সিরাজগঞ্জের কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের বিসিক শিল্প পার্কে শনিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত বিশাল জনসভায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের পরিচালনায় বিএনপির একমাত্র অভিজ্ঞতা রয়েছে বলে জোর দিয়ে বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে জনগণ জানতে চায় কোন রাজনৈতিক দল কী পরিকল্পনা নিয়ে দেশের উন্নয়ন করবে, আর এই দৃষ্টিতে বিএনপি একমাত্র দল যার হাতে সঠিক দিকনির্দেশনা আছে।
বক্তব্যের সময় তিনি দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে একটি স্পষ্ট ও কার্যকর পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তারেক রহমানের মতে, এখন এমন একটি সময় যখন মানুষ দেশের অগ্রগতি সম্পর্কে স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি চায়, এবং এই দৃষ্টিভঙ্গি ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, অন্য কোনো দল এই অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করতে পারে না।
বিএনপি ছাড়া দেশের সঠিক পরিচালনা নিশ্চিত করতে পারে এমন কোনো রাজনৈতিক দল নেই, এই দাবি তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, অভিজ্ঞতা সম্পন্ন দলই দেশের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় নীতি ও কৌশল প্রণয়ন করতে সক্ষম। এই বক্তব্যের পেছনে আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং ভোটারদের মধ্যে বিশ্বাস গড়ে তোলার লক্ষ্য স্পষ্ট।
নির্বাচনের আগে গুজব, বিভ্রান্তি ও ভুল তথ্য ছড়ানো দলগুলিকে তিনি ‘গুপ্তচর’ হিসেবে চিহ্নিত করার ইঙ্গিত দেন। তারেক রহমান জানান, কিছু গোষ্ঠী সক্রিয়ভাবে অপপ্রচার চালিয়ে নির্বাচনী পরিবেশকে নষ্ট করার চেষ্টা করছে, যা অগণতান্ত্রিক শক্তির কাজ। তিনি এসবকে দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেন।
জনসাধারণকে গুজব ও উসকানিতে পা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি সকল নেতা-কর্মীকে সতর্ক করেন, যেন তারা তথ্যের সত্যতা যাচাই করে কাজ করেন। তিনি বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে জনগণকে সচেতন থাকতে হবে, কারণ বিভ্রান্তি ছড়ানোর প্রচেষ্টা নির্বাচনকে বাধাগ্রস্থ করার লক্ষ্যে চালু।
সিরাজগঞ্জের স্থানীয় শিল্পের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যদি বিএনপি ক্ষমতায় আসে, তবে এই অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী তাঁত ও লুঙ্গি শিল্পকে আন্তর্জাতিক বাজারে তুলে ধরা সম্ভব হবে। তিনি উল্লেখ করেন, সিরাজগঞ্জ ও পাবনার মানুষ ঐতিহ্যবাহী বস্ত্র শিল্পে জড়িত এবং তাদের পণ্যকে বিশ্বব্যাপী রপ্তানি করা দেশের অর্থনীতির জন্য বড় সুবিধা হবে।
বক্তব্যের শেষে তিনি দেশের সকল নাগরিককে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান, যাতে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নীতি ও পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়। তিনি বলেন, একসাথে কাজ করলে দেশের উন্নয়ন দ্রুততর হবে এবং জনগণের জীবনমান উন্নত হবে।
এই জনসভা নির্বাচনের আগে বিএনপির প্রচারমূলক কার্যক্রমের একটি অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত ভিড়ের সংখ্যা বিশাল ছিল এবং অংশগ্রহণকারীরা তারেক রহমানের বক্তব্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্য উচ্চপদস্থ বিএনপি নেতা ও কর্মীও উপস্থিত ছিলেন, তবে তাদের মন্তব্য এখানে উল্লেখ করা হয়নি।
প্রতিপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন যে এই ধরনের বড় জনসভা নির্বাচনী মঞ্চে দলের উপস্থিতি ও প্রভাব বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। তারা আরও যোগ করেন, ভোটারদের কাছে দলের অভিজ্ঞতা ও পরিকল্পনা তুলে ধরা নির্বাচনী কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সারসংক্ষেপে, সিরাজগঞ্জে অনুষ্ঠিত এই বিশাল জনসভায় তারেক রহমান বিএনপির অভিজ্ঞতা ও দেশের উন্নয়নের পরিকল্পনা তুলে ধরেন, গুজবের বিরুদ্ধে সতর্কতা জানান এবং স্থানীয় শিল্পের সম্ভাবনা তুলে ধরে ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য দলের অবস্থান দৃঢ় করেন। এই বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন আলোচনার সূচনা করতে পারে এবং আসন্ন নির্বাচনের গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে।



