লিয়াম রোজেনিয়র, চেলসির নতুন প্রধান কোচ, সম্প্রতি ওয়েস্ট হ্যাম বিরোধী ম্যাচের পর প্রকাশ করেছেন যে তার নিয়োগকে ক্লাবের ইতিহাসে সেরা সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করা হবে এমন তার আশাবাদ। স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে চেলসি ২-০ পিছিয়ে থাকলেও শেষ মুহূর্তে জয় নিশ্চিত করে, যা রোজেনিয়রের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
রোজেনিয়র এই মাসের শুরুর দিকে এনজো মারেস্কার পরিবর্তে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সাতটি ম্যাচের মধ্যে ছয়টি জিতেছেন। এই ধারাবাহিকতা তাকে ক্লাবের ভক্তদের কাছ থেকে স্বীকৃতি অর্জনে সহায়তা করেছে, যদিও তার কোচিং ক্যারিয়ারে এ ধরনের উচ্চ পর্যায়ের দায়িত্বের অভিজ্ঞতা আগে নেই।
ওয়েস্ট হ্যামের মুখোমুখি হওয়ার সময় স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে ভক্তদের মেজাজ তীব্র ছিল। চেলসি প্রথমার্ধে ২-০ পিছিয়ে থাকায় সমর্থকরা অসন্তোষ প্রকাশ করে, এবং স্টেডিয়ামের পরিবেশ কিছুটা উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। রোজেনিয়র স্বীকার করেছেন যে এই মুহূর্তে ভক্তদের আস্থা অর্জন তার অন্যতম কাজ।
দ্বিতীয়ার্ধে পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে যায়। জোয়াও পেদ্রো দু’টি গোল করে স্কোর সমান করে, আর অতিরিক্ত সময়ে এনজো ফার্নান্দেজের গৌরবময় গোল চেলসিকে জয় এনে দেয়। এই উল্টে যাওয়া মুহূর্তে ভক্তদের উল্লাস শোনা যায়, এবং স্টেডিয়াম এক উচ্ছ্বাসে পরিণত হয়।
রোজেনিয়র ম্যাচের পর ভক্তদের প্রশংসা করে বলেন, “দ্বিতীয়ার্ধে ভক্তরা সত্যিই চমৎকার ছিলেন; তাদের উচ্ছ্বাস এবং সমর্থন দলের জন্য বড় প্রেরণা ছিল।” তিনি আরও যোগ করেন, “এটি আমার দায়িত্ব, আমি ভক্তদের হৃদয় জয় করার চেষ্টা করছি, এবং সময়ের সাথে তারা এটিকে ক্লাবের সেরা সিদ্ধান্ত হিসেবে স্বীকৃতি দেবে।” তার এই মন্তব্যে কোচের দায়িত্ববোধ এবং ভক্তদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার ইচ্ছা স্পষ্ট হয়েছে।
চেলসির ঐতিহ্য ও সাফল্যের কথা উল্লেখ করে রোজেনিয়র বলেন, “এটি গর্বের ক্লাব, যার সমৃদ্ধ ইতিহাস এবং ট্রফি জয়ের ঐতিহ্য রয়েছে। আমরা সবসময় সেরা ফলাফল চাই, আর আমি তা অর্জনে পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” তিনি নিজের লক্ষ্যকে ক্লাবের উচ্চ মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তুলে ধরেছেন।
ইতিহাসের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, চেলসি প্রথমবারের মতো অর্ধেকের সময় ২-০ পিছিয়ে থেকে প্রিমিয়ার লিগে জয় পেয়েছে। রোজেনিয়র এই রেকর্ডকে “বড় অর্জন” বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, “এমন শক্তিশালী দলকে পরাজিত করা সহজ নয়, তাই এই জয় আমাদের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।”
কোচের মতে, দলের পারফরম্যান্সে ইতিবাচক দিকের পাশাপাশি উন্নতির ক্ষেত্রও রয়েছে। তিনি বলেন, “দলটি দ্বিতীয়ার্ধে দেখানো আত্মা, মানসিকতা এবং শক্তি আমাকে অত্যন্ত আনন্দিত করেছে, তবে এখনও কিছু বিষয় আছে যেগুলোতে কাজ করা দরকার।” রোজেনিয়র স্পষ্টভাবে জানান যে তিনি দলের দুর্বল দিকগুলোকে স্বীকার করে সেগুলোকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা করছেন।
শেষে রোজেনিয়র তার নতুন ভূমিকায় আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, “চেলসির অংশ হতে পেরে আমি গর্বিত এবং এই ক্লাবের সঙ্গে কাজ করা আমার জন্য একটি বড় সম্মান।” তিনি ভবিষ্যতে আরও জয় এবং ট্রফি অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন, যা ভক্তদের আশা ও উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে।



