বিশ্বকাপের শেষ গ্রুপ ম্যাচে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব‑১৯ দল জিম্বাবুয়ে অনূর্ধ্ব‑১৯ দলকে ৭৪ রানে পরাস্ত করে সুপার‑সিক্সে স্থান নিশ্চিত করেছে। ম্যাচটি ঢাকায় অনুষ্ঠিত হওয়া টুর্নামেন্টের শেষ পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ মুখোমুখি ছিল। বিজয় নিশ্চিত হওয়ায় দলটি পরবর্তী রাউন্ডের জন্য আত্মবিশ্বাসী অবস্থায় প্রস্তুত হয়েছে।
বাংলাদেশের ব্যাটিং ৫০ ওভারে ২৫৩ রান করে ৯ উইকেটের সঙ্গে শেষ হয়। ক্যাপ্টেন আজিজুল হাকিম ৫৯ রান করে দলকে স্থিতিশীলতা প্রদান করেন, তবে শেষের দিকে ৮৭ বলের পর ৫৯ রানে আউট হন। রিজান হোসেন ৪৭ রান করে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোর করেন, আর জাওয়াদ ২৫ রান যোগ করেন।
বাটিং লাইন‑আপের মাঝামাঝি অংশে কিছুটা ধীর গতি দেখা গেল, তবে শেষের ওভারে অতিরিক্ত ৯৯ রান যোগ করে লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হয়। দলটি ৯ উইকেটের সঙ্গে ২৫৩ রানে থেমে থাকলেও লক্ষ্য‑রান অর্জনের জন্য যথেষ্ট ছিল। শেষের ওভারে দ্রুত রান সংগ্রহের জন্য কিছু ঝুঁকি নেওয়া হলেও তা ফলপ্রসূ হয়।
ইকবাল হোসেনের বোলিং পারফরম্যান্স দলকে জয় এনে দিল। তিনি ১০ ওভারে তিনটি মেডেন, মাত্র ২৪ রান দিয়ে ৫ উইকেট নেন, যা জিম্বাবুয়ে ব্যাটস্ম্যানদের ওপর প্রাথমিক চাপ সৃষ্টি করে। তার শুরুর তিনটি ওভারেই তিনটি উইকেট নেয়ার মাধ্যমে শত্রু টিমের টপ অর্ডারকে দ্রুত ভেঙে ফেলেন।
জিম্বাবুয়ে অনূর্ধ্ব‑১৯ দল ৪৮.৪ ওভারে ১৭৯ রান করে ১০ উইকেটের সঙ্গে শেষ হয়। তাদের শীর্ষ স্কোরার মুডজেনগের ৭০ রান করে দলকে মোটামুটি টেকসই রাখেন, আর সেল্টন ৪২ রান যোগ করেন। তবে ইকবালের ৫/২৪ এবং ফাহাদের ৩/৩৯ বোলিং পারফরম্যান্সের সামনে তারা ১৭৯ রানে আটকে যায়।
ইকবালের শুরুর ত্রিপল উইকেটের পর জিম্বাবুয়ের ব্যাটস্ম্যানরা দ্রুত রানের চাপে হোঁচট খায় এবং ৮টি ওভারের মধ্যে ১৭৯ রানে অলআউট হয়। মুডজেনগেরের ৭০ রান সত্ত্বেও দলটি লক্ষ্য‑রান অর্জনে ব্যর্থ হয়। শেষের ওভারে জিম্বাবুয়ে কোনো গুরুত্বপূর্ণ পার্টনারশিপ গড়ে তুলতে পারেনি।
বাংলাদেশের জয় ৭৪ রানের পার্থক্যে শেষ হওয়ায় টুর্নামেন্টের পয়েন্ট টেবিলে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসে। পূর্বে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে জয় সত্ত্বেও পয়েন্ট যোগ না হওয়ায় দলটি মাত্র এক পয়েন্টে সুপার‑সিক্সে উঠে আসে। এই একমাত্র পয়েন্টই দলকে পরবর্তী রাউন্ডে অগ্রসর হতে সক্ষম করে।
বাংলাদেশের পূর্ববর্তী ম্যাচগুলোতে তারা ভারতের বিপক্ষে পরাজিত হয়, নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে বৃষ্টির কারণে ম্যাচ বাতিল হয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে জয় অর্জন করে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দল টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ার ফলে সেই জয়ের পয়েন্ট গণনা করা হয়নি। ফলে দলটি এক পয়েন্টে সুপার‑সিক্সে স্থান পায়।
ইংল্যান্ডের অনূর্ধ্ব‑১৯ দল জিম্বাবুয়ে দলের সঙ্গে শেষ ম্যাচে পরাজিত হওয়ায় সেমিফাইনালের সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়। ইংল্যান্ডের হারের ফলে তাদের টুর্নামেন্টের যাত্রা শেষ হয় এবং বাংলাদেশ টেবিলে শীর্ষে উঠে। এই ফলাফল টুর্নামেন্টের গতি পরিবর্তন করে।
টুর্নামেন্টের আগে আইসিসি এবং বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের সংগঠনের মধ্যে সাত ঘণ্টা আগে সংঘর্ষ দেখা দেয়। এই বিরোধের ফলে খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি ও মনোভাবের ওপর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা ছিল। তবে ম্যাচের দিন পর্যন্ত কোনো বড় বাধা না থাকায় দলটি স্বাভাবিকভাবে খেলতে সক্ষম হয়।
কোচিং স্টাফের মতে, দলটি শৃঙ্খলা ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলেছে এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণকে কার্যকরভাবে দমন করেছে। ব্যাটিং ও বোলিং উভয়ই সমন্বিতভাবে কাজ করার ফলে বড় পার্থক্য তৈরি হয়েছে। এখন দলটি সুপার‑সিক্সের পরবর্তী ম্যাচের জন্য কৌশল নির্ধারণে মনোযোগ দিচ্ছে।
সুপার‑সিক্সে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব‑১৯ দলকে কী দলগুলো মুখোমুখি হবে তা টুর্নামেন্টের শিডিউল অনুযায়ী নির্ধারিত হয়েছে। পরবর্তী রাউন্ডে শক্তিশালী দলগুলোর সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে, তাই প্রস্তুতি আরও কঠোর হবে। দলটি এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে টুর্নামেন্টে অগ্রগতি বজায় রাখতে চায়।
এই জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব‑১৯ দল টুর্নামেন্টে নিজের অবস্থান দৃঢ় করেছে এবং ভবিষ্যৎ ম্যাচে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্রবেশ করবে। দলের পারফরম্যান্সে দেখা যায় যে শীর্ষ ব্যাটসম্যান ও বোলার উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। টুর্নামেন্টের পরবর্তী পর্যায়ে আরও বড় সাফল্য অর্জনের সম্ভাবনা উঁচুতে রয়েছে।



