ইন্টারিম সরকার দু’সপ্তাহের মধ্যে শেষের দিকে পৌঁছেছে, তবে আর্থিক খাতের তদারকি শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ দুইটি ব্যাংক সংস্কার আইন এখনও পার্লামেন্টে অনুমোদিত হয়নি। এই আইনগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন এবং ব্যাংকের মালিকানা‑গভর্নেন্স সংক্রান্ত, যা জুলাই ২০২৪-এ ঘটিত উত্থানের পর সরকারী প্রতিশ্রুতির শীর্ষে ছিল।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন বাড়ানোর পক্ষে সওয়াল করেছে এবং তার $৫.৫ বিলিয়ন ঋণ প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে সংশোধনী খসড়া তৈরিতে প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করেছে। তবে সংশোধনী খসড়া এখনো অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায়, যদিও বাংলাদেশ ব্যাংক মাসের পর মাস আগে থেকেই এগুলো জমা দিয়ে জাতীয় নির্বাচন (১২ ফেব্রুয়ারি) আগে পাসের আহ্বান জানিয়েছে।
ইন্টারিম সরকার এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি ব্যাংক‑সংক্রান্ত আইন কার্যকর করেছে: ব্যাংক রেজোলিউশন অর্ডিন্যান্স এবং ডিপোজিট ইনস্যুরেন্স অর্ডিন্যান্স। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার এবং ব্যাংক কোম্পানি আইনের সংশোধনীসহ বাকি খসড়াগুলো এখনো অগ্রসর হয়নি।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের আর্টিকল IV পরামর্শের পর প্রকাশিত প্রেস রিলিজে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকার আইনগত, প্রাতিষ্ঠানিক ও কার্যকরী সংস্কারের প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে, তবে মূল নীতি সিদ্ধান্তগুলো পরবর্তী সরকারই নেবে। তহবিল সতর্ক করেছে, ব্যাংক ও আর্থিক সংস্কারে বিলম্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দুর্বল করবে, মুদ্রাস্ফীতি বাড়াবে এবং ম্যাক্রো‑ফাইন্যান্সিয়াল ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলবে।
গত সপ্তাহে একটি জনসাধারণিক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ. মনসুর আইন পাসের বিলম্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের পর আইন পাস করা কঠিন হবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ফাইন্যান্স উপদেষ্টা সালেহুদ্দিন আহমেদও সরকারের প্রতি স্মরণ করিয়ে দেন যে, সংস্কারগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের দৃষ্টিতে অপরিহার্য ‘অসমাপ্ত কাজ’। আহমেদ বলেন, “আমরা চেষ্টা করব, তবে সময় কম, কতটুকু করা সম্ভব তা নিশ্চিত নয়।”
বিবেচনা করা হলে, বর্তমান পরিস্থিতি আর্থিক বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে তুলছে। স্বায়ত্তশাসন বাড়ার প্রত্যাশা না থাকলে ব্যাংকগুলোকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের ঝুঁকি বাড়ে, যা ঋণদান নীতি ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। তদুপরি, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ঋণ শর্তে উল্লেখিত সংস্কারগুলো না হলে পরবর্তী তহবিল প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হতে পারে, যা মুদ্রা রিজার্ভ ও বিনিময় হারের স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করবে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দেন, যদি নতুন সরকার দ্রুত এই সংস্কারগুলো সম্পন্ন করে, তবে আর্থিক খাতের স্বচ্ছতা ও বিনিয়োগকারীর আস্থা পুনরুদ্ধার সম্ভব। অন্যদিকে, যদি আইন পাসে দেরি হয়, তবে ঋণদাতাদের শর্ত কঠোর হবে এবং দেশীয় ব্যাংকগুলোর আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের ক্ষমতা সীমিত হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, ইন্টারিম সরকারের শেষ দুই সপ্তাহে আর্থিক সংস্কার অগ্রগতি না হওয়া দেশীয় আর্থিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক তহবিলের শর্ত পূরণে ঝুঁকি তৈরি করছে। সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সংশোধনী খসড়া পার্লামেন্টে উপস্থাপন করা এবং নির্বাচনের আগে অনুমোদন নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যাতে আর্থিক খাতের স্বায়ত্তশাসন ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী হয় এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় থাকে।



