18 C
Dhaka
Sunday, February 1, 2026
Google search engine
Homeশিক্ষাসার্বা মিত্র চকমা পদত্যাগ প্রত্যাহার, ছাত্রদের সমর্থন ও বিশ্ববিদ্যালয় নোটিশের প্রেক্ষাপট

সার্বা মিত্র চকমা পদত্যাগ প্রত্যাহার, ছাত্রদের সমর্থন ও বিশ্ববিদ্যালয় নোটিশের প্রেক্ষাপট

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র ইউনিয়নের (DUCSU) এক্সিকিউটিভ সদস্য সার্বা মিত্র চকমা সম্প্রতি তার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেছেন। তিনি সোমবার ফেসবুকে পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশের পর, একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে কিছু কিশোরকে কানের পেছন ধরে স্কোয়াট করিয়ে দিচ্ছেন। একই দিনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে শো-কার্স নোটিশ জারি করে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যাখ্যা চায়।

শো-কার্স নোটিশের প্রাপ্তি এবং ভিডিওর ব্যাপক প্রচারের পর, চকমা মিডিয়ার সামনে তার মতামত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ছাত্রদের কাছ থেকে পাওয়া প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করেছেন। ছাত্ররা যদি তাকে পদত্যাগ করতে দেখে, তা তাদের কাছে ‘অ্যান্টি-স্টুডেন্ট’ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তাদের বিশ্বাসের প্রতি অবিশ্বাসের চিহ্ন হবে, এটাই তার যুক্তি।

চকমা গত বছরই DUCSU নির্বাচনে ইসলামী ছাত্র শিবির সমর্থিত প্যানেল থেকে এক্সিকিউটিভ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার নির্বাচনী প্রচারাভিযান মূলত ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে গঠিত ছিল। তবে, নভেম্বর মাসে তিনি ক্যাম্পাসের বাইরে থাকা বিক্রেতা ও অস্থায়ী বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে একটি ‘ইভিকশন ড্রাইভ’ চলাকালীন একজন বৃদ্ধকে লাঠি দিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত হন।

ভিডিওতে দেখা দৃশ্যটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা রক্ষার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়, তবে ছাত্র ও শিক্ষকমণ্ডলীর মধ্যে এ ধরনের শারীরিক প্রয়োগ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। কিছু ছাত্র দাবি করেন, এমন পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের অধিকার লঙ্ঘন করে এবং শিক্ষার পরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলে। অন্যদিকে, কিছু শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মী বলেন, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা বজায় রাখতে কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন।

শো-কার্স নোটিশের বিষয়বস্তু স্পষ্ট করে না যে কোন নির্দিষ্ট নীতির লঙ্ঘন হয়েছে, তবে এটি সাধারণত কোনো কর্মচারী বা ছাত্র নেতার আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত হয়। নোটিশে চকমাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার পদক্ষেপের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা প্রক্রিয়ার অংশ।

চকমা মিডিয়ায় তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ছাত্রদের সমর্থন ছাড়া তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন না। তিনি বলেন, ছাত্রদের বিশ্বাস ভঙ্গ করা মানে তাদের স্বার্থের প্রতি অবহেলা করা, তাই তিনি তার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই মন্তব্যের পর ছাত্র সংগঠনগুলো থেকে সমর্থনের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে, যদিও সব ছাত্রই একমত নয়।

এই ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি অভ্যন্তরীণ তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে। তদন্তের উদ্দেশ্য হল ভিডিওতে দেখা কার্যক্রমের প্রকৃতি নির্ধারণ করা এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের দায়িত্ব স্পষ্ট করা। তদন্তের ফলাফল প্রকাশের আগে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

সার্বিকভাবে, এই ঘটনা ক্যাম্পাসের শৃঙ্খলা, ছাত্র নেতাদের ভূমিকা এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানের মধ্যে জটিল সম্পর্ককে উদ্ভাসিত করেছে। ছাত্রদের সমর্থন ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা এখনই গুরুত্বপূর্ণ।

শিক্ষা ক্ষেত্রে এই ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে ছাত্র, শিক্ষক ও প্রশাসনের মধ্যে চলমান সংলাপের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ছাত্রদের মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য নীতি নির্ধারণে আরও স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণমূলক পদ্ধতি গ্রহণ করা উচিত।

আপনার ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য কোন পদ্ধতি সবচেয়ে কার্যকর বলে মনে করেন? আপনার মতামত শেয়ার করুন এবং শিক্ষার পরিবেশকে নিরাপদ ও সমৃদ্ধ করতে কীভাবে অবদান রাখতে পারেন তা ভাবুন।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
শিক্ষা প্রতিবেদক
শিক্ষা প্রতিবেদক
AI-powered শিক্ষা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments