প্রিমিয়ার লিগের একটি উত্তেজনাপূর্ণ মুখোমুখি ম্যাচে এভারটন এবং ব্রাইটন ২-২ স্কোরে সমাপ্ত হয়েছে। বেটো পরিবর্তন খেলোয়াড় হিসেবে প্রবেশ করে অতিরিক্ত সময়ের সপ্তম মিনিটে সমানগোল করেন, ফলে এভারটনের ২০১৯ সাল থেকে এই মাঠে অজয় রেকর্ড বজায় থাকে। ম্যাচের প্রথমার্ধে ব্রাইটন বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও পাসক্যাল গ্রসের গোলই দলকে সাময়িকভাবে এগিয়ে নিয়ে যায়।
ব্রাইটনের আক্রমণাত্মক চাপের পরেও এভারটন রক্ষায় দৃঢ় থাকে এবং প্রথমার্ধের শেষে স্কোর ১-১ থাকে। দ্বিতীয়ার্ধে উভয় দলে সুযোগের ঘাটতি দেখা গেল, তবে অতিরিক্ত সময়ে বেটোর সমানগোলের মুহূর্তই ম্যাচের রঙ বদলে দেয়।
বেটোর গোলের পর ৬৩ বছর বয়সী এভারটনের প্রধান কোচ ডেভিড ময়েস মাঠে দৌড়ে গিয়ে উল্লাসে মেতে উঠেন। তিনি আনন্দের সঙ্গে বললেন, তিনি আবারও এমন উদযাপন করবেন, যদিও তা তাকে হলুদ কার্ডের ঝুঁকি এনে দিতে পারে। ময়েসের এই উদ্দীপনা দর্শকদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি করে।
ব্রাইটনের খেলোয়াড়রা গোলের পর হতাশায় মাটিতে নেমে যায়, তাদের মুখে নিঃশ্বাসের ঘাটতি স্পষ্ট। দলটি সাম্প্রতিক সময়ে দুর্বল ফর্ম দেখাচ্ছে; গত শনিবারের ফুলহ্যামের পরাজয়ের পর থেকে মাত্র একটি জয় অর্জন করেছে এবং ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার স্বপ্ন ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে।
স্টেডিয়ামের ভিড়ের কিছু অংশ রেফারি ক্রিস কাভানাহের দিকে তাড়া করে চিৎকার করে, কারণ তিনি ছয় মিনিটের অতিরিক্ত সময়ের চেয়ে বেশি সময় যোগ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ব্রাইটনের কোচ ফ্যাবিয়ান হুর্জেলার রেফারির ওপর দোষারোপ না করলেও, তিনি লুইস ডাঙ্কের শেষ ক্রস পরিষ্কার করতে ব্যর্থ হওয়ায় গভীর হতাশা প্রকাশ করেন।
ময়েসের উদযাপনের পরেও এভারটনের অপ্রতিদ্বন্দ্বিত রেকর্ড অক্ষুন্ন থাকে, যা ২০১৯ সাল থেকে এই স্টেডিয়ামে তাদের জয় বা ড্র রেকর্ডকে নির্দেশ করে। এই ফলাফল দলকে পরবর্তী ম্যাচে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয়।
ব্রাইটনের জন্য এই সমানগোলের পরিণতি দুঃখজনক, কারণ তারা এখনো ইউরোপীয় টুর্নামেন্টের জন্য প্রয়োজনীয় পয়েন্ট সংগ্রহে পিছিয়ে রয়েছে। দলটি ভবিষ্যতে কীভাবে তাদের ফর্ম পুনরুদ্ধার করবে, তা এখনই প্রশ্নের মুখে।
এভারটন এবং ব্রাইটনের এই ম্যাচের শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা এবং উভয় দলের কোচের মন্তব্য ভবিষ্যৎ গেমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত প্রদান করে, যেখানে প্রতিটি পয়েন্টের গুরুত্ব অপরিসীম।



