মেলবোর্নের মেলবোর্ন পার্কে অনুষ্ঠিত অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের চূড়ান্ত ম্যাচে ২৬ বছর বয়সী কজাখস্তানীয় টেনিস তারকা এলেনা রিবাকিনা ৬-৪, ৪-৬, ৬-৪ স্কোরে বিশ্ব নম্বর এক আর্যনা সাবালেনকাকে পরাজিত করে শিরোপা জিতেছেন। এই জয় তার প্রথম অস্ট্রেলিয়ান ওপেন শিরোপা এবং ২০২২ সালের উইম্বলডন বিজয়ের পরের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম ট্রফি।
ফাইনালে রিবাকিনা বিজয়ী হয়ে উঁচু হাতে গর্বের চিহ্ন দেখালেন, সঙ্গে সঙ্গে তিনি মাথা নাড়িয়ে অবিশ্বাসের মিশ্রণ প্রকাশ করেন। তার এই প্রকাশনা তার দীর্ঘ সময়ের পর পুনরায় শীর্ষে ফিরে আসার সংকেত বহন করে।
রিবাকিনার এই সাফল্য তার পথে থাকা চ্যালেঞ্জকে অতিক্রমের ফল। তিনি পূর্বে বলেছিলেন, তিনি সবসময় বিশ্বাস করতেন যে তিনি আবার তার পূর্বের স্তরে ফিরে আসতে পারবেন, যদিও খেলায় ওঠা-নামা স্বাভাবিক। টিমের সমর্থন এবং ইতিবাচক মনোভাব তাকে কঠিন মুহূর্তে সাহায্য করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের পথে রিবাকিনা ধারাবাহিকভাবে শীর্ষ দশের খেলোয়াড়দের পরাজিত করে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে নেন। কোয়ার্টার ফাইনালে তিনি বিশ্ব নম্বর দুই ইগা শোয়াটেককে পরাজিত করেন, এরপর ষষ্ঠ সিড জেসিকা পেগুলাকে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছান। এই ধারাবাহিকতা তাকে ২০১৯ সালের পর প্রথমবারের মতো কুইন্টারফাইনাল থেকে প্রতিটি রাউন্ডে শীর্ষ দশের প্রতিপক্ষকে পরাজিত করে শিরোপা জিততে সক্ষম করে।
রিবাকিনার জয় তাকে আবার বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে তৃতীয় স্থানে ফিরিয়ে নিয়ে আসে, যা তিনি শেষবার সেপ্টেম্বর ২০২৪-এ অর্জন করেছিলেন। বর্তমানে তিনি শীর্ষ দশের খেলোয়াড়দের বিপরীতে ধারাবাহিক দশটি জয় রেকর্ড করেছেন, যা তার বর্তমান ফর্মের শক্তি প্রমাণ করে।
সাবালেনকা এবং শোয়াটেক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নারী টেনিসের শীর্ষে অবস্থান করে, ১৩টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম টুর্নামেন্টের মধ্যে আটটি জয় তাদেরই নামের ওপর। রিবাকিনার এই জয় তাদের আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করে এবং তার নিজের শীর্ষে ফিরে আসার সম্ভাবনা দেখায়।
ফাইনালের পর রিবাকিনা প্রকাশ করেছেন, বড় বড় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে জয় পাওয়া তার আত্মবিশ্বাসকে বাড়িয়ে দেয় এবং ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্যের পথে তাকে উৎসাহিত করে। তিনি টিমের সঙ্গে কঠোর প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাওয়ার গুরুত্বেও জোর দিয়েছেন।
অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের এই বিজয় রিবাকিনার ক্যারিয়ারে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, যা তাকে আবার গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা জয়ের পথে স্থাপন করেছে। তার এই সাফল্য টেনিস জগতে নতুন প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
রিবাকিনার পরবর্তী টুর্নামেন্টের সূচি এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের পর তার ফর্ম বজায় রাখলে তিনি শীঘ্রই ইউরোপীয় মৌসুমে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হতে পারেন।
সারসংক্ষেপে, রিবাকিনার অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জয় তার দীর্ঘ সময়ের পর শীর্ষে ফিরে আসার চিহ্ন এবং বিশ্ব টেনিস র্যাঙ্কিংয়ে তার অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে। তার ধারাবাহিক শীর্ষ দশের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে জয় তাকে ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্যের সম্ভাবনা দেয়।



