মাদারওয়েল লিভিংস্টনকে ঘরে ২-০ পরাজিত করে শীর্ষে ফিরে আসার পথে অগ্রসর হয়েছে। জিম্বাবুয়েতে জন্মগ্রহণকারী আন্তর্জাতিক টাওয়ান্ডা মাসওয়ানহিসে শুরুর ছয় মিনিটে হেডার দিয়ে প্রথম গোল করেন, আর অর্ধঘণ্টার কাছাকাছি আরেকটি গোলের মাধ্যমে দলকে দু’গোলে এগিয়ে নেন। এই জয়টি মাদারওয়েলকে কেল্টিকের পেছনে ঘনিষ্ঠভাবে রাখে, যখন লিভিংস্টন টেবিলের নিচের দিকে আটকে আছে।
মাসওয়ানহিসের প্রথম গোলটি ছিল লম্বা লুপিং হেডার, যা গার্ডের উপরে দিয়ে নেটের পিছনে গিয়ে গন্তব্যে পৌঁছায়। প্রায় ত্রিশ মিনিটে তিনি বামফ্ল্যাঙ্ক থেকে কৌণিক শট দিয়ে আবার স্কোর বাড়িয়ে দেন, যা গার্ডের রক্ষাকারীকে অপ্রস্তুত রাখে। দু’টি গোলের পরেও তিনি অতিরিক্ত একবার গোল করার সুযোগ পান, তবে শেষ মুহূর্তে শটটি কাঠের ফ্রেমে আঘাত করে ফিরে আসে।
লিভিংস্টনের তরফ থেকে এলিজাহ জাস্টের শটটি কাঠের ফ্রেমে আঘাত করে ফিরে আসে, যা ম্যাচের প্রবাহে মাদারওয়েলের আধিপত্যকে আরও দৃঢ় করে। ম্যাচের অধিকাংশ সময়ে মাদারওয়েল বলের দখল বজায় রাখে এবং আক্রমণাত্মকভাবে চাপ দেয়, ফলে লিভিংস্টনের প্রতিরক্ষা বেশ কিছুবার বিপন্ন হয়। তবে শেষ পর্যন্ত লিভিংস্টন কোনো গোল করতে পারেনি, ফলে দু’গোলের পার্থক্যে পরাজিত হয়।
অন্যদিকে, ১১তম স্থানে থাকা কিলমার্নক রাগবি পার্কে এবরডিনকে ৩-০ পরাজিত করে টেবিলের নিচের দিক থেকে ছয় পয়েন্ট দূরে সরে যায়। প্রথম গোলটি ব্র্যাড লায়ন্সের হেডার দিয়ে আসে, যা দ্রুতই ব্রুস অ্যান্ডারসনের সঠিক ফিনিশে রূপান্তরিত হয়। দু’টি গোলের পরেই এবরডিনের ক্যাপ্টেন গ্রেম শিনি উচ্চ চ্যালেঞ্জের জন্য সরাসরি লাল কার্ড পান, যা তাদের রক্ষণে বড় ফাঁক তৈরি করে।
শিনির রেড কার্ডের পরপরই টায়রিস জন-জুলেস তৃতীয় গোলের মাধ্যমে স্কোর বাড়িয়ে এবরডিনের পরাজয়কে চূড়ান্ত করে। শিনির বহিষ্কারের ফলে এবরডিনের আক্রমণাত্মক বিকল্প সীমিত হয়ে যায়, আর কিলমার্নক দ্রুতই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হয়। এই জয়টি কিলমার্নককে টেবিলের নিচের দল থেকে দূরে সরিয়ে দেয় এবং তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।
সেইসাথে, সেন্ট মিরেন এবং ডানডি লভ স্ট্রিটে শূন্য-শূন্য ড্র নিয়ে শেষ হয়। উভয় দলই গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারলেও শেষ পর্যন্ত কোনো গোল করতে পারেনি। ম্যাচটি দু’দলের জন্যই রক্ষণাত্মক দিক থেকে মূল্যবান অভিজ্ঞতা প্রদান করেছে, যদিও পয়েন্টের দিক থেকে দুজনেই সন্তোষজনক ফল পায়নি।
শুক্রবার রাতের পরবর্তী রাউন্ডে শীর্ষে থাকা হার্টস ডানডি ইউনাইটেডের মুখোমুখি হবে, যা রেঞ্জার্সের তুলনায় চার পয়েন্টের সুবিধা বাড়ানোর লক্ষ্য রাখে। রেঞ্জার্সের পরের ম্যাচে হিবার্নিয়ানের বিরুদ্ধে গেম শুরু হবে, আর কেল্টিকের পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হবে ফাল্কির্ক। উভয় দলই পুরনো ফরমে ফিরে আসতে চায় এবং লিগের শীর্ষে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে চায়।
মাদারওয়েলের এই জয় এবং কিলমার্নকের জয় উভয়ই লিগের নিচের দিকের দলগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সঙ্কেত বহন করে। মাদারওয়েল এখন কেল্টিকের পেছনে ঘনিষ্ঠভাবে অবস্থান করে, আর কিলমার্নক টেবিলের নিচের দিক থেকে দূরে সরে গিয়ে পরবর্তী ম্যাচে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলতে পারে। লিগের পরবর্তী রাউন্ডে শীর্ষ দলে থাকা দলগুলোও তাদের গতি বজায় রাখার জন্য কঠোর প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হবে।



