মিনিয়াপলিস, মিনেসোটা-তে শনিবার ফেডারেল জেলা আদালতের বিচারক ক্যাথরিন মেনেন্ডেজ মিনেসোটা রাজ্যের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) তীব্রতা বন্ধের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন দ্বারা হাজার হাজার ফেডারেল ইমিগ্রেশন এজেন্টের ত্বরিত মোতায়েনকে রাজ্য অবৈধ বলে দাবি করা হলেও আদালত তা সমর্থন করতে পারেনি।
মেনেন্ডেজ বিচারক রায়ে উল্লেখ করেন যে এই ইমিগ্রেশন প্রয়োগের ফলে মিনেসোটা রাজ্যের ওপর গভীর ও হৃদয়বিদারক প্রভাব পড়েছে এবং ভবিষ্যতেও এমন প্রভাব অব্যাহত থাকতে পারে। তিনি বলেন, সামাজিক অস্থিরতা, সম্প্রদায়ের মধ্যে অবিশ্বাস এবং আইনি জটিলতা এই ধরনের তীব্রতা থেকে উদ্ভূত হওয়া প্রধান সমস্যাগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।
তবে তিনি যুক্তি দেন যে রাজ্য কর্তৃপক্ষ যথাযথ প্রমাণ উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছে যে এই এজেন্টদের উপস্থিতি আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে অবৈধ। সুতরাং আদালত কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপে অক্ষম রয়ে যায় এবং বর্তমান মোতায়েন অব্যাহত থাকবে।
এই রায়ের সময় সারা দেশে ফেডারেল এজেন্টের হাতে দুইজন নাগরিকের মৃত্যুর প্রতিবাদে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে, এবং জনমত তীব্রভাবে উত্তেজিত হয়েছে। রেনি গুড এবং অ্যালেক্স প্রেট্টি নামে দুইজনের গুলি চালিয়ে নিহত হওয়া ঘটনায় সামাজিক ন্যায়বিচার ও ফেডারেল ক্ষমতার সীমা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
শুক্রবার নিউ ইয়র্ক, লস এঞ্জেলেস, শিকাগো এবং ওয়াশিংটন ডিসি সহ বেশ কয়েকটি শহরে প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হয়, এবং শনিবার বিকেলে মিনিয়াপলিসে আরও বিশাল সমাবেশের আশা করা হচ্ছে। প্রতিবাদ সংগঠকরা কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের কাজ ও বিদ্যালয় থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে ফেডারেল নীতি পরিবর্তনের জন্য চাপ সৃষ্টি করা যায়।
রেনি গুডের মৃত্যু ৭ জানুয়ারি ঘটেছিল, যখন তিনি ICE এজেন্টের গুলিতে নিহত হন; অ্যালেক্স প্রেট্টি, ৩৭ বছর বয়সী নার্স, একই বছর পরে একই শহরে গুলি চালিয়ে মারা যান। প্রেট্টি হলেন দ্বিতীয় ব্যক্তি, যিনি মিনেসোটা-তে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অফিসারদের হাতে গুলি চালিয়ে মারা গেছেন, এবং তার মৃত্যুর পর ফেডারেল নীতি নিয়ে পুনর্বিবেচনার দাবি তীব্রতর হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যায়বিচার বিভাগ শুক্রবার অ্যালেক্স প্রেট্টির মৃত্যুর ওপর একটি নাগরিক অধিকার তদন্ত শুরু করেছে, যা ফেডারেল এজেন্টদের কাজের বৈধতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সম্ভাবনা যাচাই করার উদ্দেশ্যে গৃহীত হয়েছে। এই তদন্তের ফলাফল ভবিষ্যতে ফেডারেল ও রাজ্য সরকারের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মেনেন্ডেজ বিচারক রায়ে উল্লেখ করেন যে ICE ও কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (CBP) এজেন্টদের দ্বারা জাতিগত প্রোফাইলিং, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ এবং অন্যান্য ক্ষতিকারক আচরণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, এ ধরনের আচরণ আইনগতভাবে অনুমোদিত নয় এবং জনসাধারণের আস্থা ক্ষয় করে, যা দীর্ঘমেয়াদে আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা হ্রাস করতে পারে।
অন্যদিকে তিনি উল্লেখ করেন যে রাজ্য কর্তৃপক্ষ কোনো স্পষ্ট মানদণ্ড উপস্থাপন করেনি যার মাধ্যমে বৈধ আইন প্রয়োগকে অবৈধ দখল হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। এই ঘাটতি রায়ে রাজ্যের দাবিকে দুর্বল করে তুলেছে এবং আদালতকে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে যে বর্তমান মোতায়েন অবৈধ নয়।
মিনেসোটা সরকার দাবি করে যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ৩,০০০ ইমিগ্রেশন এজেন্টকে রাজ্যের আপত্তি সত্ত্বেও পাঠানো রাজ্যের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন। তারা যুক্তি দেয় যে এই বৃহৎ মোতায়েনকে রাজ্যীয় আইন ও নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না বলে গণ্য করা উচিত এবং ফেডারেল হস্তক্ষেপের সীমা নির্ধারণে স্পষ্ট নির্দেশনা প্রয়োজন।
শুক্রবারের প্রতিবাদকে ‘ন্যাশনাল শাটডাউন’ নামে চিহ্নিত করে সংগঠকরা ৩০ তারিখে কাজ, স্কুল ও শপিং বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন, এবং এই আহ্বান দেশের বিভিন্ন অংশে অনুসরণ করা হয়েছে। এই ধরনের সমন্বিত কর্মসূচি ফেডারেল নীতি পরিবর্তনের জন্য জনমতকে একত্রিত করার একটি কৌশল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে এই রায়ের পর ফেডারেল ও রাজ্য সরকারের মধ্যে আইনি লড়াই বাড়তে পারে, এবং ভবিষ্যতে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণের দাবি উত্থাপিত হতে পারে। মিনেসোটা-র স্বায়ত্তশাসন রক্ষার জন্য রাজ্য নতুন আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা ফেডারেল ইমিগ্রেশন নীতির ওপর পুনর্বিবেচনা এবং সম্ভাব্য সীমাবদ্ধতা আরোপের দিকে ইঙ্গিত করে।



