রাফায়েল নাদাল, ২২টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা জয়ী এবং ২০২৪ সালে পেশা থেকে অবসর নেওয়া এক কিংবদন্তি টেনিস খেলোয়াড়, মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনাল ম্যাচে উপস্থিতি নিশ্চিত করেছেন। তিনি রবিবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া চূড়ান্ত টেনিস প্রতিযোগিতার প্রধান দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করেছেন, যেখানে স্প্যানিশ তরুণ ক্যার্লস আলকারাজ এবং ৩৮ বছর বয়সী নোভাক জোকারোভিচ ডজোচেভিচ মুখোমুখি হবেন। নাদাল জানান, তিনি উভয় খেলোয়াড়কে উচ্চ সম্মান দেন, তবে আলকারাজকে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে তিনি মনে করেন।
নাদাল নিজে দুইবার অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতেছেন এবং তার ক্যারিয়ারে মোট ২২টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা রয়েছে। অবসর নেওয়ার পরেও তিনি টেনিসের বড় ইভেন্টগুলোতে উপস্থিতি বজায় রাখেন, এবং এই ফাইনালটি তার জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। মেলবোর্নের রড লেভার এরেনায় অনুষ্ঠিত এই ম্যাচটি টেনিস জগতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে গণ্য হয়।
নাদাল আলকারাজকে প্রিয়দর্শী হিসেবে উল্লেখ করার প্রধান কারণ হল তার তরুণ বয়স, শারীরিক শক্তি এবং ক্যারিয়ারের শীর্ষ পর্যায়ে থাকা। আলকারাজ বর্তমানে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে প্রথম স্থানে রয়েছে এবং তার খেলায় দ্রুততা ও আক্রমণাত্মকতা স্পষ্ট। নাদাল বলেন, এই গুণাবলী তাকে ফাইনালে বড় সুবিধা দেবে।
অন্যদিকে ডজোচেভিচের অভিজ্ঞতা ও বিশেষ ক্ষমতাকে নাদাল উপেক্ষা করেন না। তিনি স্বীকার করেন যে ডজোচেভিচের কোনো ফাইনাল হারেনি এবং তার চ্যালেঞ্জ গ্রহণের মানসিকতা এখনও শক্তিশালী। তাই ডজোচেভিচের কোনো অপ্রত্যাশিত জয়ও সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নাদাল ডজোচেভিচের বয়সের পরেও উচ্চ স্তরে প্রতিযোগিতা চালিয়ে যাওয়াকে ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে দেখেন। তিনি বলেন, ডজোচেভিচ যদি আঘাতবিহীন এবং মানসিকভাবে ক্লান্ত না হন, তবে তার জন্য টেনিসের মঞ্চে থাকা স্বাভাবিক। এই দৃষ্টিকোণ থেকে ডজোচেভিচের দৃঢ়তা ও প্রতিযোগিতামূলক মনোভাবকে তিনি প্রশংসা করেন।
সেমি-ফাইনালে ডজোচেভিচ ২৪ বছর বয়সী জ্যানিক সিন্নার বিরুদ্ধে পাঁচ সেটের কঠিন লড়াইয়ে জয়লাভ করেন। সিন্না পূর্বে ডজোচেভিচকে চ্যালেঞ্জ করলেও শেষ পর্যন্ত ডজোচেভিচ তার দশটি পূর্ববর্তী অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ফাইনাল জয় বজায় রাখতে সক্ষম হন। এই জয় ডজোচেভিচকে তার ১১তম ফাইনালে পৌঁছাতে সাহায্য করে।
ডজোচেভিচের লক্ষ্য হল অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সর্ববয়স্ক বিজয়ী হওয়া। ১৯৭২ সালে ৩৭ বছর বয়সী কেন রোজওয়াল এই টুর্নামেন্ট জিতেছিলেন, এবং ডজোচেভিচ তার বয়সকে অতিক্রম করে রেকর্ড ভাঙতে চান। এই ঐতিহাসিক লক্ষ্য টেনিসের ভক্তদের মধ্যে বড় উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের চূড়ান্ত শিরোপা ছাড়াও ডজোচেভিচ ২৫তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের স্বপ্ন দেখছেন, যা মার্গারেট কোর্টের রেকর্ডকে অতিক্রম করবে। মার্গারেট কোর্টের উপস্থিতি রড লেভার এরেনায় প্রত্যাশিত, যা ম্যাচের মর্যাদা আরও বাড়িয়ে দেবে।
নাদাল নিজে ডজোচেভিচের এক বছর ছোট, তবে তিনি বলেন, যদি ডজোচেভিচ আঘাতবিহীন থাকেন এবং মানসিকভাবে ক্লান্ত না হন, তবে তার জন্য টেনিসের মঞ্চে থাকা স্বাভাবিক। নাদাল তার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে জানেন যে শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি টেনিসের দীর্ঘায়ুতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আলকারাজের তরুণ শক্তি ও ডজোচেভিচের অভিজ্ঞতা একসঙ্গে মেলবোর্নের কোর্টে দেখা যাবে, যা টেনিসের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে রেকর্ড হবে। উভয় খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স এবং নাদালের মন্তব্য টুর্নামেন্টের আগ্রহ বাড়িয়ে তুলেছে।
ফাইনাল ম্যাচটি রবিবার সন্ধ্যায় রড লেভার এরেনায় অনুষ্ঠিত হবে, এবং বিশ্বব্যাপী টেনিস ভক্তদের মনোযোগের কেন্দ্রে থাকবে। নাদালের পূর্বাভাস এবং ডজোচেভিচের ঐতিহাসিক লক্ষ্য এই ম্যাচকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে। টেনিসের এই শীর্ষ প্রতিযোগিতা শেষ পর্যন্ত কে জিতবে তা এখনো অনিশ্চিত, তবে উভয় খেলোয়াড়ের প্রস্তুতি ও মনোভাব ইতিমধ্যে উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।



