃহহিংসা মোকাবিলায় আইনগত কাঠামোর দুর্বলতা উন্মোচন করেছে। বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন যে অনলাইন মাধ্যমে পরিচিতি, দূরত্বের পার্থক্য এবং পরিবারিক হস্তক্ষেপের সীমাবদ্ধতা শিকারের সুরক্ষায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ রোধে সচেতনতা ও দ্রুত হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে বলা হচ্ছে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments