শুক্রবার বিকেল একটায় কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার নিমসার জুনাব আলী ডিগ্রি কলেজ মাঠে জামায়াত-এ-ইসলামি’র আমির শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে একটি নির্বাচনী পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। শফিকুর রহমান পচা রাজনীতিকে বদলানোর সংকল্প প্রকাশ করে এবং ১১‑দলীয় জোটের প্রার্থী মোবারক হোসেনের সমর্থনে ইভেন্টটি আয়োজনের কথা জানান।
এই পথসভা কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং‑ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের জন্য ১১‑দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী মোবারক হোসেনের সমর্থনে অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, যুবক-যুবতী এবং নারী অংশগ্রহণ করেন, যা এলাকার রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে।
শফিকুর রহমানের উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি দেশের গত ৫৪ বছর ধরে বেইনসাফি, সন্ত্রাস, দুর্নীতি এবং মানবিক হিংসার ধারাবাহিকতা উল্লেখ করেন। তিনি এইসব নিন্দা করে বললেন, “পচা রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদলাতে আমাদের প্রয়োজন পরিষ্কার দৃষ্টিভঙ্গি”।
তারপর তিনি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। তিনি চান দেশটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে সম্মানজনক শির নিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে দাঁড়াক এবং মানবিক মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত হোক।
শফিকুর রহমান বিশেষভাবে জুলাই মাসে যুবকদের ফ্যাসিবাদ বিরোধী প্রতিবাদে অংশগ্রহণের কথা স্মরণ করে তাদের ত্যাগের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “তারা রক্তের দাগ দিয়ে আমাদের স্বাধীনতা ও মুক্তি এনে দিয়েছে” এবং তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন।
প্রার্থী মোবারক হোসেনের সমর্থনে ভোট দেওয়া হলে জামায়াত-এ-ইসলামি আর বেইনসাফি করবে না, এ কথা শফিকুর রহমান স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, “ইনসাফের ভিত্তিতে আপনারা যে সব অধিকার ও পাওনা দাবি করেন, সেগুলো আমরা পূরণ করব”।
নারী অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে তিনি নারী সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। তিনি বললেন, “সমাজের বর্তমান অবস্থা নারীদের যথাযথ মর্যাদা দেয় না, আমরা পরিবার ও কর্মস্থলে তাদের অধিকার সুরক্ষিত করব”।
যুবকদের জন্য তিনি বেকার ভাতা বিতরণে না গিয়ে তাদের ক্ষমতা বৃদ্ধি করার কথা বলেন। শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, “যুবকরা দেশের গঠনকারী কারিগর, তাদের কাজের অধিকার রক্ষার জন্য আমরা পদক্ষেপ নেব”।
এটি ছাড়াও তিনি যুবকদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের জন্য নির্দিষ্ট নীতি প্রণয়নের ইঙ্গিত দেন, যাতে তারা বেকার ভাতার উপর নির্ভর না করে স্বনির্ভর হতে পারে। এজন্য তিনি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন এবং শিল্পখাতে তরুণ উদ্যোক্তাদের সমর্থন করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন।
সমাবেশে জামায়াত-এ-ইসলামি’র সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মা’ছুম এবং মাওলানা আবদুল হালিমও বক্তব্য রাখেন। উভয়েই মোবারক হোসেনের প্রার্থিতার পক্ষে সমর্থন জানিয়ে দলীয় ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
এই পথসভা কুমিল্লা-৫ আসনে ভোটারদের মনোভাব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। ১১‑দলীয় জোটের সমর্থন বাড়লে নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব পড়তে পারে।
শফিকুর রহমানের প্রতিশ্রুতি এবং নারী-যুবককে লক্ষ্য করে ঘোষিত নীতি গুলো যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে জামায়াত-এ-ইসলামি’র রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী হতে পারে এবং দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে।



