বাংলাদেশ সরকার ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মাসে ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল এবং কেরোসিনের প্রতি লিটারে দুই টাকা করে মূল্য কমানোর সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বাজারের দামের প্রবণতা অনুসরণ করে নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঘোষণা শক্তি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় শনিবারের মিডিয়া স্টেটমেন্টে প্রকাশ করেছে।
ডিজেলের নতুন বিক্রয়মূল্য এখন প্রতি লিটারে ১০০ টাকা, যা পূর্বে ১০২ টাকা ছিল। দুই টাকার এই হ্রাস ট্রাক, বাস এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক যানবাহনের জ্বালানি ব্যয় কমাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ফলে পরিবহন খাতে লজিস্টিক্স খরচে স্বল্পমেয়াদে স্বস্তি আসবে।
অকটেনের দামও দুই টাকার হ্রাস পেয়ে ১২০ টাকায় স্থির হয়েছে, পূর্বের ১২২ টাকার তুলনায়। অকটেন মূলত গাড়ি ও হালকা বাণিজ্যিক যানবাহনে ব্যবহৃত হয়, তাই গাড়ি চালকদের জন্য এটি সরাসরি সাশ্রয়ী হবে। এই মূল্যসামঞ্জস্য গাড়ি ভাড়া সেবার দামের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
পেট্রোলের নতুন মূল্য ১১৬ টাকা নির্ধারিত হয়েছে, যা পূর্বে ১১৮ টাকা ছিল। পেট্রোলের হ্রাস গাড়ি মালিকদের জ্বালানি ব্যয় কমাবে এবং শহুরে যাতায়াতের খরচে স্বল্পমেয়াদে হ্রাস ঘটাবে। গৃহস্থালী গাড়ি ব্যবহারকারী এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানাবে।
কেরোসিনের দাম ১১২ টাকায় নেমে এসেছে, পূর্বের ১১৪ টাকার তুলনায় দুই টাকা কম। কেরোসিন প্রধানত গৃহস্থালী রান্না ও আলোকসজ্জায় ব্যবহৃত হয়, তাই গৃহবাড়ির দৈনন্দিন ব্যয়ে এই হ্রাস সরাসরি প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় কেরোসিনের ব্যবহারকারী এই সুবিধা থেকে উপকৃত হবে।
মূল্য পরিবর্তন ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হবে, যা সরকারী ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে কার্যকরী হয়েছে। শক্তি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে যে, এই সমন্বয় আন্তর্জাতিক তেল দামের হ্রাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারে কোনো উত্থান-পতন হলে পুনরায় মূল্য নির্ধারণের সম্ভাবনা রয়ে গেছে।
আন্তর্জাতিক তেল বাজারে সাম্প্রতিক কয়েক মাসে মূল্যের ধীরগতি দেখা গেছে, যা বাংলাদেশের জ্বালানি নীতিতে সরাসরি প্রতিফলিত হয়েছে। তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর উৎপাদন বাড়ার ফলে সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে দাম কমে গেছে। এই বৈশ্বিক প্রবণতা বাংলাদেশের জ্বালানি নীতি নির্ধারকদের জন্য সুবিধাজনক পরিবেশ তৈরি করেছে।
ট্রাকিং ও লজিস্টিক্স সেক্টরে ডি�জেল মূল্যের হ্রাস সরাসরি অপারেশনাল খরচ কমাবে। ফলস্বরূপ, পণ্য পরিবহনের মূল্যসীমা সংকুচিত হতে পারে এবং শেষ গ্রাহকের কাছে পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকবে। এই প্রভাব বিশেষ করে রপ্তানি-নির্ভর শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তারা আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য প্রতিযোগিতা বজায় রাখতে চায়।
কৃষি খাতে ডি�জেল মূল্যের হ্রাস ছোটখাটো কৃষক ও বড় কৃষি সংস্থার জন্য সমানভাবে উপকারী। সেচ পাম্প চালাতে ডি�জেল ব্যবহারকারী কৃষকরা এখন কম খরচে ফসলের সেচ চালাতে পারবেন। ফলে উৎপাদন খরচে স্বল্পমেয়াদে হ্রাস পাবে এবং কৃষি পণ্যের বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করবে।
কেরোসিনের দাম কমে যাওয়ায় গৃহস্থালী রান্না ও আলোকসজ্জার ব্যয় হ্রাস পাবে, বিশেষ করে গ্রামীণ ও দরিদ্র পরিবারে এটি উল্লেখযোগ্য সাশ্রয় আনবে। গৃহস্থালী বাজেটের এই সঞ্চয় অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাতে পুনঃবিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করবে। ফলে গৃহস্থালী আর্থিক স্থিতিশীলতা বাড়বে বলে আশা করা যায়।
মুদ্রাস্ফীতি সূচকে জ্বালানি দামের এই হ্রাস ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। জ্বালানি খরচের হ্রাস ভোক্তা মূল্যের সামগ্রিক বৃদ্ধিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করবে। তবে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য অন্যান্য উপাদানও সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
শক্তি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক তেল দামের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করবে বলে জানিয়েছে। যদি আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবার বাড়ে, তবে সরকার পুনরায় মূল্য সমন্বয় করতে পারে। এই নীতি বাজারের স্বচ্ছতা ও পূর্বাভাসযোগ্যতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন যে, জ্বালানি দামের এই সাময়িক হ্রাস ভোক্তা আস্থা বাড়াতে পারে এবং ব্যয়বহুল জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল শিল্পের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সহায়তা করবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি সরবরাহের স্থায়িত্ব ও মূল্য স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সারসংক্ষেপে, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ডি�জেল, অকটেন, পেট্রোল এবং কেরোসিনের প্রতি লিটারে দুই টাকা করে হ্রাস বাংলাদেশ সরকারের জ্বালানি নীতি পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে জ্বালানি খরচে স্বল্পমেয়াদে সাশ্রয় হবে, যা ব্যবসা, কৃষি ও গৃহস্থালী খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা ভবিষ্যতে পুনরায় মূল্য সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা তৈরি করতে পারে।



