18 C
Dhaka
Sunday, February 1, 2026
Google search engine
Homeশিক্ষাডাকসুর নেতা সর্বমিত্র চাকমা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে গেছেন

ডাকসুর নেতা সর্বমিত্র চাকমা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে গেছেন

শনিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (ডাকসুর) নেতা সর্বমিত্র চাকমা তার পূর্বের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, এভাবে পদত্যাগ করলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা হবে।

সর্বমিত্রের মতে, শিক্ষার্থীরা তার পদত্যাগের বিরোধিতা করেছে এবং এটিকে গণবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তিনি যোগ করেন, শিক্ষার্থীদের ইচ্ছা উপেক্ষা করে পদত্যাগ করা তাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হবে।

শিক্ষার্থী গোষ্ঠীর অনুরোধে তিনি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে পদত্যাগ না করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিরোধী পক্ষের কথায় কান না দিয়ে কাজ করা উচিত, তাই তিনি পদত্যাগের পরিকল্পনা ত্যাগ করেছেন।

সর্বমিত্র উল্লেখ করেন, ডাকসুর সংবিধানে কোনো ধারা আছে কিনা যা পদত্যাগকে সমর্থন করে, তা তিনি জানেন না। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, সংবিধানে পদত্যাগের বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট ধারা উল্লেখ নেই।

ডাকসুর সংবিধানের ধারা ১২ (খ) অনুযায়ী, কোনো সদস্য বা পদাধিকারী যদি পদত্যাগ, মৃত্যু বা অপসারণের মাধ্যমে পদ থেকে সরে যান, তবে শূন্য পদটি প্রচলিত নির্বাচন পদ্ধতিতে পূরণ করা হবে। এই ধারা মূলত শূন্য পদ পূরণের প্রক্রিয়া নির্ধারণ করে।

গত বছর ডাকসুর নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল থেকে সর্বমিত্র চাকমা কার্যনির্বাহী সদস্য পদে নির্বাচিত হন। তার জয় তার নেতৃত্বে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আনার প্রত্যাশা জাগিয়ে তুলেছিল।

দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি একাধিক ঘটনা নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে তার কিছু সিদ্ধান্ত ও আচরণকে অনুপযুক্ত বলে গণ্য করা হয়েছে।

সর্বশেষ সমালোচনা আসে যখন তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে খেলতে আসা একদল কিশোরকে জোরপূর্বক বের করে দেন। এই ঘটনার ফলে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকগণ থেকে ব্যাপক নিন্দা ও প্রশ্ন উঠেছে।

সমালোচনার প্রতিক্রিয়ায় সর্বমিত্র সোমবার ফেসবুকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, তিনি নেতৃত্বের দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করছেন।

তবে একই দিনে তিনি কোনো আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র দাখিল করেননি, ফলে পদত্যাগের প্রক্রিয়াগত দিকটি অনির্ধারিত রয়ে যায়। এই বিষয়টি সংস্থার অভ্যন্তরে অতিরিক্ত আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

পদত্যাগ প্রত্যাহার করার মাধ্যমে তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে “প্রতারণা” এড়াতে চান এবং তাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য কাজ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তার এই সিদ্ধান্ত ছাত্রসংসদের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়কে প্রভাবিত করতে পারে।

এই ঘটনা ছাত্রসংসদের সংবিধানিক ধারা ও নেতৃত্বের স্বচ্ছতা নিয়ে চলমান বিতর্ককে তীব্র করেছে। শিক্ষার্থীরা এখন সংবিধানের স্পষ্টতা ও পদত্যাগের প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও প্রশ্ন তুলছে।

শিক্ষার্থী ইউনিয়নের কার্যক্রমে সংবিধানিক বিধান এবং বাস্তবিক চাহিদার মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখা একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। এই প্রেক্ষিতে ভবিষ্যতে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা বাড়তে পারে।

পাঠকরা যদি ছাত্রসংসদের কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে চান, তবে নিয়মিত সভা ও আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করা, এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় মতামত প্রদান করা কার্যকর হতে পারে। আপনার মতামত শেয়ার করে আপনি সংস্থার স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারেন।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
শিক্ষা প্রতিবেদক
শিক্ষা প্রতিবেদক
AI-powered শিক্ষা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments