স্পেনের রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল মারিয়া সিসতিয়েগা ওচহোয়া দি চিনচিত্রু ৩১ জানুয়ারি শনিবার ঢাকার কারওয়ান বাজারে অবস্থিত প্রথম আলোর ক্ষতিগ্রস্ত কার্যালয়ে গিয়ে মিডিয়ার প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে সন্ত্রাসী হামলার পর স্বাধীন ও উন্মুক্ত তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনা হবে। এই ভিজিটটি দেশের গণমাধ্যমের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা রক্ষার আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি জোরদার করার উদ্দেশ্যে করা হয়।
১৮ ডিসেম্বর রাত ২২:৩০ টায় প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টারকে লক্ষ্য করে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দ্বারা সংগঠিত হামলা সংঘটিত হয়। হামলাকারীরা ভবনের জানালা ভেঙে ঢুকে ভাঙচুর, লুটপাট এবং আগুন লাগিয়ে দু’টি সংবাদপত্রের অফিস ধ্বংস করে। এই আক্রমণে কোনো প্রাণহানি না হলেও সম্পত্তি ক্ষতি উল্লেখযোগ্য এবং দেশের মিডিয়া সম্প্রদায়ে শোকের ছায়া ফেলেছে।
হামলার পরপর স্পেনের রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল মারিয়া দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে এবং বাংলাদেশের গণমাধ্যমের প্রতি স্পেনের সংহতি জানাতে কার্যালয়ে গমন করেন। তিনি জানিয়ে দেন যে তিনি ডিসেম্বরে দেশে ছিলেন না এবং তাই সরাসরি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হতে পারেননি। তবে ঢাকা ফিরে তিনি এই ভিজিটের মাধ্যমে প্রথম আলোসহ সকল মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করতে চেয়েছেন।
“স্বাধীন ও উন্মুক্ত তদন্তের মাধ্যমে হামলাকারীদের বিচারের আওতায় আনা হবে” – তিনি এভাবে স্পষ্ট করে বলেন। এছাড়া তিনি যোগ করেন, “গণতান্ত্রিক সমাজে গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিহার্য, তাই স্পেনের পক্ষ থেকে প্রথম আলোর প্রতি সম্পূর্ণ সমর্থন ও প্রশংসা জানাই।” এই বক্তব্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিন্দা ও সমর্থনকে তুলে ধরা হয়েছে।
প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে সংহতি প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে এই ধরনের হামলা মিডিয়া স্বাধীনতার জন্য সরাসরি হুমকি এবং দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য ক্ষতিকর। রাষ্ট্রদূতের উপস্থিতি এবং তার মন্তব্য মিডিয়া কর্মীদের মনোবল বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
স্পেনের সরকার দীর্ঘকাল ধরে প্রেস ফ্রিডম ও সন্ত্রাসবিরোধী নীতি অনুসরণ করে আসছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হিসেবে স্পেন আন্তর্জাতিক চুক্তি মেনে চলা এবং সন্ত্রাসী অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। গ্যাব্রিয়েল মারিয়া এই নীতি অনুসারে বাংলাদেশের মিডিয়া নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহযোগিতা বাড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
এ ধরনের হামলা ইউরোপে সাম্প্রতিক সময়ে মিডিয়া প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে করা সন্ত্রাসী আক্রমণের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ, যেমন ২০২২ সালে ফ্রান্সের কিছু সংবাদপত্রে ঘটিত ঘটনা। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন যে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী মিডিয়া স্বাধীনতাকে দুর্বল করতে চাইছে, ফলে দেশীয় ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা কাঠামোতে চাপ বাড়ছে।
বাংলাদেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ এবং সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার করার কাজ শুরু করেছে। সরকার জানিয়েছে যে তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্পেনের রাষ্ট্রদূত এই প্রক্রিয়াকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখতে সহযোগিতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
হামলার পর আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মানবাধিকার গোষ্ঠীও নিন্দা জানিয়ে স্বাধীন ও নিরাপদ সাংবাদিকতার পরিবেশ রক্ষার আহ্বান জানিয়েছে। স্পেনের এই ভিজিট এবং তার মন্তব্য দেশীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে মিডিয়া নিরাপত্তা বিষয়ে আলোচনার সূচনা করেছে। ভবিষ্যতে উভয় দেশের কূটনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে যৌথ প্রশিক্ষণ ও তথ্য শেয়ারিংয়ের সম্ভাবনা উন্মুক্ত রয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, গ্যাব্রিয়েল মারিয়া ওচহোয়া দি চিনচিত্রুর ভিজিট প্রথম আলোর কার্যালয়ে সন্ত্রাসী হামলার পর দেশের গণমাধ্যমের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থনকে দৃঢ় করেছে। স্বাধীন তদন্ত, দায়িত্বশীল বিচার এবং স্পেনের ধারাবাহিক সহযোগিতা মিডিয়া স্বাধীনতার সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা যায়।



