শনি রাত্রে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের মুক্তিযুদ্ধ‑ভিত্তিক সংকলন ‘রক্তরেখা বাংলাদেশ’ এর দ্বিতীয় খণ্ডের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে জুলিয়ান ফ্রান্সিস মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় ভুয়া নামের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারী ভাতা পাওয়ার উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত নাম যুক্ত করা হয়েছে, যার ফলে প্রকৃত বীরদের নামের মর্যাদা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
ফ্রান্সিসের মতে, এই প্রক্রিয়ায় এমন কিছু ব্যক্তি সুবিধা পেয়েছেন, যাদের ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় বয়সও ছিল না। ফলে সমাজে একটি ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে, পুরো মুক্তিযোদ্ধা সম্প্রদায় বা তার বড় অংশই সম্ভবত ভুয়া। তিনি এটিকে একটি বড় ট্র্যাজেডি হিসেবে বর্ণনা করেন, কারণ এখনও অনেক বীর বেঁচে আছেন এবং এই পরিস্থিতি তাদের গভীর বেদনা দিচ্ছে।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের এই সংকলনটি বহু‑মাত্রিক মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে তিন খণ্ডে উপস্থাপন করার লক্ষ্যে তৈরি। প্রথম খণ্ড ‘রক্তরেখা বাংলাদেশ – অন্তহীন যুদ্ধ: গৌরব, বেদনা আর শিকড়ের ইতিহাস’ বিজয় দিবসে প্রকাশিত হয়, যা যুদ্ধের গৌরব ও কষ্টকে একত্রে তুলে ধরেছে।
দ্বিতীয় খণ্ডটি ৩১ জানুয়ারিতে প্রকাশিত হয় এবং তৌফিক ইমরোজ খালিদী প্রধান সম্পাদক এর সম্পাদনা দায়িত্বে আছেন। এই খণ্ডে মুক্তিযুদ্ধের পূর্ববর্তী ঘটনাবলী, যুদ্ধের গঠনমূলক বিশ্লেষণ এবং বীরদের ব্যক্তিগত গল্পকে সমন্বিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে ফ্রান্সিসের পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধা ও আলোকচিত্রী শফিকুল ইসলাম স্বপন, লেখক ফেরদৌসী হক লিনু (লিনু হক) এবং শহীদ বুদ্ধিজীবী ও চলচ্চিত্রকার জহির রায়হানের পুত্র তপু রায়হান উপস্থিত ছিলেন। সকল অতিথি সংকলনের গুরুত্ব ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকে সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে মতবিনিময় করেন।
জুলিয়ান ফ্রান্সিসের বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব যুদ্ধের শুরুর দিন থেকে। তখন তিনি ২৫ বছর বয়সী ছিলেন এবং অক্সফামের কর্মী হিসেবে ভারতের বিহার রাজ্যে কাজ করতেন। শিবিরে শরণার্থী বাংলাদেশি মানুষের জন্য ত্রাণ সমন্বয়কারী হিসেবে তিনি বিশাল ভূমিকা পালন করেন, যা তার দেশের প্রতি গভীর সমর্থনকে প্রকাশ করে।
সংকলন সম্পর্কে ফ্রান্সিস বলেন, এই বইটি বিশেষভাবে বিশদ এবং পূর্বের প্রকাশনাগুলোর তুলনায় অধিক তথ্যবহুল। তিনি উল্লেখ করেন, অনেক বইতে ১৯৭১ সালের পূর্বের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের অভাব রয়েছে, যেখানে এই সংকলন ঐসব ফাঁক পূরণ করে। ফলে পাঠকরা মুক্তিযুদ্ধের পূর্ণ চিত্র দেখতে পারবেন, যা দেশের ইতিহাসের পুনর্নির্মাণে সহায়ক হবে।
ফ্রান্সিসের মন্তব্য ও সংকলনের প্রকাশ একসঙ্গে দেশের মুক্তিযোদ্ধা সম্প্রদায়ের আত্মবিশ্বাস পুনর্স্থাপন এবং ভুয়া নামের সমস্যাকে সমাধানের দিকে একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে সরকারী তালিকায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, বীরদের মর্যাদা রক্ষা করা এবং ইতিহাসের সঠিক বর্ণনা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের সত্যিকারের বীরদের সম্মান রক্ষা করা এবং নতুন প্রজন্মকে সঠিক ঐতিহাসিক জ্ঞান প্রদান করা সম্ভব হবে।



