মিডওয়েস্টের শিকাগো শহরের লিটল ভিলেজে, ফেডারেল অভিবাসন এজেন্সির আক্রমণ পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে স্থানীয় ব্যবসা ও জনজীবনে ব্যাপক পরিবর্তন দেখা গেছে। সাপ্তাহিক বিক্রয় অর্ধেকেরও বেশি হ্রাস পেয়েছে, এবং বাসিন্দারা রাইডের ভয় থেকে ঘরেই সীমাবদ্ধ হচ্ছেন।
মিনিয়াপোলিসে দুইজন আমেরিকান নাগরিকের মৃত্যুর পর সৃষ্ট বিশাল প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরিস্থিতি শীতল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। একই সময়ে, টম হোম্যান, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, রাইডের সংখ্যা কমবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।
শিকাগোর দিকে নজর দিলে, সেপ্টেম্বর মাসে “অপারেশন মিডওয়ে ব্লিটজ” নামে একটি অভিযান চালু হয়। এই অভিযানকে “অবৈধ অপরাধী অভিবাসী” লক্ষ্য করে চালু করা হয়েছিল এবং প্রথম কয়েক সপ্তাহে সর্বোচ্চ মাত্রায় পৌঁছায়।
অভিযানের পর থেকে শিকাগোর হিস্পানিক পাড়া, বিশেষত লিটল ভিলেজ, নতুন স্বাভাবিকতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। ঐ অঞ্চলকে প্রায়শই “মেক্সিকান ম্যাগনিফিসেন্ট মাইল” বলা হয়, যেখানে আগে ব্যস্ত বাজার ও রেস্তোরাঁর ধারা ছিল।
স্থানীয় ব্যবসা মালিকদের মতে, সপ্তাহের মাঝামাঝি বিক্রয় অর্ধেকেরও বেশি কমে গেছে, কখনো কখনো তা আরও বেশি হ্রাস পায়। গ্রাহকরা এখন কেনাকাটা করতে অনিচ্ছুক, ফলে অর্থনৈতিক কার্যকলাপ ধীর হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কর্লোস মাকিয়াস, ২৬তম স্ট্রিটে ৫০ বছর আগে তার পিতা প্রতিষ্ঠা করা “কার্নিসেরিয়া ও তাকেরিয়া আগুয়াসক্যালিয়েন্টেস”ের মালিক, রাইডের সময়ের স্মৃতি এখনও স্পষ্টভাবে মনে রাখেন। তিনি বলছেন, “বিক্রি সপ্তাহে অর্ধেকেরও বেশি কমে গেছে, মানুষ টাকা খরচ করতে চায় না।”
মাকিয়াসের দোকানে এক রাইডের সময় এজেন্টরা মুখে ব্যালাক্লাভা পরিধান করে প্রবেশ করে। কিছু এজেন্টের হাতে রাইফেল, অন্যদের হ্যান্ডগান ছিল। তারা ঘরে ঘুরে ঘুরে কর্মচারী ও গ্রাহকদের চোখে চোখে তাকিয়ে যাচ্ছিল।
কিছু গ্রাহক টেবিলের নিচে লুকিয়ে যায়, অন্যরা কান্না করে, আর কিছু অনিশ্চয়তায় পিছনের দিকে দৌড়ে যায়। পরিবেশে উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাকিয়াস নিজে হস্তক্ষেপ করে, “এটি আমার সম্পত্তি, তোমরা এখানে প্রবেশ করতে পারবে না” বলে এজেন্টদের বাধা দেন।
মাকিয়াসের কথার পরেও এজেন্টরা অগ্রসর হতে থাকে, ফলে রাইডের দৃশ্যটি তার মনের গভীরে খোদিত হয়ে রয়ে গেছে। তিনি বিশ্বাস করেন, এই ঘটনার পরই ব্যবসা উল্লেখযোগ্যভাবে ধীর হয়ে গেছে।
শিকাগোর অন্যান্য হিস্পানিক পাড়াও একই ধরনের রাইডের ভয় অনুভব করছে, ফলে রাস্তায় হাঁটা কমে গেছে এবং স্থানীয় বাজারের চাহিদা হ্রাস পেয়েছে। শহরের অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলো এখন প্রায় ভূত শহরের মতো দেখাচ্ছে।
অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের টম হোম্যানের “ড্রডাউন” পরিকল্পনা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি, ফলে রাইডের হুমকি অব্যাহত রয়েছে। এই পরিস্থিতি স্থানীয় ব্যবসা ও কর্মসংস্থানের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।
রাজনৈতিকভাবে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীতল করার প্রতিশ্রুতি এবং ফেডারেল এজেন্সির কঠোর পদক্ষেপের মধ্যে সমন্বয় কীভাবে গড়ে উঠবে তা দেশের অভিবাসন নীতি ও স্থানীয় নির্বাচনী গতিবিধিতে প্রভাব ফেলবে।
স্থানীয় সংগঠনগুলো রাইডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। অধিকার সংরক্ষণে সমিতি ও ধর্মীয় গোষ্ঠী ভুক্তভোগীদের সহায়তা প্রদান এবং ফেডারেল নীতির পুনর্বিবেচনা দাবি করছে।



