21 C
Dhaka
Saturday, January 31, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধবান্দরবানে শিশুরা পেল লুট হওয়া গ্যাস গ্রেনেড, পুলিশে হস্তান্তর

বান্দরবানে শিশুরা পেল লুট হওয়া গ্যাস গ্রেনেড, পুলিশে হস্তান্তর

শনিবার সকালের দিকে বান্দরবান পৌরসভার কাসেম পাড়া এলাকায় একটি ছোট ঝিরির পাশে দুইটি গ্যাস গ্রেনেড পাওয়া যায়। স্থানীয় কয়েকজন শিশুরা খেলতে গিয়ে পলিথিনে মোড়ানো অজানা বস্তু লক্ষ্য করে, তা খুলে দুটো গোলাকার বস্তু পায়। পরে তারা সেগুলো কাছাকাছি টহলরত পুলিশকে হস্তান্তর করে।

ঝিরির পাশে অবহেলিত অবস্থায় পলিথিনে মোড়ানো এই বস্তুগুলো প্রথমে শিশুদের কাছে অস্বাভাবিক দেখায়। কৌতুহলবশত পলিথিন খুলে তারা দেখতে পায় যে, এতে দুটি ছোট, গোলাকার ধাতব বস্তুর মতো কিছু রয়েছে, যা পরে গ্যাস গ্রেনেড হিসেবে চিহ্নিত হয়।

বাচ্চাদের নাম তনিম ও তানভি। তারা জানায়, খেলতে গিয়ে নর্দমার উপরে পলিথিনে মোড়ানো কিছু দেখতে পেয়ে তা খুলে দেখার পর দুইটি গ্রেনেড পায়। গ্রেনেডগুলোকে নিরাপদ মনে না করে তারা সরাসরি নিকটস্থ বাস স্টেশন এলাকায় টহলরত পুলিশকে জানায়।

পুলিশের সুপারইন্টেনডেন্ট মো. আবদুর রহমান জানান, গ্রেনেডগুলো মূলত পুলিশ ‘মব’ ছত্রভঙ্গের জন্য ব্যবহার করা হতো। তবে ৫ আগস্টের পর বান্দরবান থানা কোনো ঘটনার শিকার হয়নি, তাই এই গ্রেনেডগুলো স্থানীয় পুলিশ সরঞ্জাম নয় বলে অনুমান করা হচ্ছে।

আবদুর রহমানের মতে, এই দুইটি গ্যাস গ্রেনেড অন্য জেলা থেকে চুরি হয়ে লুট হওয়া সম্ভাবনা বেশি। তিনি উল্লেখ করেন, গ্রেনেডের উৎপত্তি ও চুরি হওয়ার প্রক্রিয়া তদন্তের অধীনে রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

গ্রেনেডের ধরন ও অবস্থা যাচাই করার জন্য ফরেনসিক দলকে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, এগুলো পুরনো মডেলের গ্যাস গ্রেনেড, যা সাধারণত ভিড় নিয়ন্ত্রণের কাজে ব্যবহার করা হতো। বর্তমানে সেগুলো নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।

আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, অবৈধভাবে সঞ্চিত বা লুট হওয়া বিস্ফোরক পদার্থের মালিকানা ও ব্যবহার বাংলাদেশ আইন অনুযায়ী অপরাধ। তাই এই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে।

পুলিশ ইতিমধ্যে একটি মামলা দায়ের করে, এবং গ্রেনেডের মূল মালিকানা ও চুরি হওয়ার পেছনের নেটওয়ার্ক উন্মোচনের জন্য তদন্ত চালু করেছে। স্থানীয় প্রশাসনও নিরাপত্তা বাড়াতে এবং অনধিকৃত বিস্ফোরক পদার্থের সংরক্ষণে সতর্কতা বাড়াতে নির্দেশ দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এই ধরনের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ দেখা গেছে। তবে পুলিশ নিশ্চিত করেছে, গ্রেনেডগুলো দ্রুত নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে এবং কোনো নিরাপত্তা হুমকি তৈরি হয়নি। ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে গ্রামাঞ্চলে বিস্ফোরক পদার্থের সঠিক সংরক্ষণ ও ব্যবহারের ওপর কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হবে।

আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে, এই ঘটনা কোনো রাজনৈতিক প্রভাব ফেলবে না বলে পুলিশ স্পষ্ট করে বলেছে। তারা জোর দিয়ে বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের প্রধান দায়িত্ব, এবং এই ধরনের অপরাধমূলক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা থাকবে।

বছরের শেষের দিকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত সচেতনতা বাড়াতে, স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটি সেন্টারগুলোকে বিস্ফোরক পদার্থের ঝুঁকি ও সঠিক হ্যান্ডলিং সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ভবিষ্যতে শিশুরা এমন বিপজ্জনক বস্তুতে হাত না দেওয়ার সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে।

সংক্ষেপে, বান্দরবানের কাসেম পাড়া এলাকায় শিশুরা যে দুইটি গ্যাস গ্রেনেড খুঁজে পেয়েছে, তা দ্রুত পুলিশ হাতে পড়ে এবং তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments