ঢাকা, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ – ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের জন্য বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ৩৭,০০০ কর্মীকে নিরাপত্তা দায়িত্বে মোতায়েন করেছে এবং তারা কোনো প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করবে না বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৩৩০ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকও উপস্থিত থাকবে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ কর্তৃক প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনের পূর্বে এবং ভোটের দিন জুড়ে মোট ৩৭,০০০ সদস্য বিভিন্ন জেলা ও নির্বাচনী এলাকায় মোতায়েন করা হবে। এই সংখ্যা পূর্ববর্তী নির্বাচনে গৃহীত নিরাপত্তা পরিকল্পনার তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ভোটারদের নিরাপদে ভোটদান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, নির্বাচনী নিরাপত্তা বজায় রাখতে তারা অ-প্রাণঘাতী সরঞ্জাম ব্যবহার করবে এবং কোনো প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকবে। এই নীতি নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের সুপারিশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু ব্যবহারকারী বর্ডার গার্ডের সম্ভাব্য প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে ভুল তথ্য ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। সংশ্লিষ্ট পোস্টে উল্লেখিত ‘ব্রুক’ নামের ব্যবহারকারীকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ মিথ্যা তথ্য প্রচার করার জন্য দায়ী করে সতর্কতা জানানো হয়েছে এবং প্রকৃত নীতি পুনরায় জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, কোনো প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার হবে না।
নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্ডার গার্ডের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তারা ভোট কেন্দ্রের আশেপাশে গশ্বর, গলিপথ ও প্রধান রাস্তায় উপস্থিত থাকবে, অস্বাভাবিক কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করবে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে দ্রুত হস্তক্ষেপ করবে। একই সঙ্গে, তারা ভোটারদের গমনাগমন সহজতর করতে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও জনসাধারণের সহায়তা প্রদান করবে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক গোষ্ঠীর সংখ্যা ৩৩০ এ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা পূর্ববর্তী নির্বাচনের তুলনায় উল্লেখযোগ্য। এই পর্যবেক্ষকরা বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে আসবে এবং তারা ভোটার তালিকা, ভোটদান প্রক্রিয়া ও ফলাফল গণনার স্বচ্ছতা পর্যবেক্ষণ করবে।
পর্যবেক্ষক গোষ্ঠীর সদস্যরা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে স্বাধীনভাবে কাজ করবে এবং তাদের পর্যবেক্ষণ রিপোর্ট নির্বাচনী কমিশন ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে শেয়ার করা হবে। এ ধরনের আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ ভোটের ফলাফলের স্বীকৃতির জন্য অতিরিক্ত নিশ্চয়তা প্রদান করে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ও জাতীয় নির্বাচন কমিশনের মধ্যে সমন্বয় মিটিংয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। মিটিংয়ে নিরাপত্তা গ্যাপ চিহ্নিত করে তা পূরণ করার জন্য অতিরিক্ত পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হয় এবং পর্যবেক্ষক গোষ্ঠীর সঙ্গে তথ্য শেয়ারিং প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা হয়।
নির্বাচনী কমিশনও বর্ডার গার্ডের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে যে, অ-প্রাণঘাতী সরঞ্জাম ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের উপস্থিতি ভোটারদের আস্থা বাড়াবে এবং নির্বাচনের ফলাফলকে বৈধতা দেবে। কমিশন উল্লেখ করেছে যে, সকল নিরাপত্তা কর্মী নির্বাচনী আইন মেনে চলবে এবং ভোটারদের অধিকার রক্ষা করবে।
প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোও বর্ডার গার্ডের এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের অংশগ্রহণকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে। তারা উল্লেখ করেছে যে, নিরাপদ পরিবেশে ভোটদান করা সকলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করবে এবং নির্বাচনের ফলাফলকে স্বচ্ছ রাখবে।
বর্ডার গার্ডের অ-প্রাণঘাতী নীতি এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের বৃহৎ উপস্থিতি দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ার আন্তর্জাতিক মান উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। এই ব্যবস্থা ভোটার অংশগ্রহণ বাড়াতে এবং সম্ভাব্য হিংসা কমাতে সহায়তা করবে।
পরবর্তী দিনগুলোতে বর্ডার গার্ড এবং নির্বাচন কমিশন নিরাপত্তা পরিকল্পনার চূড়ান্ত রূপ দেবে, পর্যবেক্ষক গোষ্ঠীর সঙ্গে সমন্বয় বাড়াবে এবং ভোটারদের জন্য তথ্যপ্রদানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করবে, যা ভোটের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



