বাংলাদেশ সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন প্রধানমন্ত্রী গৃহস্থালির জন্য নির্ধারিত স্থানটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। নির্মাণ কাজ শুরু হলে সম্পন্ন হতে দুই থেকে তিন বছর সময় লাগবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এই পরিকল্পনা ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের পর শপথ নেওয়া নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য প্রযোজ্য।
চূড়ান্ত করা স্থানটি পূর্বে কোনো সরকারি সম্পত্তি হিসেবে ব্যবহার হয়নি; তবে নির্মাণের আগে অস্থায়ী বাসস্থান হিসেবে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’ অথবা সংসদ ভবন সংলগ্ন স্পিকারের বাসভবন ব্যবহার করা হবে। উভয়ই পার্লামেন্টের নিকটবর্তী এবং নিরাপত্তা দৃষ্টিকোণ থেকে সুবিধাজনক বলে বিবেচিত।
অধিকন্তু, ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা অনুসারে স্পিকারের বাসভবনের সঙ্গে সংযুক্ত ডেপুটি স্পিকারের বাসভবনকেও একত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে। এই বিকল্পটি সরকারকে অতিরিক্ত স্থান সরবরাহের পাশাপাশি প্রশাসনিক সমন্বয় সহজ করবে।
সংসদ নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারিত হওয়ার পরই নতুন প্রধানমন্ত্রী শপথ নেবেন, যা ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত হয়েছে। শপথের পরপরই সরকার নতুন বাসভবনের নির্মাণ কাজ শুরু করার পরিকল্পনা করেছে। এই সময়ের মধ্যে অস্থায়ী বাসস্থান নিশ্চিত করা হয়েছে যাতে নতুন প্রধানমন্ত্রীর কাজের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।
প্রধানমন্ত্রীর পূর্ববর্তী বাসভবন হিসেবে শেরেবাংলানগরের ‘গণভবন’ নির্ধারিত ছিল। তবে জুলাই ২০২৩-এ ঘটিত অভ্যুত্থানের পর ঐ ভবন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার গণভবনকে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে রূপান্তরের উদ্যোগ নেয় এবং জাদুঘর নির্মাণ কাজ বর্তমানে সমাপ্তির পথে।
নতুন বাসভবনের নির্মাণস্থলটি সংসদ ভবন কমপ্লেক্সের নকশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে কি না, এ বিষয়ে কিছু প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। তবে স্থাপত্য অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা এই প্রশ্নের উপর কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের স্থান নির্ধারণে সরকার যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছে, তা স্বচ্ছতা ও দ্রুততার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে বলে বলা যায়। নির্বাচনের পরপরই নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য উপযুক্ত বাসস্থান নিশ্চিত করা, শাসনকালের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।
অবশেষে, নতুন বাসভবনের নকশা ও নির্মাণ পরিকল্পনা সরকারী অনুমোদনের পরে বাস্তবায়িত হবে। ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রীর পছন্দ অনুযায়ী অতিরিক্ত সুবিধা যুক্ত করা সম্ভব হবে, যা সরকারি সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার দেশের শীর্ষ নির্বাহী কর্মকর্তার জন্য আধুনিক ও নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিত করতে চায়।



