ফেব্রুয়ারি ১২ নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচনের দিন নিকটবর্তী হওয়ায় নির্বাচনী তথ্যভ্রান্তির পরিমাণ বাড়ছে, দিসমিসল্যাবের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে। বিশ্লেষণে দেখা যায়, অনলাইন কথোপকথনগুলো এখন প্রচারাভিযান কার্যক্রম, প্রার্থীর নামপত্র, জোটের চুক্তি ও আসন ভাগাভাগি নিয়ে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। একই সঙ্গে মিথ্যা তথ্যের মোট পরিমাণও ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।
প্রাথমিক পর্যায়ে মূলত ভুয়া উক্তি ও ভুল নামপত্রের দাবি প্রধান ছিল, তবে এখন তা জটিল রূপে রূপান্তরিত হয়েছে। জোটের গঠন, প্রচারাভিযানের পরিকল্পনা এবং জরিপের ফলাফল নিয়ে গড়ে ওঠা মিথ্যা কাহিনী বেশি দেখা যাচ্ছে। তদুপরি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ভিত্তিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে তৈরি করা কন্টেন্টের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
দিসমিসল্যাবের তথ্য অনুযায়ী, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত এক মাসের মধ্যে মোট ৮৯টি পৃথক নির্বাচনী মিথ্যা তথ্য চিহ্নিত করা হয়েছে। একই সময়ের আগে মাসে এই সংখ্যা ছিল ৬৩টি, যা ৪১ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি নির্দেশ করে। এই বৃদ্ধির পেছনে তথ্যের দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এবং নতুন প্রযুক্তির ব্যবহারকে মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
একই চার সপ্তাহের সময়কালে তথ্য যাচাইয়ের কাজও তীব্রতর হয়েছে। প্রথম সপ্তাহে মাত্র ১০টি ফ্যাক্ট‑চেক করা হয়েছিল, আর শেষ সপ্তাহে এই সংখ্যা ৩১‑এ পৌঁছেছে, যা মিথ্যা তথ্যের সনাক্তকরণে তিনগুণের বেশি বৃদ্ধি নির্দেশ করে। এই প্রবণতা তথ্যভ্রান্তি মোকাবেলায় বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা বাড়িয়ে দিয়েছে।
মিথ্যা তথ্যের মধ্যে কিছু উচ্চপদস্থ সরকারি ব্যক্তির নামে তৈরি হয়েছে, যা জনগণের মধ্যে নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে সন্দেহ বাড়িয়ে দিয়েছে। একটি ভুয়া দাবি ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুসকে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করে, “ফেব্রুয়ারি ১২ তারিখে বাংলাদেশে নির্বাচন হবে না” এবং তিনি পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকবেন বলে দাবি করা হয়েছে। আরেকটি ভুয়া উক্তিতে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মোঃ সানাউল্লাহকে নির্বাচন স্থগিতের ঘোষণা দিতে দেখা যায়। উভয় দাবিই পরবর্তী যাচাইয়ে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।
জোট সংক্রান্ত মিথ্যা তথ্যও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, বিশেষ করে বাংলাদেশ জামাত‑ই‑ইসলামি নেতৃত্বাধীন ১০‑দলীয় (বর্তমানে ১১‑দলীয়) জোটকে লক্ষ্য করে। ভুয়া খবরের মধ্যে বলা হয়েছে যে জামাতের আমীর শফিকুর রহমান বলেছেন, মমুনুল হকই একমাত্র ব্যক্তি যিনি রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী পদে উপযুক্ত। অন্য একটি দাবি মমুনুলকে সব পদ থেকে মুক্তি পেয়েছেন বলে প্রচার করেছে, যা কোনো প্রমাণ ছাড়া ছড়িয়ে পড়েছে।
বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে, এই ধরনের জটিল মিথ্যা তথ্য তৈরিতে AI‑চালিত টুলের ব্যবহার বাড়ছে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি করা ছবি, ভিডিও ও টেক্সট সহজেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, ফলে সাধারণ নাগরিকের জন্য সত্য ও মিথ্যা পার্থক্য করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এই প্রবণতা তথ্যভ্রান্তির মোকাবেলায় প্রযুক্তিগত সমাধানের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
নির্বাচনের দিন নিকটবর্তী হওয়ায় তথ্যভ্রান্তি নিয়ন্ত্রণে ত্বরিত পদক্ষেপের আহ্বান বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোকে মিথ্যা কন্টেন্ট দ্রুত সনাক্ত ও সরিয়ে ফেলতে বলছেন, পাশাপাশি ভোটারদের সঠিক তথ্যের উৎস যাচাই করার জন্য সচেতনতা বৃদ্ধি করার পরামর্শ দিচ্ছেন। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করতে এই ধরণের মিথ্যা তথ্যের বিস্তার রোধ করা জরুরি।



