যশোরের বাঘারপাড়া থানার যৌথবাহিনী শনিবার বিকেল চারটা থেকে চার ঘণ্টা ধরে ধলগ্রাম ইউনিয়নের দড়িহাগড়া গ্রামে অভিযান চালায়। অভিযানটির মূল উদ্দেশ্য ছিল অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ অনুসন্ধান, যা স্থানীয় নিরাপত্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী গোপনভাবে সংরক্ষিত ছিল। পুলিশ জানায়, অপারেশনটি পরিকল্পিতভাবে শুরু হয় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হয়।
অভিযানের ফলস্বরূপ, দড়িহাগড়া গ্রামের চুন্নু মোল্লার বাড়ি থেকে দশটি গ্রেনেড, তিনটি বিদেশি উৎপাদনের পিস্তল এবং উনিশটি রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এই সামগ্রীগুলোকে অবৈধ অস্ত্রের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং স্থানীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য বড় হুমকি হিসেবে বিবেচিত।
গ্রেনেড ও গুলির পাশাপাশি, অভিযানে চাপাতি ও ছুরির মতো ধারালো অস্ত্রও তল্লাশি করা হয় এবং সেগুলোও জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত সব সামগ্রীকে নিরাপত্তা দপ্তরের বিশ্লেষণ কেন্দ্রে পাঠিয়ে তাদের উৎপত্তি ও ব্যবহারিক উদ্দেশ্য নির্ধারণের কাজ চালু করা হয়েছে।
অস্ত্রের মালিকানা সম্পর্কে জানানো হয়েছে যে, গ্রেনেড ও পিস্তলের মূল ধারক চুন্নু মোল্লার ছেলে রায়হান মোল্লা, বয়স আটাশ বছর। পুলিশ সূত্র অনুযায়ী, অভিযানের পূর্বে রায়হান মোল্লা গ্রাম থেকে অজানা পথে পালিয়ে গেছেন এবং এখনো তার অবস্থান নিশ্চিত করা যায়নি।
বাঘারপাড়া থানার ওসিআই মাহমুদুল হাসান জানান, “অভিযানটি স্থানীয় তথ্যের ভিত্তিতে পরিকল্পিত ছিল এবং সময়মতো সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, উদ্ধারকৃত অস্ত্রের বিশদ তালিকা ও প্রমাণাদি সংরক্ষণ করে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।
অভিযানের পর, রায়হান মোল্লার বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্ত বিভাগ তাকে গ্রেফতার করার জন্য অনুসন্ধান চালিয়ে যাবে। সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলাটি দাখিলের পর, প্রমাণাদি উপস্থাপনের মাধ্যমে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হবে। এছাড়া, জব্দকৃত অস্ত্রের বিশ্লেষণ রিপোর্টকে ভিত্তি করে নিরাপত্তা সংস্থা ভবিষ্যতে অনুরূপ অপরাধ রোধে অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেবে।
এই ঘটনাটি পূর্বে প্রকাশিত অস্ত্র জব্দ সংক্রান্ত প্রতিবেদনের ধারাবাহিকতা রূপে বিবেচিত হচ্ছে। গত বছরের শেষের দিকে এবং এই বছরের শুরুর দিকে একই অঞ্চলে অনুরূপ অপারেশন চালানো হয়েছে, যার ফলে বহু অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় নিরাপত্তা সংস্থা এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সচেষ্ট থাকবে।



