বিএনপি সেক্রেটারি জেনারেল ও থাকুরগাঁও-১ নির্বাচনী প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ থাকুরগাঁও সদর উপজেলার আচ্চা ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী র্যালিতে উল্লেখ করেন, যদি ভুল সরকার ক্ষমতায় আসে, দেশ আবার পিছিয়ে যাবে। তিনি এ বক্তব্যে দেশের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশের গুরুত্ব তুলে ধরেন। র্যালি আজ বিকেলে অনুষ্ঠিত হয়, উপস্থিত ভক্ত ও সমর্থকরা উচ্ছ্বাসে চিৎকার করে।
ফখরুল ১৫ বছরব্যাপী গণআন্দোলনের কথা স্মরণ করিয়ে দেন, যার ফলে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন সম্ভব হয়েছে। এই সময়ে ৬০ লক্ষ নেতা ও কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের, ২০ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, ১,৭০০ জন নিখোঁজ হয়েছেন। জুলাই বিদ্রোহে প্রায় দুই হাজার ছাত্র ও নাগরিকের প্রাণ ত্যাগ করতে হয়েছে।
এই ঐতিহাসিক সংগ্রামের পরেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, তাই ফখরুল বলেন, এই নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে গণ্য করা উচিত। যদি এই ভোটে সঠিক সরকার গঠন না হয়, তবে আবার ভুল পথে অগ্রসর হতে হবে। এজন্য ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সঠিক তথ্যের প্রচার জরুরি।
গত ১৫-১৬ বছর ধরে দেশটি গভীর কষ্টের মধ্যে রয়েছে। কিছু ব্যক্তি ব্যাংক থেকে টাকা খালি করে, বিদেশে পালিয়ে গিয়ে পরে ব্যবসা ও বাড়ি নির্মাণে লিপ্ত হয়েছেন। এ ধরনের অর্থনৈতিক শূন্যতা দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করেছে। এই অর্থনৈতিক শূন্যতা দেশের সামাজিক কাঠামোকে দুর্বল করেছে।
ফখরুলের মতে, বাংলাদেশকে পুনর্গঠন করতে হলে সংঘর্ষ এড়িয়ে সঠিক প্রার্থীর জন্য ভোট দিতে হবে, যাতে সংসদে সত্যিকারের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সঠিক নেতৃত্বই দেশের পুনরুদ্ধারের মূল চাবিকাঠি। সঠিক সরকার গঠন না হলে দারিদ্র্য ও বেকারত্বের সমস্যা আরও বাড়বে।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উল্লেখে পরিবার কার্ড ও কৃষক কার্ডের সুবিধা প্রদান, এবং ১৮ মাসের মধ্যে শিক্ষিত বেকার যুবকদের জন্য এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। এই নীতি গুলো দেশের মানবসম্পদকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করবে। পরিবার ও কৃষক কার্ডের মাধ্যমে গ্রামীণ ও নগর গৃহস্থালির আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।
ফখরুল জোর দেন, এসব প্রতিশ্রুতি কেবল কথার খেলা নয়; বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখা হবে। তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। শাসনকালে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিএনপি সকল ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক ঐক্য গড়ে তোলার লক্ষ্য রাখবে। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানদের মধ্যে সহাবস্থান নিশ্চিত করে, সাম্প্রদায়িকতা দূর করার জন্য অ-কমিউনাল রাজনীতির নীতি প্রয়োগ করা হবে। ফখরুল বলেন, ধর্মীয় বিভাজন সম্পূর্ণভাবে নির্মূল হবে। এই ধরনের নীতি জাতীয় ঐক্য ও সামাজিক শান্তি বজায় রাখতে সহায়ক হবে।
ধর্মীয় স্বাধীনতা ও পেশা অনুসরণের অধিকার রক্ষা করা হবে, রাষ্ট্র সকলের জন্য সমান হবে। কোনো ব্যক্তি তার ধর্মের ভিত্তিতে হেনস্থা বা মামলা ভোগ করবে না, কারণ রাষ্ট্রের মালিকানা সবার। এভাবে ধর্মীয় বৈচিত্র্যকে সম্মান করে সমন্বিত উন্নয়ন সম্ভব হবে।
অবশেষে ফখরুল উল্লেখ করেন, লক্ষ্য হল কোনো সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছাড়া শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গঠন করা, যেখানে প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত হবে। এজন্য ভোটের মাধ্যমে সঠিক নেতৃত্ব নির্বাচন করা দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার একমাত্র পথ।



