বিগ বসের ১৮তম সিজনে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হওয়ার পর আশনীর গ্রোভার, ভারতপের প্রাক্তন প্রতিষ্ঠাতা, সালমান খানের সঙ্গে তীব্র বিতর্কে লিপ্ত হন। গ্রোভার নিট করুকশেত্রার ছাত্রদের সঙ্গে একটি সেমিনারে এই ঘটনার বিশদ তুলে ধরেন। তিনি জানান, শোতে সালমান খান তার পূর্বের মন্তব্যের ভিত্তিতে গরিমা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, যা তিনি অপ্রয়োজনীয় নাটক হিসেবে বিবেচনা করেন।
আশনীর গ্রোভার ২০২২ সালে বিগ বসে উপস্থিত হন, যেখানে তিনি শোয়ের হোস্ট সালমান খানের সঙ্গে সরাসরি মুখোমুখি হন। গরিমা নিয়ে আলোচনার সময় সালমান খান গ্রোভারকে তার পূর্বের ফটো সুযোগের দাবি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। গ্রোভার পূর্বে একটি পডকাস্টে উল্লেখ করেছিলেন যে তিনি সালমান খানের সঙ্গে ছবি তোলার সুযোগ পেতে পারছিলেন না।
শোয়ের সরাসরি আলোচনায় সালমান খান গ্রোভারকে স্মরণ করিয়ে দেন যে তিনি তার নাম জানেন না, তবু তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। গ্রোভার এই মন্তব্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বলেন, যদি নাম না জানা থাকে তবে কেন ডাকা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, শোয়ের জন্য নাটক তৈরি করা এবং দর্শকের মনোযোগ বাড়ানোর উদ্দেশ্য স্পষ্ট।
নিট করুকশেত্রার ছাত্রদের সঙ্গে তার কথোপকথনে গ্রোভার বলেন, তিনি শোতে শান্তভাবে উপস্থিত হয়েছিলেন এবং কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলার উদ্দেশ্য ছিল না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সালমান খান তার সঙ্গে কখনো সরাসরি সাক্ষাৎ করেননি, তবু তাকে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। গ্রোভার দাবি করেন, তার কোম্পানির সব সিদ্ধান্ত তারই অনুমোদন ছাড়া নেওয়া হয়নি।
গ্রোভার আরও উল্লেখ করেন, সালমান খান টিআরপি বাড়াতে অপ্রয়োজনীয় নাটক তৈরি করছেন এবং নিজেকে গ্যাংস্টার হিসেবে উপস্থাপন করছেন। তিনি বলেন, এই ধরনের আচরণ দুর্বল দর্শকদের সামনে দুর্বলতা প্রকাশ করে। গ্রোভার তার মন্তব্যকে সামাজিক মিডিয়ায় শেয়ার করেন, যেখানে তিনি সালমান খানের চরিত্রকে ‘কাউয়ার্ড’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
সালমান খানের শোতে প্রতিক্রিয়া ছিল, তিনি গ্রোভারকে জানিয়ে দেন যে ভুল ধারণা তৈরি করা ঠিক নয় এবং তা শেষ পর্যন্ত নিজের ওপর ফিরে আসে। তিনি গ্রোভারকে স্মরণ করিয়ে দেন যে তিনি তার নাম জানতেন না, তবে গ্রোভার যে ভিডিওটি দেখেছিলেন তা দেখে তার মুখের চেহারা সম্পর্কে মন্তব্য করেন।
এই বিতর্কের মূল সূত্র ২০২৩ সালে গ্রোভার যে ভাগেহরা ভাগেহরা পডকাস্টে ফটো সুযোগের দাবি তুলে ধরেছিলেন, তা থেকে উঠে আসে। শোতে সালমান খান সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, গ্রোভারকে ভুল ধারণা দেওয়া ঠিক নয়। উভয় পক্ষের মন্তব্য শোয়ের পর দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে।
বিগ বসের এই পর্বের পর থেকে গ্রোভার এবং সালমান খান এর মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। গ্রোভার দাবি করেন, শোয়ের জন্য তৈরি করা নাটক তার ব্যবসায়িক সুনামকে প্রভাবিত করেছে। অন্যদিকে সালমান খান শোয়ের স্বাভাবিক বিনোদনমূলক দিককে রক্ষা করেন।
এই ঘটনার পর মিডিয়া বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেন, বিগ বসের মতো রিয়েলিটি শোতে অতিথিদের সঙ্গে তীব্র বিতর্ক প্রায়ই শোয়ের রেটিং বাড়াতে সহায়তা করে। তবে গ্রোভার এবং সালমান খানের মধ্যে এই মতবিরোধের ফলে শোয়ের নৈতিক দিক নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
বিগ বসের এই পর্ব এবং গ্রোভার ও সালমান খানের কথোপকথন বিনোদন জগতের এক নতুন আলোচনার সূচনা করেছে, যেখানে শোয়ের ট্র্যাফিক বাড়াতে নাটকীয়তা ব্যবহার করা নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য কি না, তা নিয়ে মতবিনিময় চলছে।



