ঢাকা – মানবাধিকার সংস্থা মানাবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) আজ প্রকাশিত মাসিক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে জানুয়ারি ২০২৬-এ গ্যাং (দল) হিংসা ও কারাগার মৃত্যুর সংখ্যা গত মাসের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত ১৩তম জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনের আগে মানবাধিকার পরিস্থিতি “অত্যন্ত হিংসাত্মক ও জটিল” হয়ে উঠেছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, জানুয়ারি মাসে গ্যাং হিংসায় ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে, যেখানে ডিসেম্বর ২০২৫-এ একই ধরনের ঘটনার ফলে মাত্র ১০ জন মারা গেছেন। এই দ্বিগুণ বৃদ্ধি রাষ্ট্রের অপরাধমূলক কাজের প্রতি অপ্রতুল প্রতিক্রিয়ার ফলাফল হিসেবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
এমএসএফের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, অবৈধ হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান পদক্ষেপের অভাব অপরাধীদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তুলেছে এবং ফলে জনসাধারণের আইনশৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থা হ্রাস পেয়েছে।
সেই সঙ্গে জানুয়ারিতে অচেনা দেহের পুনরুদ্ধারও বৃদ্ধি পেয়েছে; ডিসেম্বরের ৪৮টি দেহের তুলনায় জানুয়ারিতে ৫৭টি দেহ পাওয়া গেছে। এই সংখ্যা বাড়ার পেছনে অপরাধমূলক ঘটনার গোপনীয়তা ও তদন্তের ঘাটতি নির্দেশ করা হয়েছে।
কারাগার মৃত্যুর ক্ষেত্রে পরিস্থিতি তীব্রতর হয়েছে। জানুয়ারিতে কারাগারে ১৫ জনের মৃত্যু রেকর্ড হয়েছে, যা ডিসেম্বরের ৯ জনের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। দুই মাসে মোট ২৪ জনের মৃত্যু ঘটেছে, এবং একই সময়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তত্ত্বাবধানে দুইজনের মৃত্যু ঘটেছে।
এমএসএফের প্রতিবেদনে কারাগার মৃত্যুর মূল কারণ হিসেবে চিকিৎসা অবহেলা, অমানবিক আচরণ এবং কারাগার ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা উল্লেখ করা হয়েছে। এই বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তৎপরতা ও কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
ইলেকশন-সংক্রান্ত হিংসাত্মক ঘটনা ও বাড়ছে। জানুয়ারিতে নির্বাচনী সংঘর্ষে চারজনের মৃত্যু এবং ৫০৯ জনের আঘাত হয়েছে, যেখানে ডিসেম্বরের তুলনায় একজনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছিল। এই সংখ্যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নির্দেশ করে।
পুলিশের মামলায় “অপরিচিত অভিযুক্ত” ব্যবহার বাড়ার সাথেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ডিসেম্বরের ১১০ জনের তুলনায় জানুয়ারিতে এই সংখ্যা ৩২০-এ পৌঁছেছে, যা ব্যাপক গ্রেপ্তার ও মামলায় নাম না প্রকাশের মাধ্যমে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কৌশলগত পরিবর্তন নির্দেশ করে।
প্রতিবেদন শেষ করে এমএসএফের নেতৃত্বাধীন আইনজীবী সুলতানা কামাল উল্লেখ করেছেন, নির্বাচনের পূর্বে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ধারাবাহিকতা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারকে ক্ষুণ্ন করতে পারে। সংস্থা সকল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে এবং ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আহ্বান জানিয়েছে।
এই পর্যবেক্ষণ রিপোর্টের ভিত্তিতে, মানবাধিকার সংস্থা আগামী সপ্তাহে সংশ্লিষ্ট সরকারি ও আইনি সংস্থার সঙ্গে আলোচনা পরিকল্পনা করেছে, যাতে জানুয়ারিতে উত্থাপিত সমস্যাগুলোর সমাধানে বাস্তবিক পদক্ষেপ নির্ধারিত হয়। জনগণের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার রক্ষার জন্য পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাওয়া এবং প্রয়োজনীয় নীতি সংশোধন করা জরুরি বলে সংস্থা জোর দিয়েছে।



