বিটিআরসি সম্প্রতি একটি বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, একক জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) দিয়ে ব্যক্তিগত সিম কার্ডের সংখ্যা দশ থেকে পাঁচে কমানোর পরিকল্পনা ভোটের আগে বাস্তবায়ন করা হবে না। এই সিদ্ধান্তটি ১৩তম জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালীন সময়ে নেওয়া হয়েছে, যেখানে ভোটের সময়সূচি ইতিমধ্যে ঘোষিত।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, একজন নাগরিক তার NID ব্যবহার করে সর্বোচ্চ দশটি ব্যক্তিগত সিম কার্ড নিবন্ধন করতে পারেন। এই সীমা ২০২৫ সালের জুনে সরকার কর্তৃক ১৫ থেকে কমিয়ে দশে আনা হয়েছিল, যা টেলিকম সেবার স্বচ্ছতা বাড়ানো, অপরাধমূলক ব্যবহার রোধ এবং জাতীয় নিরাপত্তা তদারকি শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছিল।
বিটিআরসি পরে নিরাপত্তা সংস্থার এবং গোয়েন্দা দপ্তরের পরামর্শে আরও কঠোর সীমা প্রস্তাব করে, যাতে এক নাগরিকের সর্বোচ্চ সিম সংখ্যা পাঁচটি করা যায়। এই প্রস্তাবের জন্য টেলিকম মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন চাওয়া হয় এবং পোস্ট ও টেলিকমিউনিকেশন বিভাগ (PTD) একটি চিঠির মাধ্যমে অনুমোদন প্রদান করে, যেখানে ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে নতুন সীমা কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অনুমোদন সত্ত্বেও, বিটিআরসি ভোটের সময়সীমা বিবেচনা করে বাস্তবায়ন বিলম্বের সিদ্ধান্ত নেয়। বৈঠকের নোটে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নির্বাচনের আগে এক মাসেরও কম সময়ে এই ধরনের বৃহৎ নিয়ন্ত্রক পরিবর্তন চালু করা নাগরিকদের জন্য অপ্রয়োজনীয় কষ্টের কারণ হতে পারে। বিশেষ করে, ভোটের সময় মোবাইল সংযোগ রাজনৈতিক সমন্বয়, জরুরি সেবা এবং সাধারণ যোগাযোগের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিটিআরসি এই মুহূর্তে পাঁচ-সিম সীমা কার্যকর করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো নতুন তারিখ প্রকাশ করেনি, তবে ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর ফলে, নির্বাচনের পর পর্যন্ত নাগরিকরা এখনও দশটি সিম পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারবেন, যা বর্তমান নিরাপত্তা নীতি ও অপরাধমূলক ব্যবহার পর্যবেক্ষণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এই স্থগিত সিদ্ধান্তের ফলে টেলিকম শিল্পের ওপর তাত্ক্ষণিক কোনো প্রভাব পড়বে না, তবে নিরাপত্তা সংস্থা এবং আইন প্রয়োগকারী দপ্তরগুলো এখনও সীমা হ্রাসের দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবে। নির্বাচনের পর পুনরায় মূল্যায়ন করে, বিটিআরসি নতুন সীমা কার্যকর করার পরিকল্পনা করবে, যাতে মোবাইল পরিষেবার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
সংক্ষেপে, ভোটের আগে নাগরিকের সিম কার্ডের সংখ্যা পাঁচে কমানোর পরিকল্পনা স্থগিত হয়েছে, এবং বর্তমান দশ-সিম সীমা নির্বাচনের শেষ পর্যন্ত বজায় থাকবে। বিটিআরসি ভবিষ্যতে এই নীতি পুনর্বিবেচনা করে, দেশের টেলিকম অবকাঠামোর নিরাপত্তা ও ব্যবহারকারীর স্বার্থের মধ্যে সমতা রক্ষা করার চেষ্টা করবে।



