শনি রাত ঢাকা-১০ (ধানমন্ডি, কলাবাগান, নিউমার্কেট, হাজারীবাগ) আসনের ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী জসীম উদ্দীন সরকারের সমর্থনে গ্রিন রোডের সরকারি স্টাফ কোর্টার মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সভায় জামায়াত-এ-ইসলামি আমির শফিকুর রহমান তীব্র ভাষায় তার অবস্থান তুলে ধরেন।
সভা আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল জসীম উদ্দীনকে সমর্থন জানানো এবং আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের জন্য ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করা।
শফিকুর রহমান বলেন, বহু বছর ধরে দেশের মানুষকে কিছু ব্যক্তির ছায়া দেখা যায়নি; যদি কেউ তাকে ‘গুপ্ত’ বলে ডাকে, তবে তিনি নিজে তা স্বীকার করবেন। তিনি যোগ করেন, “আমি কারাগারে দফা‑দফা করে গিয়েছি, তাই যদি আমাকে গুপ্ত বলা হয়, তা সত্যই হবে।”
এই মন্তব্যের সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের বিপদের মুখে তিনি পালিয়ে যাননি; তিনি চাইলে পালিয়ে যেতে পারতেন, তবু তিনি এবং তার সহকর্মীরা দেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে কাজ চালিয়ে গেছেন।
শফিকুর রহমানের মতে, সহকর্মীরা নিশ্চিত মৃত্যুর ঝুঁকি সত্ত্বেও বাংলাদেশে ফিরে এসে রাজনৈতিক সংগ্রামে অংশ নিচ্ছেন।
তিনি এমন কিছু রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের নিন্দা করেন, যেখানে বিরোধীরা মায়ের বুকে লাথি মারার অভিযোগে অভিযুক্ত এবং তাদের পোশাক খুলে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন।
এ ধরনের আচরণকে তিনি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নামে মায়ের প্রতি দুর্ব্যবহার বলে সমালোচনা করেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সতর্ক করেন যে, তারা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।
শফিকুর রহমান জোর দিয়ে বলেন, মা‑বোনের ইজ্জত রক্ষায় জামায়াত-এ-ইসলামি চুপ থাকবে না; যারা এই ধরণের কাজ করে তারা শাস্তি ভোগ করবে।
অধিকন্তু, তিনি উল্লেখ করেন, যদি জামায়াত-এ-ইসলামি সরকারে আসে, তবে চামড়া শিল্পে বাংলাদেশকে বিশ্বমানের উদাহরণে রূপান্তর করা সম্ভব হবে।
বর্তমানে হাজারীবাগের ট্যানারি শিল্প সাভারের দিকে স্থানান্তরিত হলেও, চামড়া ব্যবসা সংক্রান্ত সমস্যাগুলো এখনও সমাধান হয়নি এবং সাভারের ট্যানারিগুলো আধুনিক রূপে রূপান্তরিত হয়নি।
শফিকুর রহমান প্রতিশ্রুতি দেন, সরকারে আসলে শিল্পের উন্নয়নের জন্য ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি ভোটারদের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে আহ্বান জানান, যাতে পচা রাজনীতি থেকে দেশকে মুক্ত করে পরিবর্তনের পথে অগ্রসর হওয়া যায়।
গণভোটের পরে আরেকটি ভোটের মাধ্যমে সরকার গঠন হবে, যা ন্যায়‑ইনসাফের ভিত্তিতে মানবিক বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে হবে, শফিকুর রহমান ব্যাখ্যা করেন।
এই সভা এবং শফিকুর রহমানের বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, কারণ এটি ভোটারদের সরাসরি আহ্বান এবং পার্টির নীতি‑নির্ধারণের স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করে।



