রাজশাহী শহরের খড়খড়ি কৃষি ব্যাংকের মোড় এলাকায় শনিবার রাত প্রায় ৯:৩০ টার দিকে এক পরিবারে হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেছে। ৫৫ বছর বয়সী সোহাগী বেগমকে তার ৪২ বছর বয়সী বড় ছেলে সুমন কুপিয়ে হত্যা করে, এরপর তার দেহকে রাস্তায় ফেলে দিয়ে অটো‑রিকশা ডাকার চেষ্টা করে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্রুত পুলিশকে জানায়, ফলে সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
সোহাগী বেগমের স্বামী আজিজুল ইসলাম পূর্বে মারা গেছেন; তার তিনটি সন্তান রয়েছে – দুই ছেলে ও এক মেয়ে, যার মধ্যে সুমন হলেন বড় ছেলে। প্রতিবেশীরা জানান, সুমন ওই রাতে মদ্যপ অবস্থায় ছিল এবং মায়ের কাছ থেকে নেশার টাকা চাওয়ার জন্য তার সঙ্গে বিরোধে লিপ্ত হয়। সূত্র অনুযায়ী, সুমন ধারালো কোনো বস্তু দিয়ে মায়ের পেট ও বুকে আঘাত করে, যার ফলে তার মৃত্যু ঘটে।
মৃতদেহের সঙ্গে সুমন প্রায় ১০০ মিটার দূরে রাস্তায় নিয়ে গিয়ে, অটো‑রিকশা ডেকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তবে রাস্তায় দেহটি শোয়ায় লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং হইচই শুরু হয়। এই সময়ে স্থানীয়রা সুমনের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর শুরু করে, ফলে পুলিশ উপস্থিতি জানার সঙ্গে সঙ্গে সন্দেহভাজন দ্রুত বাড়িতে ফিরে একটি ঘরের দরজা বন্ধ করে লক করে দেয়।
পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপে সুমনকে বাড়ি থেকে বের করে গ্রেফতার করা হয় এবং চন্দ্রিমা থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মৃতদেহটি স্থানীয় মর্গে পাঠিয়ে পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে মৃতদেহ পরীক্ষা (ময়নাতদন্ত) এর জন্য পাঠানো হয়।
চন্দ্রিমা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং সন্দেহভাজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে সুমনকে মাদকাসক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র গাজিউর রহমানও বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সন্দেহভাজন তার মাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে এবং স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়ে পুলিশে হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, মামলাটি যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অগ্রসর করা হবে এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত চালিয়ে যাবে।
প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থল থেকে শোনা যায়, সুমনের বাড়িতে রাত ৯টার দিকে উচ্চস্বরে সঙ্গীত বাজছিল এবং নেশার টাকা নিয়ে মা-সন্তানের মধ্যে তর্কের সূত্রপাত হয়। তারা বিশ্বাস করেন, মায়ের অস্বীকারের পর সুমন হিংসাত্মক পথে গিয়ে তার মাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে।
এই ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে মৃতদেহের সঠিক পরীক্ষা নিশ্চিত করেছে এবং সন্দেহভাজনকে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের হিংসা রোধে সামাজিক ও পারিবারিক সমস্যার সমাধানে সচেতনতা বৃদ্ধি ও মাদকদ্রব্যের অবৈধ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হবে।



