ইরানের সর্বোচ্চ সামরিক কমান্ডার ইরান সেনাবাহিনীর প্রধান আমির হাতামি শনিবার দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে হাই এলার্টে রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন। এই পদক্ষেপটি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিবেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তৃত সামরিক উপস্থিতি এবং সাম্প্রতিক কূটনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নেওয়া হয়েছে। হাতামি যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলি সামরিক বাহিনীর কোনো আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার জন্য কঠোর সতর্কতা প্রকাশ করেন।
হাতামি একটি সরকারি সংস্থার মাধ্যমে জানিয়েছেন, যদি শত্রু পক্ষ কোনো ভুল করে তবে তা শুধুমাত্র ইরানের নিরাপত্তা নয়, পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতা এবং জায়নিস্ট শাসনের সুরক্ষাকে হুমকির মুখে ফেলবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বর্তমানে পূর্ণ যুদ্ধ প্রস্তুতি নিয়ে মাঠ পর্যায়ে অবস্থান করছে এবং সকল সম্ভাব্য হুমকির মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাম্প্রতিক পদক্ষেপের মধ্যে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন নামক বিমানবাহী রণতরী এবং অতিরিক্ত সামরিক সরঞ্জাম উপসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েন করা অন্তর্ভুক্ত। এই রণতরীটি ইতিমধ্যে ইরানের পার্শ্ববর্তী জলে উপস্থিতি বজায় রেখেছে, যা অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই উপস্থিতি ইরানের উচ্চ সতর্কতা ঘোষণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে দেখা যাচ্ছে, যদিও কোনো সরাসরি সংঘর্ষের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে তিনি ইরানের দিকে বিশাল নৌবহর পাঠানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং ইরানের সময় ফুরিয়ে আসছে বলে সতর্ক করেন। ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পরই মার্কিন নৌবহর এবং বিমানবাহী রণতরীর মোতায়েন দ্রুতগতিতে সম্পন্ন হয়, যা ইরানের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয়।
গত বছরের জুনে ইরানের পারমাণবিক সুবিধায় যুক্তরাষ্ট্রের পরিচালিত বিমান হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে আলোচনার বিষয় হয়ে থাকে। হাতামি এই পূর্বের হামলাকে বর্তমান উত্তেজনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পটভূমি হিসেবে উল্লেখ করে, যা ইরানের সামরিক প্রস্তুতিকে আরও শক্তিশালী করেছে। এই ঘটনার পর থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও তীব্রতর হয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও পশ্চিমা শক্তিগুলোর ইরানের অর্থনৈতিক সংকটকে কাজে লাগিয়ে দেশীয় অস্থিরতা সৃষ্টির অভিযোগ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীতি ইরানের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলোকে বাড়িয়ে তুলছে, যা দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা আরও কঠিন করে তুলছে।
অর্থনৈতিক মন্দা এবং দ্রব্যমূল্যের ধারাবাহিক বৃদ্ধির ফলে ইরানে সম্প্রতি ব্যাপক প্রতিবাদ দেখা দিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর দমনমূলক অভিযানে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। এই তথ্যগুলো ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং মানবিক সংকটকে আরও তীব্র করে তুলছে।
অঞ্চলীয় বিশ্লেষকরা ইরানের হাই এলার্টকে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে দেখছেন। তারা উল্লেখ করেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলি সামরিক বাহিনী এই অঞ্চলে তাদের উপস্থিতি বাড়িয়ে রাখে, তবে ইরানের প্রতিক্রিয়া আরও কঠোর হতে পারে। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এই উত্তেজনা হ্রাসে সীমিত প্রভাব ফেলতে পারে।
পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক সংলাপের সম্ভাবনা এবং অতিরিক্ত সামরিক পদক্ষেপের ঝুঁকি উভয়ই নজরে থাকবে। উভয় পক্ষের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে কূটনৈতিক চ্যানেল সক্রিয় রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন।



