নিখিল অদভানি ফেব্রুয়ারি শেষে তার নতুন সিরিজ “দ্য রেভলিউশনারিস” শুটিং শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যা আমাজনের প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত হবে। সিরিজটি ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের নায়ক ভগৎ সিংসহ অন্যান্য বিপ্লবীদের জীবন ও আদর্শকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠবে। এই প্রকল্পটি তার প্রযোজনা সংস্থা এমমে এন্টারটেইনমেন্টের নতুন উদ্যোগের অংশ, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দর্শকের কাছ থেকে প্রশংসা পেয়েছে।
গত বছর নভেম্বর মাসে অদভানি এবং তার দল “ফ্রিডম অ্যাট মিডনাইট” শিরোনামের সিরিজ প্রকাশ করে বড় সাড়া পেয়েছিল। একই নামের বইটি ডমিনিক লাপিয়ের ও ল্যারি কলিন্স রচিত, এবং সিরিজটি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ গতি‑প্রকৃতি ও মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহেরু, সারদার ভ্যালাভভাই পাটেলসহ অন্যান্য নেতাদের ভূমিকা তুলে ধরেছে।
অদভানি শুটিং শুরু হওয়ার আগে ইতিমধ্যে এমমে এন্টারটেইনমেন্টের পোর্টফোলিওতে কয়েকটি চলচ্চিত্র ও সিরিজের পরিকল্পনা রয়েছে। “ফ্রিডম অ্যাট মিডনাইট” এর সিজন দুইও শীঘ্রই দর্শকের সামনে আসবে বলে জানানো হয়েছে। এই ধারাবাহিক প্রকল্পগুলো একসাথে সংযোজিত হয়ে সংস্থার কন্টেন্ট লাইনে নতুন প্রাণ সঞ্চার করবে।
অদভানির কাজের পেছনের মূল মানদণ্ড বক্স অফিসের আয় নয়, বরং এমন গল্প বলা যা আগে কেউ না বলে থাকে এবং যা বলা কঠিন। তিনি উল্লেখ করেন, “ফ্রিডম অ্যাট মিডনাইট, রকেট বয়স, মিসেস চ্যাটার্জি ভি নরওয়ে” সবই এমন বিষয় যা অধিকাংশ নির্মাতা এড়িয়ে যায়, তাইই এগুলোতে তার আকর্ষণ থাকে। এই দৃষ্টিভঙ্গি তাকে স্বতন্ত্র কন্টেন্ট তৈরি করতে উদ্বুদ্ধ করে।
এছাড়াও, অদভানি নেটফ্লিক্সে সাইফ আলি খানসহ একটি চলচ্চিত্রের পরিকল্পনা করছিলেন, যা অভিনেতার ওপর সাম্প্রতিক আক্রমণের পর স্থগিত করা হয়েছে। তিনি জানান, সাইফের সঙ্গে তার যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে প্রকল্পটি পুনরায় চালু হবে।
অদভানি আরও উল্লেখ করেন, তিনি সাইফ আলি খান, অক্ষয় কুমার, রক্ষা, অভিষেক বচ্চন এবং রানি মুখার্জি সহ বহু শীর্ষ শিল্পীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন। যদিও সব সময় একসাথে কাজ না করলেও, নতুন বিষয়ের সন্ধানে এই সংযোগগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বহু বছর ধরে বলিউডের বক্স অফিসের অবস্থা তীব্র চ্যালেঞ্জের মুখে। গত বছর “স্কাই ফোর্স” ছাড়া বেশিরভাগ ছবি প্রত্যাশিত ফলাফল দিতে পারেনি, এবং এই বছরও একই ধারা বজায় রয়েছে। অদভানি এই প্রবণতা সম্পর্কে মন্তব্য করে বলেন, শিল্পের উন্নতি কেবলমাত্র বড় তারকাদের উপস্থিতি নয়, বরং বিষয়বস্তুর গুণগত মানের ওপর নির্ভরশীল।
তার মতে, দর্শকরা এখন এমন কন্টেন্ট চান যা তাদের নতুন দৃষ্টিকোণ দেয় এবং ইতিহাসের গভীরতা তুলে ধরে। তাই “দ্য রেভলিউশনারিস” এর মতো প্রকল্পগুলোকে তিনি ভবিষ্যৎ চলচ্চিত্রের দিকনির্দেশনা হিসেবে দেখেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সিরিজটি স্বাধীনতা সংগ্রামের সত্যিকারের চিত্র তুলে ধরে নতুন প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেমের সঞ্চার করবে।
শুটিং শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে টিমটি ঐতিহাসিক স্থান ও প্রাসঙ্গিক পটভূমি পুনর্নির্মাণে মনোযোগ দেবে, যাতে দর্শকের কাছে বাস্তবিক অভিজ্ঞতা প্রদান করা যায়। প্রযোজনার দল প্রাচীন নথিপত্র, পুরনো ফটোগ্রাফ এবং ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ ব্যবহার করে দৃশ্যপটকে যতটা সম্ভব সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে চায়।
অদভানি এবং তার সংস্থার পরিকল্পনা অনুযায়ী, “দ্য রেভলিউশনারিস” শীঘ্রই আমাজনের লাইব্রেরিতে যুক্ত হবে এবং দর্শকরা স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে তা উপভোগ করতে পারবে। একই সঙ্গে “ফ্রিডম অ্যাট মিডনাইট” এর সিজন দুইও একই প্ল্যাটফর্মে প্রকাশের জন্য প্রস্তুত। এই দু’টি প্রকল্প একসাথে বলিউডের কন্টেন্টের বৈচিত্র্য বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শেষে, অদভানি বলছেন, তিনি সবসময় নতুন ও চ্যালেঞ্জিং বিষয়ের সন্ধানে থাকবেন, যাতে দর্শকের কাছে তাজা ও মানসম্মত কন্টেন্ট পৌঁছে যায়। তার এই দৃষ্টিভঙ্গি এবং পরিকল্পনা ভবিষ্যতে আরও সমৃদ্ধ সিরিজ ও চলচ্চিত্রের জন্ম দেবে, যা ইতিহাসকে আধুনিক দৃষ্টিতে পুনর্গঠন করবে।



