তপু রায়হান, শহীদ বুদ্ধিজীবী জহির রায়হানের পুত্র, ২৪শে ফেব্রুয়ারি শনিবার রাতে ঢাকা শহরে বিডিনিউজ২৪ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ‘রক্তরেখায় বাংলাদেশ’ দ্বিতীয় খণ্ডের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন। তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে বর্তমান রাজনৈতিক দিকনির্দেশনার ভিত্তি হিসেবে পুনরায় জোর দেন এবং এই অনুষ্ঠানকে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।
তপু রায়হান বলেন, “একাত্তরের আলোকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার শিকড় ধরে রাখতে হবে; না হলে অগ্রগতি সম্ভব নয়।” তিনি যুক্তি দেন যে স্বাধীনতার ৫৪ বছর পার হলেও দেশের সামাজিক সংহতি এখনও সম্পূর্ণ রূপে অর্জিত হয়নি এবং এই শিকড়কে দৃঢ় না করলে জাতি অগ্রসর হতে পারবে না।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পেছনে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের অসম্পূর্ণ বাস্তবায়নই মূল কারণ। তপু রায়হান বলেন, “অভ্যুত্থানের পরও আমরা সত্যিকারের স্বাধীনতা অর্জন করতে পারিনি; তাই লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।” তিনি ভবিষ্যতে বৈষম্যহীন, সঠিক গণতন্ত্রের ভিত্তিতে দেশের উন্নয়নকে সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে দেখেন এবং এই দৃষ্টিকোণ থেকে রাজনৈতিক কর্মসূচি গড়ে তোলার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
তপু রায়হান চলচ্চিত্র পরিচালক জহির রায়হান এবং অভিনেত্রী কোহিনূর আখতার সুচন্দার পুত্র। তার জন্ম ঢাকা, তবে পারিবারিক শিকড় ফেনীতে। শৈশব ও কৈশোরের শিক্ষা তিনি ঢাকা রেসিডেনশিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজে সম্পন্ন করেন, যা তার সাংস্কৃতিক ও বৌদ্ধিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
কর্মজীবনে তপু রায়হান ব্যবসা পরিচালনা করেন এবং এক সময় চলচ্চিত্রে অভিনয়ও করেছেন। শিল্প ও সংস্কৃতির সঙ্গে তার গভীর সংযোগ তাকে ‘রক্তরেখায় বাংলাদেশ’ সংকলনের সমর্থক হিসেবে প্রকাশিত করেছে এবং তিনি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রকল্পে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করেছেন।
তপু রায়হান ব্যাখ্যা করেন, “মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আমি পাঠের মাধ্যমে শিখেছি; নতুন প্রজন্মের কাছে নিরপেক্ষ ইতিহাস পৌঁছে দেওয়া জরুরি।” তিনি উল্লেখ করেন, বিডিনিউজ২৪ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রকাশিত ‘রক্তরেখায় বাংলাদেশ’ সংকলনটি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস চর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং এতে যুদ্ধের গৌরব, বেদনা ও শিকড়ের বিশ্লেষণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সংকলনটি তিন খণ্ডে প্রকাশিত হবে; দ্বিতীয় খণ্ডের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তপু রায়হান তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। তিনি জানান, ঢাকা-১৭ আসনে স্বাধীন প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত তার পিতার আদর্শ থেকে প্রাপ্ত অনুপ্রেরণার ফল এবং তিনি স্থানীয় উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার ওপর জোর দেবেন।
তপু রায়হান বলেন, “পিতার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আমি রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছি; গণতন্ত্রের চর্চা চালিয়ে যাওয়া এবং সত্যিকারের স্বাধীন দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে শক্তিশালী অবস্থান নিশ্চিত করা আমার লক্ষ্য।” তিনি দেশের সমগ্র জনগণের জন্য সমতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং এই লক্ষ্যকে অর্জনের জন্য নীতি নির্ধারণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
‘রক্তরেখায় বাংলাদেশ – অন্তহীন যুদ্ধ: গৌরব, বেদনা আর শিকড়ের ইতিহাস’ শিরোনামের সংকলনটি মুক্তিযুদ্ধের বহু দিককে বিশ্লেষণ করে, তপু রায়হান উল্লেখ করেন, এটি জাতীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক দৃষ্টিকোণ প্রদান করতে সহায়ক হবে। তিনটি খণ্ডের মাধ্যমে যুদ্ধের বিভিন্ন পর্যায় ও মানবিক দিককে সমন্বিতভাবে উপস্থাপন করা হবে।
তপু রায়হানের বক্তব্যের পর উপস্থিত অতিথি ও বিশ্লেষকরা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের আধুনিক প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন। বেশ কয়েকজন মন্তব্য করেন যে, সংকলনের প্রকাশনা ঐতিহাসিক সচেতনতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং এটি শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত হলে প্রভাব আরও বিস্তৃত হবে।
তপু রায়হান ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হিসেবে সংকলনের প্রচারমূলক কার্যক্রম এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঐতিহাসিক সেমিনার আয়োজনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি আশা করেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের যুব সমাজের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ পুনরুজ্জীবিত হবে এবং তা রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।
আজকের অনুষ্ঠানটি তপু রায়হানের রাজনৈতিক প্রচার এবং ঐতিহাসিক সংকলনের উন্মোচনকে একসাথে সংযুক্ত করেছে, যা দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে পুনরায় কেন্দ্রীয় করে তোলার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই উদ্যোগের ফলে নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে মুক্তিযুদ্ধের নীতি ভিত্তিক আলোচনার মাত্রা বৃদ্ধি পাবে এবং ভোটারদের মধ্যে ঐতিহাসিক দায়িত্ববোধ জোরদার হবে।



