থিরুভানান্থাপুরামে অনুষ্ঠিত শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ভারত এ নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে নতুন রেকর্ড গড়ে তুলেছে। ইশান কিষাণ ও সূর্যকুমার যাদব দুজনের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দলকে ২৭১ রানের বিশাল টোটাল অর্জনে সাহায্য করে। এই জয় সিরিজের সমাপ্তি চিহ্নিত করে এবং বিশ্ব রেকর্ডে নতুন নাম যুক্ত করে।
ইশান কিষাণ এই ফরম্যাটে প্রথমবারের মতো শতকোটি পার করেন। মাত্র ৪৩ বলের মধ্যে তিনি ১০৩ রান সংগ্রহ করেন, যার মধ্যে ছয়টি চার এবং দশটি ছক্কা রয়েছে। তার এই পারফরম্যান্স টিমের শীর্ষ স্কোরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সূর্যকুমার যাদবও দ্রুত গতি বজায় রেখে ৩০ বলে ৬৩ রান যোগ করেন। তিনি চারটি চার এবং ছয়টি ছক্কা মারেন, যা কিষাণের সঙ্গে মিলিয়ে তৃতীয় উইকেটে ১৩৭ রানের শক্তিশালী জুটি গড়ে। এই অংশীদারিত্ব মাত্র দশের বেশি ওভারে সম্পন্ন হয়, যা টিমের আক্রমণাত্মক স্বরকে আরও তীব্র করে।
ইনিংসের শেষ পর্যায়ে ভারত এ মোট সাতটি ছক্কা মারার মাধ্যমে সিরিজে ছক্কার সংখ্যা বাড়িয়ে ৬৯টি করেছে। এটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজে সর্বোচ্চ ছক্কার সংখ্যা, পূর্বের রেকর্ড ২০২৩ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৬৪টি ছক্কা ছিল।
এই ম্যাচে একক ইনিংসে ২৩টি ছক্কা গোনা যায়, যা কোনো টেস্ট দেশের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ছক্কার সংখ্যা। ২০২৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা ভারত এ বিপক্ষে ২৩টি ছক্কা মারলেও, এই রেকর্ড এখনো অটুট।
ভারত এ মোট পাঁচটি উইকেট নিয়ে ২৭১ রান সংগ্রহ করে। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে টেস্ট দেশের বিপক্ষে এই স্কোর পঞ্চম সর্বোচ্চ, যার শীর্ষে গত বছর ইংল্যান্ডের ৩০৪ রান রয়েছে, যা দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে গৃহীত হয়েছিল।
সিরিজের মোট ছক্কা সংখ্যা এবং একক ইনিংসের ছক্কা রেকর্ডের পাশাপাশি, টিমের ব্যাটিং গতি ও রণ প্রবাহও বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। দ্রুত স্কোরিং এবং উচ্চ রেটের ছক্কা মারার ক্ষমতা ভারত একে আধুনিক টি-টোয়েন্টি দলের শীর্ষে রাখে।
কোচিং স্টাফের মতে, এই পারফরম্যান্স দলকে আত্মবিশ্বাসের নতুন স্তরে নিয়ে গেছে এবং পরবর্তী ম্যাচে একই ধারায় চলা গুরুত্বপূর্ণ। যদিও ম্যাচের পরিসংখ্যানই প্রধান বিষয়, তবে খেলোয়াড়দের মানসিক প্রস্তুতি ও কৌশলগত পরিকল্পনা রেকর্ড ভাঙার পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেছে।
সিরিজের পরবর্তী ম্যাচে ভারত এ আবারও নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে মুখোমুখি হবে, যেখানে দু’দলই রেকর্ড ভাঙার ইচ্ছা নিয়ে মাঠে নামবে। টিমের ব্যাটিং লাইনআপে কিষাণ ও যাদবের ধারাবাহিকতা বজায় রাখলে আরও উচ্চ স্কোরের সম্ভাবনা রয়েছে।
এই রেকর্ডগুলো ক্রিকেটের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ করেছে এবং ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে ছক্কা সংখ্যার প্রতিযোগিতা তীব্র হবে বলে আশা করা যায়। ক্রিকেট প্রেমিকরা এখন এই রেকর্ডকে কীভাবে ভাঙবে তা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাবে।
সারসংক্ষেপে, থিরুভানান্থাপুরামের শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ভারত এ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২৭১/৫ স্কোরে জয় অর্জন করে ছক্কা রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস রচনা করেছে। কিষাণের শতকোটি, যাদবের দ্রুত স্কোরিং এবং দলগত ছক্কা আক্রমণই এই সাফল্যের মূল চালিকাশক্তি।



