শুক্রবার রাত ৯ টায় টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে সরকারি গণ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় ঐক্যজোটের পথসভায় জাতীয় নাগরিক দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ভোটারদেরকে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও নগদ বিতরণে সতর্ক করার জন্য বক্তব্য রাখেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, কিছু দল কৃষকদের ঋণ মওকুফ এবং কৃষক কার্ডের মতো প্রলোভন দিয়ে ভোট অর্জনের চেষ্টা করছে, তবে এসব প্রস্তাবে পা দেওয়া উচিত নয়।
এই রালিতে উপস্থিত ১১টি দল একত্রে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে জাতীয় পর্যায়ে একটি ঐক্যবদ্ধ জোট গঠন করেছে। আসিফ মাহমুদ বলেন, শহীদ ওসমান হাদি হত্যার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি নিয়ে দলটি নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, শাপলা চত্বর ও বিডিআর গণহত্যার দায়ী অপরাধীদের বিচার দেশের মাটিতে সম্পন্ন হবে, যা দেশের ন্যায়বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বাড়াবে। এই প্রতিশ্রুতি জাতীয় নাগরিক দলের নির্বাচনী মঞ্চে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
আসিফ মাহমুদের মতে, ইশতেহারে বলা হয়েছে যে, সশস্ত্র বাহিনীর মতোই বেসামরিক তরুণ প্রজন্মের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে তারা নিজেরা আরও শক্তিশালী হতে পারে। তিনি এই প্রশিক্ষণকে দেশের নিরাপত্তা ও স্বনির্ভরতার একটি মূল উপাদান হিসেবে উল্লেখ করেন।
বৈধ প্রক্রিয়ার বাইরে নগদ টাকা বিতরণে সতর্কতা জানিয়ে তিনি বলেন, যদি ভোটাররা এই নগদ অর্থের বিনিময়ে নিজেদের বিক্রি করে নেয়, তবে ভবিষ্যতে তাদের স্বামী ও সন্তানদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে। এই ধরনের অর্থনৈতিক প্রলোভন ভোটারদের স্বার্থের ক্ষতি করতে পারে, এটাই তার মূল বার্তা।
জাতীয় নাগরিক দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়া নির্বাচনে ঘাটাইল বাসিন্দাদেরকে গণভোটে “হ্যাঁ” এবং শাপলা কলি প্রতীকে ভোট দিতে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এভাবে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
পথসভায় জামায়াত-এ-ইসলামি টাঙ্গাইল জেলা শাখার সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও অধ্যক্ষ হোসনি মোবারক বাবুল বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি জাতীয় নাগরিক দলের সঙ্গে ঐক্যের গুরুত্ব এবং দেশের উন্নয়নের জন্য যৌথ প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
এছাড়া ১১ দলীয় ঐক্যজোটের টাঙ্গাইল-৩ আসনের মনোনীত প্রার্থী সাইফুল্লাহ হায়দারও সমাবেশে অংশ নেন। তিনি ভোটারদেরকে দলের নীতি ও লক্ষ্য সম্পর্কে জানিয়ে ভোটের গুরুত্ব পুনরায় জোর দেন।
এই রালির মাধ্যমে জাতীয় নাগরিক দল নির্বাচনের আগে ভোটারদেরকে প্রলোভনমূলক প্রতিশ্রুতি থেকে দূরে থাকতে এবং ন্যায়বিচার, নিরাপত্তা ও স্বনির্ভরতা ভিত্তিক নীতিগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে আহ্বান জানিয়েছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই ধরনের সতর্কবার্তা ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে পারে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে। তবে নগদ বিতরণ ও প্রলোভনমূলক প্রতিশ্রুতির প্রভাব এখনও রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্য চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।
জাতীয় নাগরিক দল ও তার জোটের অন্যান্য সদস্যদের এই সমাবেশ ভোটারদের মধ্যে দলীয় নীতি ও লক্ষ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা তৈরি করার পাশাপাশি, নির্বাচনের পরবর্তী ধাপগুলোতে রাজনৈতিক গতি পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারে।



