লন্ডনের প্রধানমন্ত্রী স্যার কীইর স্টারমার টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানা তাকাইচিকে যুক্তরাজ্য সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এই আমন্ত্রণটি টোকিওতে দুই নেতার চার মিনিটের সংক্ষিপ্ত বৈঠকের পর দেওয়া হয়, যেখানে উভয় পক্ষই পারস্পরিক মূল্যবোধ এবং নিরাপত্তা‑বাণিজ্য সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন। স্টারমার উল্লেখ করেন, এই মুহূর্তে দু’দেশের সম্পর্ক দশকের মধ্যে সবচেয়ে দৃঢ় অবস্থায় রয়েছে।
স্টারমার সম্প্রতি চীন সফর শেষ করে যুক্তরাজ্যে ফিরে এসেছেন; তিনি বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করেছিলেন। চীনের সঙ্গে চার দিনের আলোচনার পর টোকিওতে তাকাইচির সঙ্গে সাক্ষাৎ করা তার বৈদেশিক নীতি প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। উভয় নেতাই ইন্দো‑প্যাসিফিক অঞ্চলে সামরিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে বলেন।
বৈঠকে উভয় পক্ষই “যৌথ মূল্যবোধ” এবং “স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য বাণিজ্য”কে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তাছাড়া সমালোচনামূলক খনিজের সরবরাহ শৃঙ্খল উন্নত করার জন্য যৌথ উদ্যোগের কথা উল্লেখ করা হয়। স্টারমার বলেন, যুক্তরাজ্য ও জাপান উভয়ই মুক্ত বাজারের নীতি অনুসরণ করে ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক বাধা কমাতে চায়।
সামরিক ক্ষেত্রে, ত্রিপাক্ষিক ফাইটার জেট প্রকল্পের মতো সহযোগিতা ইতিমধ্যে চালু রয়েছে, যেখানে যুক্তরাজ্য, জাপান এবং ইতালি একসঙ্গে কাজ করছে। স্টারমার ত্রিপাক্ষিক প্রকল্পকে ইন্দো‑প্যাসিফিকের নিরাপত্তা কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাকাইচি এই সহযোগিতাকে অঞ্চলের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য বলে জোর দেন।
বৈঠকের সময় তাকাইচি চীনের ও তাইওয়ানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন, যা অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিবেশকে জটিল করে তুলছে। স্টারমার এ বিষয়ে “শক্তি ও স্পষ্টতা” দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানানোর প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেন এবং উভয় দেশের নেতৃত্বের দৃঢ়তা প্রশংসা করেন। উভয় নেতাই ইউক্রেনের সমর্থনে যুক্তরাজ্যের ভূমিকা স্বীকৃতি দিয়ে পারস্পরিক সমর্থন প্রকাশ করেন।
বৈঠকের শেষে স্টারমার তাকাইচিকে চেকার্সে তার গৃহস্থালিতে একটি ডিনার অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানান। তাকাইচি স্টারমারের স্বাস্থ্যের প্রশংসা করে বলেন, তিনি শীঘ্রই ডিনার ও পরবর্তী বৈঠকের জন্য প্রস্তুত। এই ডিনারটি দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে অব্যাহত সংলাপের একটি অংশ হিসেবে পরিকল্পিত।
স্টারমার উল্লেখ করেন, যুক্তরাজ্যের আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত স্ন্যাপ নির্বাচনের ফলাফল এই সফরের সময়সূচি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাকাইচির লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি পুনরায় শাসন ক্ষমতা ফিরে পেতে চায়, যা দু’দেশের ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে উভয় পক্ষই রাজনৈতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও সম্পর্ককে অগ্রসর করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
টোকিওতে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি অঞ্চলের বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশের মাঝখানে অনুষ্ঠিত হয়েছে; তাকাইচির পূর্ববর্তী মন্তব্যে জাপানকে চীন‑তাইওয়ান সংঘাতের মধ্যে টেনে নেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত করা হয়। স্টারমার এই উদ্বেগকে স্বীকার করে, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মোকাবেলায় সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। উভয় দেশই এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় “শক্তি ও স্পষ্টতা” দিয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
দুই দেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা মধ্যে সরবরাহ শৃঙ্খলের দুর্বলতা দূর করা, সমালোচনামূলক খনিজের নিরাপদ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং ইন্দো‑প্যাসিফিকের নিরাপত্তা কাঠামোকে শক্তিশালী করা অন্তর্ভুক্ত। তাকাইচি ২১শ শতাব্দীর জটিল আন্তর্জাতিক সংকটের মধ্যে জাপান‑যুক্তরাজ্য সম্পর্ককে নতুন যুগে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য প্রকাশ করেন। স্টারমারও একই দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করে, উভয় দেশের পারস্পরিক স্বার্থ ও নীতিগুলোকে একসঙ্গে অগ্রসর করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
এই বৈঠকটি যুক্তরাজ্য‑জাপান সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে বাণিজ্য, নিরাপত্তা এবং কূটনৈতিক ক্ষেত্রের সমন্বিত প্রচেষ্টা ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ভিত্তি গড়ে তুলবে। উভয় দেশের নেতৃত্বের এই ইতিবাচক সুর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্যও একটি স্থিতিশীলতা সংকেত হিসেবে কাজ করবে।



